বিশ্বের জানা-অজানা সব বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে লিখতে আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন।

কার্টুন কন্সপিরেসিস

ফিনিয়াস অ্যান্ড ফার্ব


‘ফিনিয়াস অ্যান্ড ফার্ব’(Phinease and Ferb) কার্টুনটিকে অনেকে ডেক্সটার’স ল্যাবরেটরি থেকেই অনুপ্রানিত মনে করেন।
২০০৭ সালে ‘টুন ডিজনি’ তে শুরু হওয়া এই কার্টুনটিতে দুই সৎ ভাই ফিনিয়াস এবং ফার্বের কাহিনী বলা হয় যাদের স্কুলে গ্রীষ্মকালের ছুটি চলছে। প্রতিদিন তারা নিজেদের বাড়ির পিছনের উঠানে অদ্ভুত সব জিনিসপত্র বানায়, সেগুলো দিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কাজ করে। এইসব কাজে তাদের সাথে থাকে তাদের স্কুলের কয়েকজন বন্ধু।
ফিনিয়াসের আপন বড় বোন হলো ক্যানডিস, যে প্রতিদিনই চেষ্টা করে তাদের বানানো এই জিনিসগুলো তাদের মাকে দেখিয়ে তাদের বকুনি খাওয়াতে কিন্তু প্রতিদিনই কোনোভাবে তাদের মা আসার আগেই জিনিসগুলো গায়েব হয়ে যায়!

 

এইখানে আরেক ধরনের ভূমিকা পালন করে বদ চরিত্রের পাগলাটে বিজ্ঞানী ড. হেইঞ্জ ডুফেন্সবার্গ আর সিক্রেট এজেন্ট পেরি দ্য প্ল্যাটিপাস। তাদের উদ্ভট লড়াইয়ের কারণেই মূলত ফিনিয়াস আর ফার্বের কাজগুলো গায়েব হয়ে যায়!
এই কার্টুনে সবচাইতে অদ্ভুত বিষয় হলো, তারা এতো কিছু বানালেও সময় মতোই সবকিছু গায়েব হয়ে যায় আর তাদের এইসব আবিষ্কারের কারণে কেউ কখনো আঘাতও পায়না, দুর্ঘটনাও ঘটেনা!
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, ফিনিয়াস, ফার্ব আর তাদের বন্ধুরা সবাই মানসিক ভাবে অসুস্থ। ফিনিয়াসের বোন ক্যানডিসেরও একই সমস্যা। তারা যেখানে থাকে সেটা আসলে তাদের বাড়ি নয়। সেটা ছোট বাচ্চাদের চিকিৎসা কেন্দ্র।
ফিনিয়াস আর ফার্ব প্রতিদিন যেগুলো বানায় সেগুলো আসলে তারা বাচ্চাদের খেলনা দিয়েই বানায়, এজন্যই কেউ আঘাত পায়না। জিনিসগুলো সময়মতো হারিয়ে যায় কারণ ওখানে বাচ্চাদের খেলার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে ওই সময়ের পরেই চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মচারীরা সেগুলো নিয়ে যায়।
তাদের মা ওইখানে থাকেন না। ক্যানডিস তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে চায় আর সেজন্যই সে কল্পনা করে যে প্রতিদিনই তার মা তাদের দেখতে আসছেন! ফার্বের বাবাকে পছন্দ করেনা ক্যানডিস তাই সে এটাও কল্পনা করে যে হয়তো ফার্বের বাবা ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে তার মাকে বিয়ে করেছেন। এই কথাগুলো যখন সে ফিনিয়াসকে বলে তখন ফিনিয়াস হাসিমুখেই সব মেনে নেয় আর ফার্বকে নিজের সৎ ভাই বলে পরিচয় দিতে থাকে!  আসলে তারা সৎ ভাই না!
পেরি দ্য প্লাটিপাস হলো তাদের ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের একটা কুকুর যাকে আদর করে কর্মচারীরা সবাই ‘প্লাটিপাস পেরি’ বলে ডাকে আর ডা. হেইঞ্জ ডুফেন্সবার্গ হলেন সেই চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিচালক যাকে বাচ্চারা কেউ পছন্দ করেনা। এজন্যই তিনি কাহিনীগুলোতে খল চরিত্রে থাকেন।

