সংজ্ঞায় সঙ্গীত


সঙ্গীত বিষয়টি আমাদের সকলেরই অনেক পছন্দের ৷এই সঙ্গীত বলতে আমরা শুধু মাত্র গানকেই বুঝে থাকি ৷ কিন্তু সঙ্গীত শব্দটির মধ্যে আরও কোন বিষয় থাকতে পারে এটা আমাদের অনেকেরই অজানা ৷ সঙ্গীতের সংজ্ঞা বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ আমরা যে গানই করি না কেন তা সঙ্গীত বিষয়ের আওতাভুক্ত ৷

সঙ্গীত শব্দটির উৎপত্তিবাচক শব্দসমষ্টি হচ্ছে সম্-গৈ-ক্ত অর্থাৎ সম্যক গীত ৷ ‘সম্’ শব্দের দুটি অর্থ অভিধানে পাওয়া যায় :

(১) সমানভাবে বা সমবেতভাবে , (২) সম্যক ৷সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে , ‘সম্’ অর্থে সমানভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বা সমবেত হয়ে ৷ ‘সম্’ শব্দের দ্বিতীয় অর্থ সম্যক বলতে বোঝায় শুদ্ধ ও সম্পূর্ণ এবং সর্বশেষে মনোজ্ঞ রূপে ৷ প্রাচীন শাস্ত্রকাররা সঙ্গীত বলতে গীত, বাদ্য ও নৃত্য – এই তিনটির একত্র সমাবেশকেই সঙ্গীত বলেছেন ৷ শার্ঙ্গদেব কৃত ‘ সঙ্গীত রত্নাকর ‘ – এ বলা হয়েছে – “গীতং বাদ্যং চ নৃত্যং চ ত্রয়ং সঙ্গীত মূচ্যতে ” —– অর্থাৎ গীত, বাদ্য এবং নৃত্য এই তিনটির সমাবেশকে সঙ্গীত বলে ৷ পন্ডিত “মকরন্দকার নারদের” মতে —- “গীতং বাদ্যং তথা নৃত্যং ত্রয়ং সঙ্গীত মূচ্যতে” অর্থাৎ গীত, বাদ্য এবং নৃত্য তিনটি কলার সমন্বয় সাধনকেই সঙ্গীত বলা হয় ৷ এদের প্রত্যেকেই এক একটি নিজস্ব সত্তা আছে ৷ এই তিনটি কলার মধ্যে গীতই প্রধান অর্থাৎ কন্ঠসঙ্গীত প্রধান ৷ কন্ঠসঙ্গীতের সহযোগী হল বাদ্য এবং বাদ্যের অধীনস্থ কলা নৃত্য ৷ সেই জন্য গীত শব্দটিকে প্রাধান্য দিয়ে এই তিনটি কলাকে একত্রে সঙ্গীত বলা হয় ৷
আবার সঙ্গীত শব্দটির ইংরেজি পরিভাষা হচ্ছে Music. Music শব্দের আভিধানিক অর্থ ইংরেজিতে এইরূপ : “Art of combining sounds with a view to beauty of form and expression of emotion.” বাংলায় আমরা বলতে পারি — স্বর সমূহের যে বিশিষ্ট রচনা মানুষকে উদ্দীপিত করে, তাই সঙ্গীত ৷ সঙ্গীতকে ‘পরাবিদ্যা’ বা ‘ব্রহ্মবিদ্যা’ বলা হয়ে থাকে ৷ রবীন্দ্রনাথ সঙ্গীত সম্বন্ধে আলোচনা প্রসঙ্গে মানুষের কথা বলার, স্বরের উচ্চতা ও নীচতার উপর জোর দিয়েছেন এবং সাঙ্গীতিক সুরের বিকাশকে বলেছেন কথা ভাষার স্বরূপ ৷ রবীন্দ্রনাথ এই তথ্যটির ইঙ্গিত পেয়েছিলেন হারবার্ট স্পেনসারের লেখা থেকে ৷ সঙ্গীত এমন এক জিনিস যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ৷
এতক্ষণ সঙ্গীত জিনিস টা কী এই বিষয়ে আলোচনা করা হল এবার এর উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা যাক ——
“ন নদেন বিনা জ্ঞানং ন নাদেন বিনা শিবম্ ৷
নাদরূপং পরঃ জ্যোতির্ণাদরূপী স্বয়ং হরিঃ ||”
