বিশ্বের জানা-অজানা সব বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে লিখতে আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন।


ভদ্রলোকের খেলা হিসাবে পরিচিত ক্রিকেট হচ্ছে অনিশ্চয়তার খেলা। বড় বড় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও এই খেলার সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতে পারে না যে কার পর কি হবে। শুধুমাত্র একটা ভুল যেমন- একটি নো বল, একটি ওয়াইড বল,একটি ভুল শট কিনবা একটি মিসফিল্ডিং খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আধুনিক বোলার ও ব্যাটসম্যান
মডার্ন ক্রিকেটারস
নো-বলকে ক্রিকেটের বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞরা অপরাধ হিসাবে গণনা করে। কারণ নো-বল খালি ব্যাটিং টিমকে অতিরিক্ত রানই দেয় না , বোলারকে সেই ডেলিভারিটা পুনরায় করতে হয়। আবার নো-বলে কোন ব্যাটসম্যান আউট হতেও পারবে না। এখন তো আবার নো-বলে ফ্রী হিট চালু করা হয়েছে।
ওয়াইড বলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একই কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ওয়াইড বলে ব্যাটসম্যানকে আউট করা সম্ভব।
স্টেইন,আখতার এবং ওয়ার্ন
আধুনিক সময়ের ক্রিকেটে বোলারদেরকে আমরা প্রায় নো-বল কিংবা ওয়াইড বল করতে দেখি। তবে ক্রিকেটের ইতিহাসে অনবদ‍্য নিয়ন্ত্রনের কিছু বোলার রয়েছেন। এখন আমরা সেই দশ জন কিংবদন্তি পারফেক্টশনিস্টকে দেখে নি,যারা নিজেদের ক্যারিয়ারে কখনোও ওয়াইড বল করেন নি।

 

১. স্যার রিচার্ড হ্যাডলি (নিউজিল্যান্ড)

স্যার রিচার্ড হ্যাডলি (source: cricketaddictor.com )
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। ফাস্ট বোলার এবং গুরুত্বপূর্ণ লোওয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে হ্যাডলির ক্যারিয়ার ছিল দুর্দান্ত। হ্যাডলি নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১৭ বছর খেলেছিলেন। এই সময়ে তিনি ৮৬ টি ম্যাচ ও ১১৫ টি ওয়ানডে খেলেছিলেন। টেস্ট ম্যাচে তার বল সংখ্যা হলো ২১৯১৮ টি এবং ওয়ানডেতে বল সংখ্যা ৬১৮২ টি এর মধ্যে একটিও ওয়াইড বল নাই। ভাবা যায় , বোলিং এর তাঁর নিয়ন্ত্রণ কোন পর্যায়ের ছিল।

 

২. স্যার গ্যারি সোবারস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

স্যার গ্যারি সোবারস (source: cricketaddictor.com )
ওয়েস্ট ইন্ডিজ হচ্ছে পৃথিবীর সব চেয়ে বিপদজনক ও ভয়ংকর বোলাদের জন্মভূমি। তাদের সম্বন্ধে কথা বলতে গেলে গ্যারি সোবারস নামটা তালিকার সামনে থাকবে। গ্যারি সোবারস এর ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশক লম্বা। অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে তিনি সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। তিনি তার ক্যারিয়ারে ৯৩ টি টেস্ট ম্যাচে ২১৫৯৯ টি বল করেছিলেন তার মধ্যে আশ্চর্যজনক ভাবে একটিও ওয়াইড বল ছিলো না। তার ব্যাটিংয়ের কথা নাই বলি, এক কথায় তিনি হলেন সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার তালিকার একজন অন্যতম সদস্য।

 

৩. স্যার ইয়ান বোথাম (ইংল্যান্ড)

স্যার ইয়ান বোথাম (source: cricketaddictor.com )
যখনই আমরা দুর্দান্ত ইংলিশ ক্রিকেটার নিয়ে কথা বলি, প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইয়ান বোথামের নাম তালিকায় উপস্থিত থাকবেই। তাঁর ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসে যে ভূমিকা আছে তা মোটেও ভুলা সম্ভব নয়। তিনি ১০২ টি টেস্ট ম্যাচে ২১৮১৫ টি বল করেছিলেন এবং ১১৬ টি ওয়ানডেতে ৬২৭১টি বল করেছিলেন । এতগুলা বলের মধ্যে একটিও ওয়াইড বল ছিল না। আর তার ব্যাটিং সম্পর্কে একটি কোথায় বলি, নাম্বার ৬-৭ নেমে ১৪ টি সেঞ্চুরি।

 

৪. ক্লারি গ্রিমেট (অস্ট্রেলিয়া)

ক্লারি গ্রিমেট (source: cricketaddictor.com )
আউট্রেলিয়ার প্রাক্তন অভিজ্ঞ স্পিনার ক্লারি গ্রিমেট নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে তিনি তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার অস্ট্রালিয়াতে গড়েছিলেন। তিনি ১৮ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন কিন্ত এরপর পাড়ি জমান অস্ট্রালিয়ায়। তিনি অস্ট্রালিয়ার হয়ে ৩৭ টি টেস্ট খেলেছিলেন এবং ১৪৪৫৩ টি বল করেছিলেন এর মধ্যে একটাও ওয়াইড বল ছিলো না।

 

