বিশ্বের জানা-অজানা সব বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে লিখতে আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন।

কার্টুন কন্সপিরেসিস

কার্টুন! এমন একটা শব্দ যেটা শুনলে পৃথিবীর হাজার হাজার শিশুর মুখের হাসি চওড়া হয়ে যায়। ছোটবেলাতে আমরা সবাই কার্টুন দেখেছি, অনেকে বড় হয়েও দেখি। কার্টুন বলতে সাধারনত কোনো অ্যানিমেটেড টিভিশোকে বুঝানো হয়। ছোটদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও কার্টুন তৈরী হয়।
ছোটবেলাতে আপনি কেন কার্টুন দেখতেন? সময় কাটানো জন্য? মজা পাওয়ার জন্য?
এইসব কারণেই কিন্তু মানুষ কার্টুন দেখে। তবে ব্যাপারটা হলো, ছোটবেলাতে আপনি যে দৃষ্টিতে কার্টুনগুলো দেখেছেন সেগুলোর অর্থ কি আসলেই অমন? কার্টুনগুলো কি আসলেই এতোটাই সহজ-সরল?
আর এখানেই কন্সপিরেসি থিওরিগুলো এসে যায়। এই থিওরিগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলোকে শেষ করে দিতে পারে! প্রিয় কার্টুনগুলোর এমন এক ভয়াবহ রূপ হাজির করবে এরা আপনার সামনে যেগুলো দেখে আপনি একেবারেই স্তব্ধ হয়ে যেতে বাধ্য!
তবে দিনের শেষে এগুলো শুধু কন্সপিরেসি থিওরিই। এগুলোর কোনোটার সত্যতাই নিশ্চিত করা যায় না।  আর কার্টুনগুলো যারা বানিয়েছেন তাঁরাও এগুলো নিয়ে কখনোই কিছু বলেন না। তারপরেও একটা খটকা থেকেই যায়। এখানেই কন্সপিরেসি থিওরিগুলোর সফলতা। এরা আপনাকে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
এই লেখাতে অতি জনপ্রিয় কিছু কার্টুন নিয়ে প্রচলিত কিছু কন্সপিরেসি থিওরি নিয়ে আলোচনা করা হবে। যাদের কাছে নিজের ছোটবেলায় দেখা কার্টুনগুলোর স্মৃতি অসামান্য মূল্য রাখে তাঁরা দয়া করে এই লেখাটি পড়বেন না।

স্কুবি ডু


প্রথমেই বলবো ‘স্কুবি ডু’(scooby Doo) এর কথা। ১৯৬৯ সালে শুরু হওয়া এই কার্টুন সিরিজটি গোটা পৃথিবীতে অসম্ভব জনপ্রিয়। এই সিরিজ অবলম্বনে হলিউডে চলচিত্র নির্মিত হয়েছে একাধিক।
এখানে দেখা যায় পাঁচজনের একটি দল নানা রকমের ভৌতিক রহস্যের সমাধান করছে। এই দলের মধ্যমনি হলো স্কুবি নামের কুকুরটি। দলের শ্যাগি রজার্স নামের ছেলেটি এই কুকুরটির মালিক। এছাড়াও দলে রয়েছে আরেকজন পুরুষ যার নাম ফ্রেড। নারী সদস্য দুজনের নাম হলো ভেলমা আর ড্যাফনে।
প্রতিটি পর্বের শুরুতেই দেখানো হয় যে এই দলের সদস্যরা তাদের ভ্যানে করে একটি নতুন জায়গায় যায় এবং সেখানের কোনো ভূতুড়ে রহস্যে জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তের প্রায় সব কাজই করে ভেলমা নামের মেয়েটি। দলনেতা ফ্রেডকে কখনো তেমন কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়না, ড্যাফনেও অনেকটা সেরকই। স্কুবি আর শ্যাগি দৌড়াদৌড়ি আর লাফঝাপ দিয়েই পুরো পর্ব পার করে। তাদের মাঝে মধ্যেই বুভুক্ষের মতো খেতে দেখা যায়।
এই শো এর সবচাইতে আজব ব্যাপার হলো, বেশীরভাগ সময়েই স্কুবি কথা বলে! একটা কুকুর কিভাবে কথা বলতে পারে? আর সব পর্বেই শ্যাগিকে দেখলে কেমন যেনো ক্লান্ত আর নেশাগ্রস্থের মতো লাগে।
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, শ্যাগি বড়লোকের বখে যাওয়া মাদকাসক্ত সন্তান। তার স্কুলের বন্ধু ফ্রেড তাকে ব্যাঙ্গ করে কারণ সে শারীরিক ভাবে দূর্বল, মেধাবী বান্ধবী ভেলমা তার সাথে কথা বলে না কারণ সে বোকা আর সুন্দরী বান্ধবী ড্যাফনে তার প্রেমের প্রস্তাব প্রতাখ্যান করেছে কারণ সে একজন মাদকাসক্ত।
স্কুবি? শ্যাগির কুকুর স্কুবি অনেক আগেই মারা গেছে!
শ্যাগি নিজের ব্যার্থতা ভুলে থাকতে এই অভিযানগুলো কল্পনা করে। গোটা পৃথিবীতে একমাত্র স্কুবিকেই তার কাছে আপন মনে হতো তাই সে নিজের কল্পিত দলের মধ্যমনি করেছে স্কুবিকে। ফ্রেড আর ড্যাফনেকে সে একদম গর্দভ হিসাবে দেখিয়েছে কারণ তাদের প্রতি তার কোনোই শ্রদ্ধাবোধ নেই। তবে ভেলমার প্রতি রাগ থাকলেও তার মেধাকে মনে মনে সম্মান করে সে, তাই প্রতিটি রহস্যের সমাধান ভেলমাই করে। নিজেকে কল্পনাতেও অপদার্থ আর অকর্মা হিসাবে দেখতেই পছন্দ করে সে।
অবাক লাগছে? আচ্ছা আরেক কুকুরের কাহিনী শুনুন তাহলে।