অর্থাৎ নাদ বিনা জ্ঞান অসম্ভব, নাদ বিনা মঙ্গল অসম্ভব, পরজ্যোতিঃ নাদরূপ এবং স্বয়ং হরিও নাদরূপী ৷ বিষ্ণু পুরাণে আছে, সকল গীতিকা শব্দমূর্তিধর বিষ্ণুর অংশ ৷ আমাদের দর্শন শাস্ত্রেও নাদকে ব্রহ্ম অর্থাৎ জগতের আত্মা বলা হয়েছে ৷ প্রকৃতপক্ষে জগৎ সঙ্গীতময় ৷ কারণ নদীর কল্লোলে, বনের মর্মরে, পশুপাখির কলকাকলিতে সঙ্গীত নিরন্তর প্রবাহিত ৷ ভারতের প্রাচীন শাস্ত্র পুরাণাদিতে সঙ্গীতের জন্ম সম্বন্ধে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে ৷ তার মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে ব্রহ্মা মহাদেবের কাছে প্রথমে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহন করেন ৷ পরে তিনি ভরত, নারদ, রম্ভা, হু হু ও তুম্বুরু নামক পাঁচ জন শিষ্যকে সঙ্গীত বিদ্যা শিক্ষা দান করেন ৷ এই পাঁচ জনের মধ্যে ভরত মুনিই নাকি পৃথিবীতে সঙ্গীত প্রচার করেন ৷ অন্য একটি মতবাদ এই যে বেদ স্রষ্টা ব্রহ্মাই সঙ্গীতের উৎপত্তির কারণ ৷ ব্রহ্মা শিবকে এই কলাবিদ্যা প্রদান করেন এবং দেবী সরস্বতী তা প্রাপ্ত হন শিবের কাছ থেকে ৷ সরস্বতীর প্রসাদে সঙ্গীত কলায় দীক্ষিত হন নারদ ৷ তিনি স্বর্গস্থিত গন্ধর্ব, কিন্নর এবং অপ্সরাদের সঙ্গীত শিক্ষা দান করেন ৷ তাঁদের কাছ থেকেই পরে ভরত, নারদ এবং হনুমান প্রভৃতি মর্ত্যের ঋষিগণ সঙ্গীত বিদ্যায় পারদর্শীতা লাভ করে পৃথিবীতে সঙ্গীত বিদ্যার প্রচারে তৎপর হন ৷ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যে নারদ দেবী সরস্বতীর নিকট সঙ্গীত বিদ্যা লাভ করেছিলেন এবং সে বিদ্যা বিতরণ করেছিলেন স্বর্গবাসীদের কাছে তিনিই দেবর্ষি নারদ ৷ মর্তে সঙ্গীত প্রচার করেছিলেন যে নারদ তিনি মর্তেরই ঋষি ৷
তৃতীয় কাহিনীটি খুবই চমকপ্রদ ৷ বলা হয়েছে যে বহু বর্ষ ধরে যোগ সাধনা করার পর নারদ মহাদেবের প্রসাদ গ্রহন করেন এবং শিব তখন তাঁকে সঙ্গীত বিদ্যা প্রদান করেন ৷ পার্বতীর শয়নমুদ্রা দেখে শিব তাঁর অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আধারে রুদ্রবীণা নির্মাণ করেন এবং নিজের পঞ্চমুখ থেকে পঞ্চরাগের জন্ম দেন ৷ অতঃপর পার্বতীর মুখ থেকেও ষষ্ঠ রাগের জন্ম হয় ৷ ভৈরভ, হিন্দোল, মেঘ, দীপক এবং শ্রী রাগ শিবের পূর্ব,পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ ও আকাশ মুখ থেকে নির্গত হয় এবং পার্বতী জন্ম দেন কৌশিক রাগের ৷ ‘শিব প্রদোষ’ স্তোত্রে বর্ণিত হয়েছে যে ত্রিজগতের জননী গৌরী স্বর্ণ-সিংহাসনে আসীন হয়ে প্রদোষের সময় শূলপাণি শিবকে বেষ্টন করে দণ্ডায়মান হয়ে দেবাদিদেবের স্ত্ততি গান শুরু করে দেন ৷ সরস্বতী বীণা, ইন্দ্র বেণু এবং ব্রহ্মা করতাল বাজাতে থাকেন ৷ লক্ষ্মী শুরু করেন গান আর বিষ্ণু বাজাতে আরম্ভ করেন মৃদঙ্গ ৷ এই নৃত্যময় সঙ্গীতোৎসব দেখার জন্যে গন্ধর্ব, যক্ষ, পতঙ্গ, উরগ, সিদ্ধ, সাধ্য, বিদ্যাধর, দেবতা ও অপ্সরাগণ প্রভৃতি ত্রিলোকবাসী সকলেই সমুপস্থিত হন ৷