৫. লান্স গিবস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

লান্স গিবস (source: cricketaddictor.com )
৮০ ও ৯০ দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের পাওয়ার হাউজ। ইন্ডিজ দল ছিলো তখন পেস বোলারদের ফ্যাক্টরি কিন্তু তাদের দলের মধ্যে একজন স্পিন বোলারও ছিল যার নাম লান্স গিবস। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৭৯ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন এবং বল করেছিলেন ২৭১১৫ টি যার মধ্যে একটিও ওয়াইড বল ছিলো না। ওই সময়ে উইন্ডিজ দলে বোলার হিসাবে সুযোগ পাওয়া ছিল কষ্ট সাধ্য। তাও যদি কেউ আবার স্পিন বোলার হয় তার জন্য বিষয়টা দুঃসাধ্য কিন্তু গিবস তা করে দেখিয়েছিলেন।

 

৬. ডেরেক আন্ডারউড (ইংল্যান্ড)

ডেরেক আন্ডারউড (source: cricketaddictor.com )
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের একজন দুর্দান্ত প্রাক্তন ক্রিকেটার হচ্ছেন ডেরেক আন্ডারউড। তার প্রথম শ্রেণীর রেকর্ড ছিল অসাধারণ। তিনি ছিলেন চায়না ম‍্যান বোলার মানে বামহাতী লেগ স্পিনার যা ওই যুগে ছিল বিরল। ইংল্যান্ড এর হয়ে তিনি ৮৬ টি টেস্ট ও ২৬ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন। দুই ফরম্যাট মিলিয়েই মোট বল করেছিলেন ২৩১৪০ টি যার মধ্যে কোন ওয়াইড বল ছিলো না। চায়না ম‍্যান বোলার এর জন্য এই কাজ সত্যি অনেক কঠিন।

 

৭. ডেনিস লিলি (অস্ট্রেলিয়া)

ডেনিস লিলি (source: cricketaddictor.com )
ক্রিকেট ইতিহাসে মানসম্মত ফাস্ট বোলার তৈরির অন্যতম সেরা কেন্দ্র হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেই কেন্দ্রেরএকজন দুর্দান্ত গতিদানব হলো ডেনিস লিলি। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনি আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন । তার পেস ও ছিলো মারাত্মক । ওই সময়ে পেস মাপার যন্ত্র ছিলো না । তবে ধরনা করা হয় তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টাই ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার কিন্তু এর চেয়েও আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো তার ক্যারিয়ারে কোন ওয়াইড বল ও নো-বল নাই। ৭০ টি টেস্ট ও ৬৩ ওয়ানডেতে বল করেছিলেন যথাক্রমে ১৮৪৬৭ টি এবং ৩৫৯৩ টি। এই রকম বেপরোয়া গতিতে বল করা বোলার এর জন্য এইটা সত্যিই একটা অবিশ্বাস্য
রেকর্ড ।

 

৮. বব উইলিস (ইংল্যান্ড)

বব উইলিস (source: cricketaddictor.com )
ইংল্যান্ডের একজন পরিপূর্ণ ফাস্ট বোলার হচ্ছেন বব উইলিস। তিনি ইংল্যান্ডের বোলিং আ্যটাক এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। ইংলিশ ক্রিকেটে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ৯০ টি টেস্ট ও ৮০ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। টেস্ট ম্যাচে মোট বল করেছিলেন ১৭৩৫৭ টি এবং ওয়ানডে ৩৫৯৫ টি , যার মধ্যে একটা বলও ওয়াইড না।

 

৯. ইমরান খান (পাকিস্তান)

ইমরান খান (source: cricketaddictor.com )
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তান ক্রিকেটে তার ভূমিকা স্বর্ণ অক্ষরে লিখা থাকবে চিরকাল। তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জিতে। ইমরান খান খালি পাকিস্তানের নয়,গোটা বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তার ক্যারিয়ারে তিনি ৮৮ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন এবং বল করেছিলেন ১৯৪৫৮ টি যার মধ্যে একটিও ওয়াইড বল নেই। আবার ১৭৫ টি ওয়ানডে ম্যাচে ৭৪৫১ টি বল করেছিলেন যার মধ্যে একটি বলও ওয়াইড বল ছিলো না। এই তালিকার সব চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় ইমরান খান।

 

১০. ফ্রেড ট্রুম‍্যান (ইংল্যান্ড)

ফ্রেড ট্রুম‍্যান (source: cricketaddictor.com )
ক্রিকেটের ইতিহাসের সব চেয়ে পুরাতন দল ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জন্মভূমিও ইংল্যান্ড। এই সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলিং নিয়ে কোন সময় সংকট সৃষ্টি হয় নি। ফ্রেড ট্রুম‍্যান ইংল্যান্ডের অন্যতম ফাস্ট বোলার ছিলেন । ইংল্যান্ডের হয়ে ফ্রেড ট্রুম‍্যান ৬৭ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন এবং বল করেছিলেন ১৫১৭৮ টি তার মধ্যে কোন ওয়াইড ছিল না। তার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আরেকটু বলি , ট্রুম‍্যান ৬০৩ টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ৯৯৭০১ টি বল করেছিলেন যার মধ্যে কোন বল ওয়াইড ছিলো না, সত্যিই অবিশ্বাস্য।

 

ক্রিকেট হচ্ছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া বা উপমহাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলা। তবে, ক্রিকেটের সীমানা এখন আর উপমহাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এই গন্ডি এখন ধীরে ধীরে পুরা বিশ্বতে ছড়াচ্ছে। যদিও পৃথিবী যতদিন আছে ততদিন হয়তোবা ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হয়ে থাকবে । কিন্তু ক্রিকেট যে ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে,যে ভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে তাতে বুঝা যাচ্ছে ক্রিকেট ফুটবলের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে থাকবে না।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here