স্পাঞ্জবব স্কোয়ারপ্যান্টস


আচ্ছা, সমুদ্রের নীচে একটা আনারসের মতো দেখতে বাড়িতে কি বসবাস করা সম্ভব? হ্যা আমি বলছি স্পাঞ্জববের কথা। স্পাঞ্জবব হলো ‘নিকোলোডিয়ন’ চ্যালেনের সবচাইতে জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড শো ‘স্পাঞ্জবব স্কোয়ারপ্যান্টস’(SpongeBob SquarePants) এর প্রধান চরিত্র। ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এই কার্টুনটি এখনো অনেক জনপ্রিয়।
সমুদ্রের নীচে ‘বিকিনি বটম’ নামে একটি জায়গায় স্পাঞ্জবব আর বন্ধুরা সবাই বসবাস করে। সেখানে তাদের জীবনে ঘটে যায় নানা রকমের মজার মজার ঘটনা। আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে যে এটি একটি নির্দোষ কমেডি অ্যানিমেটেড শো।
কিন্তু এইখানে অদ্ভুত কিছু ব্যাপার স্যাপার আছে। এইখানে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করতে দেখা যায় চরিত্রগুলোকে কিন্তু পানি নীচে কিভাবে আগুন জ্বালানো সম্ভব? এইখানের কিছু চরিত্র সবসময় নেশাগ্রস্থের মতো আচরণ করে। আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো ‘স্যান্ডি’ নামে একটি মেয়ে কাঠবিড়ালী চরিত্র আছে এখানে, যে সবসময় স্পেসস্যুট পরে থাকে।

 

কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, স্যান্ডি বাদে এরা সবাই মিউট্যান্ট যাদের জন্ম একটি তেজক্রিয় রাসায়নিক পরীক্ষণের ফলে হয়েছিলো। স্যান্ডি ছিলো সেই পরীক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বিজ্ঞানী তাই সে মাঝে মাঝেই তাদেরকে দেখতে চায়। তেজস্ক্রিয়তা থেকে বাঁচার জন্য সে স্পেসস্যুট পড়ে।
সত্য বলতে কি ‘বিকিনি অ্যাটল’ নামে একটি প্রবালদ্বীপ আছে যেখানে চল্লিশ আর পঞ্চাশের দশকের দিকে নানারকম পারমানবিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হতো। আর এই বিকিনি অ্যাটলের নীচের এলাকাকেই বলে বিকিনি বটম! তাই ব্যাপারটা আসলেই রহস্যময়।

এড, এড এন এডি


এই ধরনের আরেকটি রহস্যময় টিভিশো ছিলো কার্টুন নেটওয়ার্কের ‘এড, এড এন এডি’(Ed, Edd n Eddy)। ১৯৯৯ সালে কার্টুন নেটওয়ার্ক এই কার্টুনটির সম্প্রচার শুরু করে।
তিন বন্ধু আর তাদের মজার কিছু বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এইখানে কাহিনী এগিয়ে চলে। প্রতিটি এপিসোডেই দেখা যায় যে তারা অদ্ভুত সব কাজ করছে, যেসবের কোনো অর্থই নেই!
এই কার্টুনের সবচাইতে আজব ব্যাপারটা হলো পুরো কার্টুনে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক চরিত্র নেই! এখানে সবাই কিশোর আর শিশু। সবার জিহবার রঙ নীল, আর এইখানে গ্রীষ্মকাল কখনো শেষ হয়না!

 

কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, তিনজন মূল চরিত্র এবং তাদের বন্ধুরা আসলে মৃত। তারা যে অদ্ভুত শহরে বাস করে সেটা আসলে নরকের একটা অংশ, যেখানে সবসময়ই গ্রীষ্মকাল থাকে। তাদের বয়স সেখানেই থেমে গেছে যে বয়সে তারা মারা গেছিল।
তাদের নীল জিহবার ব্যাপারটা? মানুষের জিহবা কিন্তু মারা যাওয়ার পর আস্তে আস্তে নীল হতে শুরু করে!
এখানকার সব চরিত্র আলাদা আলাদা সময়ে মারা গেছে। আর মারা যাওয়ার পরেই তারা এখানে এসেছে। কিন্তু মন থেকে কখনো তারা মেনে নেয়নি যে তারা আসলে মারা গেছে। এজন্যই তারা সবসময় আনন্দ-ফূর্তির মধ্যে থাকে যাতে করে বিষন্নতা না আসে। এজন্যই এখানের কোনো চরিত্রকেই বিষন্ন হতে দেখা যায় না!