কারেজ দ্য কাওয়ার্ডলি ডগ


স্কুবির পরে জনপ্রিয়তার বিচারে যদি কোনো কুকুর কার্টুন চরিত্রের নাম আসে তবে সেটা হলো ‘কারেজ’। কার্টুন নেটওয়ার্কের জনপ্রিয় টিভিশো ‘কারেজ দ্য কাওয়ার্ডলি ডগ’(Courage The cowardly Dog) এর প্রধান চরিত্র হলো এই কুকুরটি। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হয় এই জনপ্রিয় কার্টুনটি।
মিউরিয়াল এবং ইউসটেস দম্পত্তির কুকুর হলো কারেজ। মিউরিয়াল কারেজকে সবসময় আদর করলেও তাঁর স্বামী ইউসটেস, কারেজকে দুচোখে দেখতে পারেনা। এই দম্পত্তির সাথে একটি পুরনো বাড়িতে বাস করে কারেজ। বাড়িটির আশেপাশে বহুদূর পর্যন্ত কিছুই নেই, না আছে কোনো গাছপালা, না আছে কোনো বাড়িঘর!
প্রতিটি পর্বেই কারেজ তার মালিক এবং মালকিনকে অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করে। এই কার্টুনের খারাপ চরিত্রগুলো হরেক রকমের। কখনো ভূত-প্রেত, কখনো বা কোনো সাইকো কিংবা কখনো এলিয়েন!
এই কার্টুনটির খারাপ চরিত্রগুলো এতটাই অদ্ভুত আর ভীতিকর যে এর দুইটি পর্ব এখনো ইউরোপে নিষিদ্ধ।  আর স্কুবির মতো কারেজকেও কথা বলতে দেখা যায় মাঝে মাঝে!
এই কার্টুন নিয়ে কন্সপিরেসির শুরুটা হয় এর প্রথম সিজনের শেষ পর্ব থেকে। পর্বটির শেষে দেখা যায় ইউসটেস আর মিউরিয়াল দুজনের দেহ নিথর অবস্থায় চেয়ারে বসে আছে আর কারেজ ওপর থেকে  সুতো দিয়ে তাদের চালিত করছে, যেমন ভাবে পাপেটদের চালিত করা হয় পুতুল নাচের সময়!

কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, ইউসটেস আর মিউরিয়াল বহু আগেই মারা গেছে। তাদের অদ্ভুত বাড়িটি হলো তাদের কবরস্থান! তাদের কুকুর কারেজ এই কবরস্থানেই থাকে এবং মন থেকে সে কখনো তার মালিক আর মালকিনের মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি। যে ঘটনাগুলো দেখানো হয়েছে সেগুলো আসলে কারেজের কল্পনা। সে প্রতিদিন এমন সব ঘটনা কল্পনা করে যেখানে নানা অশুভ শক্তি ইউসটেস আর মিউরিয়ালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে কিন্তু তার কারণে কিছু করতে পারেনা।
আরেকটি কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে আসলে মিউরিয়াল আর ইউসটেসের বাড়িটি হলো নরকের একটি প্রতিরূপ। কারেজ হলো গ্রীক মিথের সেই কুকুর ‘সারবেরাস’ যে নরকের দরজার প্রহরী। মিউরিয়াল প্রতিনিধিত্ব করে মানব জাতির। খল চরিত্রগুলো হলো সেইসব প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেগুলো মানুষকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়। আর ইউসটেস হলো হেডিস, যে ক্রুরতার প্রতীক এবং একই সাথে নরকের অধিপতি।

 

তথ্যসূত্র

১.http://flavorwire.com/411106/15-more-bizarre-kiddie-cartoon-conspiracy-theories

২.https://www.youtube.com/watch?v=KGrxItOEg6Y

৩.https://www.pinterest.com/explore/cartoon-theories/

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here