বিশ্বের জানা-অজানা সব বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে লিখতে আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন।

কার্টুন কন্সপিরেসিস

টম আর জেরি


পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় বিড়াল-ইঁদুর জুটি হলো ‘টম আর জেরি’(Tom and Jerry)। এরা কে? আসলে এই নিয়ে কিছু বলার দরকার নেই। কারণ এরা এতটাই জনপ্রিয় যে প্রায় সবাই এদের চেনে। এদের কাজকর্ম দেখে আমরা সবাই হাসিতে ফেটে পড়ি।
আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না কি ভয়ানক একটা কন্সপিরেসি থিওরি রয়েছে এই কার্টুনের পিছে।
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে টম অ্যান্ড জেরি আসলে একটা নাৎসি প্রপাগান্ডা। ১৯৪০ সালে শুরু হওয়া এই কার্টুনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌছে যায়।

আজব ব্যাপার হলো শুরুর দিকে টমের নাম ছিলো জ্যাসপার। কিন্তু পরে এটাকে বদলিয়ে টম রাখা হয়! কেন রাখা হয়? আসলে ‘টমি’ শব্দটা সেসময়ে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে একটা গালি হিসাবে ব্যাবহৃত হতো। আর টমও কিন্তু একটি ইংরেজ বিড়াল!
আর জেরি? শুনলে চমকে উঠবেন যে ‘জেরি’ শব্দটা জার্মান নাৎসি বাহিনীতে গালি হিসাবে ব্যাবহার করা হতো!
কার্টুনে জেরিকেই ভালো হিসাবে দেখানো হয়েছে আর টমকে বদ স্বভাবের!
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে জার্মানদের ভালো এবং ইংরেজদের খারাপ হিসাবে দেখানোর জন্যই এই কার্টুনটি বানানো হয়েছে!

দ্য পাওয়ারপাফ গার্লস


আবার এমন একটা কার্টুন আছে যেটা বাচ্চা মেয়েদের পছন্দের তালিকায় সবসময় শীর্ষে থাকে। আমি বলছিলাম ‘দ্য পাওয়ারপাফ গার্লস’(The Powerpuff Girls) এর কথা।
১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এই কার্টুনে দেখানো হয় যে প্রফেসর ইউটোনিয়াম নামের একজন বৈজ্ঞানিক তার গবেষনাগারে কাজ করতে করতে দুর্ঘটনাবশত সৃষ্টি করেন ‘ব্লসম’, ‘বাবলস’ আর ‘বাটারকাপ’ কে। অতিমানবীয় ক্ষমতাসম্পন্ন এই তিন বোন তাদের শহর টাউনসভিলকে একের পর খল শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে থাকে। এজন্যই তাদের পাওয়ারপাফ গার্লস বলা হয়।
তবে তিন বোনের চরিত্র অনেকটা তিন রকম। বাবলস খুবই নরম প্রকৃতির, বাটারকাপ প্রচন্ড বদরাগী এবং ব্লসম একজন আদর্শ ছোটমেয়ে বলতে যা বোঝায় তাই।কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, এরা তিনজন আলাদা কোনো ব্যাক্তি নয় বরং একজনই! একটা ছোট মেয়ে যে মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভোগে।
বাবল প্রতিনিধিত্ব করে তার চরিত্রের নরম দিকটার, বাটারকাপ রাগী দিকটার আর ব্লসম হলো একজন আদর্শ মেয়ে যেটা সে হতে চায়। প্রফেসর ইউটোনিয়াম ছিলেন এই মেয়েটার বাবা, যিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। খল চরিত্রগুলো হলো শহরের মানুষেরা, যাদের মেয়েটি কখনোই ভালো চোখে দেখেনা!
একা একা থাকতে থাকতে সেই নিজের আলাদা আলাদা ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে উদ্ভট সব অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী কল্পনা করে মেয়েটা। তার এই কল্পনা করা ঘটনাগুলোই কার্টুনের পর্ব হিসাবে দেখানো হয়।
পাওয়ারপাফ গার্লস নিয়ে আরেকটি বিখ্যাত কন্সপিরেসি থিওরি রয়েছে তবে সেটা বুঝতে হলে আপনাকে আরেকটি জনপ্রিয় কার্টুন ‘সামুরাই জ্যাক’(Samurai Jack) সম্পর্কেও জানতে হবে।