বেন টেন


বেন টেনিসন! বর্তমানের হাজার হাজার শিশু কিশোরের স্বপ্নের নায়ক। ২০০৫ সাল থেকে কার্টুন নেটওয়ার্কে শুরু হওয়া সিরিজ ‘বেন টেন’(Ben 10) এর প্রধান চরিত্র সে।
গ্রীষ্মের ছুটিতে দাদু আর চাচাতো বোন ‘গোয়েন’ এর সাথে ভ্রমণে বের হয়েছিলো সে। তারপর ঘটনাক্রমে সেই বিখ্যাত অমনিট্রিক্সটা পেয়ে গেলো যেটার সাহায্যে সে দশজন এলিয়েনের রূপ ধরতে পারে। ধীরে ধীরে সংখ্যাটা আরো বেড়ে যায় পরে যদিও।
বেন সব এলিয়েনকে পরাজিত করে, কেউই তার সামনে দাড়াতে পারেনা। এভাবেই শিশুদের সামনে বেন হয়ে উঠেছে একজন আদর্শ নায়ক।
কিন্তু আসলেই কি ব্যাপারটা এমন?
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, বেনের দাদুর ভ্যান একটা মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় যার ফলে মারাত্মক ভাবে আহত হয় বেন। সে কোমাতে চলে যায়, পরে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয় তাকে।

 

কোমাতে থাকাকালীন সময়ে বেন স্বপ্নের মধ্যে তার অভিযানগুলো কল্পনা করছে। বাস্তবে আসলে এসব কিছুই হয়না!
তো এই ছিলো বিখ্যাত কিছু কার্টুন নিয়ে প্রচলিত বিখ্যাত কিছু কন্সপিরেসি থিওরি। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে এইসব কন্সপিরেসি থিওরিগুলো কেনো এসেছে? মানে কোন জিনিসটা মানুষকে এভাবে ভাবতে বাধ্য করে?
কার্টুন আর কমিক্স নিয়ে প্রচলিত কন্সপিরেসি থিওরিগুলোর প্রধান অনুপ্রেরনা হলো ১৮৬৫ সালে লুইস ক্যারোলের লেখা শিশুতোষ নভেল ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’।
নভেলের শেষে দেখা যায় যে অ্যালিসের ওয়ান্ডারল্যান্ডের উদ্ভট অভিযান শুধু একটা স্বপ্নই ছিলো, আর কিছুনা! এই জিনিসটা অনেককে ভাবায়। যে আপনি কোনো জিনিস যেভাবে ভাবছেন, ব্যাপারটা কি আসলেই তেমন?
আর লুইস ক্যারোল নামটি আসলে একটি ছদ্মনাম। এই বইয়ের আসল লেখক ছিলেন ইংরেজ গণিতবিদ চার্লস ডডসন। এই ভদ্রলোক এই নভেল দিয়ে আসলে কি বুঝাতে চেয়েছিলেন সেই নিয়ে হাজার হাজার থিওরি প্রচলিত আছে। সেগুলো নিয়ে বলতে আরো কয়েক হাজার পাতা লিখতে হবে।
যাইহোক, এই পৃথিবী আসলেই অনেক বেশী রহস্যময়। আমরা কোনো জিনিস যেভাবে দেখি, জিনিসটা আসলে কিন্তু তেমন নাও হতে পারে।
কন্সপিরেসি থিওরিগুলো আপনাকে ভাবায়। কিছু কিছু থিওরি কিন্তু আবার সত্যও হয়েছে!
পরবর্তী সময়ে যখন আপনার প্রিয় কার্টুনগুলো দেখবেন, তখন এই  থিওরিগুলোই আপনাকে ভাবাবে।

তথ্যসূত্র

১.http://flavorwire.com/411106/15-more-bizarre-kiddie-cartoon-conspiracy-theories

২.https://www.youtube.com/watch?v=KGrxItOEg6Y

৩.https://www.pinterest.com/explore/cartoon-theories/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here