সামুরাই জ্যাক


২০০১ সাল থেকে কার্টুন নেটওয়ার্কে প্রচার শুরু হয় সামুরাই জ্যাকের। তবে এটি আসলে বানানো হয়েছিলো আরেকটি চ্যানেল ‘অ্যাডাল্ট সুইম’ এর জন্য। পরে এর কিছু অংশ সেন্সরড করে দিয়ে এটি কার্টুন নেটওয়ার্কের উপযোগী করা হয়।এখানে দেখা যায় যে শয়তান ডিমন ‘আকু’র বিরুদ্ধে একাই তলোয়ার নিয়ে রুখে দাঁড়ায় জ্যাক নামের একজন অকুতোভয় সামুরাই। কিন্তু আকু নিজের জাদুশক্তি প্রয়োগ করে জ্যাককে ভবিষ্যতে পাঠিয়ে দেয়।

ভবিষ্যতে এসেও জ্যাক প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যায় নানা অতিপ্রাকৃত শক্তির বিরুদ্ধে এবং একই সাথে চেষ্টা করে অতীতে ফিরে যেতে।
অদ্ভুত ব্যাপারটা কি জানেন? যারা যারাই পাওয়ারপাফ গার্লস এবং সামুরাই জ্যাক দুটো শো দেখেছেন তারাই হয়তো খেয়াল করেছেন যে প্রফেসর ইউটোনিয়ামের সাথে জ্যাকের চেহারার অস্বাভাবিক মিল রয়েছে!
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, প্রফেসর ইউটোনিয়াম আর সামুরাই জ্যাক আসলে একই ব্যাক্তি! আকু নিজের জাদুশক্তিতে জ্যাককে এমন কোনো সময়ে পাঠিয়ে দিয়েছে যেখানে সে ‘ইউটোনিয়াম’ নাম নিয়েছে এবং পাওয়ারপাফ গার্লসদের সৃষ্টি করেছে। এই থিওরি আরো বলে, যেসব দানবের মোকাবিলা পাওয়ারপাফ গার্লস করে তারা আসলে আকুরই পাঠানো!

ডেক্সটার’স ল্যাবরেটরি


ডেক্সটারের কথা মনে আছে? মানে ডেক্সটার বলতে বাচ্চারা যাকে বুঝে। আমি বলছি ‘ডেক্সটার’স ল্যাবরেটরি’(Dexters Laboratory) কার্টুনের প্রধান চরিত্র ডেক্সটারের কথা।
১৯৯৬ সালে কার্টুন নেটওয়ার্কে শুরু হওয়া কার্টুনে ডেক্সটার নামে একজন অতিরিক্ত মেধাবী ছেলের দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা দেখানো হয়। বাড়ির নীচে ডেক্সটারের একটা গোপন গবেষনাগার আছে। যেখানে সে নানা রকমের পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে, অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিস বানায়।
তার মা-বাবা এই ল্যাবরেটরির কথা জানেন না! জানে শুধু তার বড়বোন ‘ডিডি’ যে নানা ভাবে ডেক্সটারকে জ্বালাতন করে এবং তার কাজের ব্যাঘাত ঘটায়।

এই কার্টুনের একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ডেক্সটারের ল্যাবে জিনিসপত্রের কোনো অভাব নেই, সেখানে পৃথিবীর সব কিছুই পাওয়া যায়। আরেকটা জিনিস সবারই চোখে পড়ে যে, ডেক্সটার ছাড়া এই কার্টুনের আর কারো ব্যাবহারই স্বাভাবিক নয়, সবাই কেমন যেনো উদ্ভট আচরণ করে, এমনি বড় মানুষেরাও।
কন্সপিরেসি থিওরি বলে যে, ডেক্সটার অ্যাসপারগারস সিনড্রোম নামের একটি অদ্ভুত মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। আসলে তার কোনো ল্যাবরেটরি নেই, ল্যাবরেটরি আর অদ্ভুত কাজগুলো সবই তার কল্পনা।
বাকি চরিত্রগুলোর পাগলাটে ব্যাবহারের কারণও এইটাই যে অ্যাসপারগারস সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা মানুষের সাথে মিশতে পারেনা এবং তাদের দৃষ্টিতে তারা নিজেরা ছাড়া বাকি সবাইকেই পাগল মনে হয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here