উপরের কাহিনী গুলোতে একটিতে ব্রহ্মাকে মহাদেব সঙ্গীত শিক্ষা দান করেন আবার আরেকটিতে মহাদেব ব্রহ্মার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন ৷ প্রথম কাহিনীতে যদি ব্রহ্মা মহাদেবের কাছ থেকে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহন করেন তবে দ্বিতীয়টিতে কিভাবে ব্রহ্মা মহাদেবকে সঙ্গীত শিক্ষা দান করতে পারেন ৷ প্রকৃতভাবে এই ধরনের কাহিনী মূলত পৌরানিক কাহিনী ৷
সঙ্গীতের উৎপত্তি প্রসঙ্গে পারস্য দেশের একটি কাহিনীতে বলা হয়েছে যে হযরত মুসা পাহাড়ে ঘুরে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরিদর্শন করেছিলেন ৷ এমন সময় দৈববাণী হল,— ‘ওহে মুসা, তুমি তোমার হাতের ‘অসা’ (ফকিরদের কাছে থাকে, এক প্রকার অস্ত্র) দিয়ে পাথরের উপর আঘাত কর ৷’ অনুজ্ঞামতো হযরত্ পাথরের উপরে সজোরে আঘাত করলেন ৷ তৎক্ষণাৎ পাথরটি সাতখন্ডে ভেঙ্গে গেল এবং প্রত্যক খন্ড থেকে এক একটি জলের ধারা প্রবাহিত হতে লাগল পৃথকভাবে ৷ ঐ সব জলধারার কলঙ্কন থেকে মুসা সাতটি স্বর সংগ্রহ করলেন ৷
পারস্যদেশীয় অন্য একটি কাহিনীতে আছে যে মুসীকার নামে এক প্রকার পাহাড়ী পাখীর নাক থেকে বাঁশীর মতো সপ্ত স্বর নির্গত হয় এবং সেই স্বর থেকেই সঙ্গীতের জন্ম হয় ৷ প্রসঙ্গক্রমে বলা যেতে পারে যে জীবজন্তুর কন্ঠস্বর থেকে সঙ্গীতের উৎপত্তির কাহিনী ভারতবর্ষের অনেক সঙ্গীত গ্রন্থেও দেখা যায় ৷ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও সঙ্গীতের প্রাণীজ উদ্ভবের কাহিনীর সন্ধান মেলে ৷
সঙ্গীত সৃষ্টির সঙ্গে আমরা যেমন আমাদের দেবদেবীদের যুক্ত করে দেই, পাশ্চাত্য দেশেও ঠিক তেমনটাই করা হয়ে থাকে ৷ ইংরেজি music শব্দটি এসেছে muse থেকে ৷ গ্রীক দেবতা Zeus এবং Nemesis -র নয় কন্যাকে বলা হয় muse ৷ এরূপ বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে , এঁরাই কবি ও গায়ককে অনুপ্রাণিত করেন এবং ফলে কবিতা, গান প্রভৃতি সৃষ্টি হয় ৷
Captain A. Willard ভারতীয় সঙ্গীত সম্বন্ধে ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে রচিত তার গ্রন্থে এই মত প্রকাশ করেন যে মানুষের ভাষা সৃষ্টির আগেই সঙ্গীত জন্ম লাভ করেছিল ৷ এই প্রসঙ্গে তিনি ডক্টর বার্ণি তাঁর History of Music গ্রন্থে যে মত ব্যক্ত করেছেন তা সমর্থন করেছেন ৷ বার্ণি বলেছেন যে মানুষের উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গেই কন্ঠসঙ্গীতও উদ্ভব হয়েছে ৷ মানবজীবনের একেবারে প্রথম অবস্থায় যখন ভাষা ছিল অনুপস্থিত তখন সুখ, দুঃখ, অনুরাগ, বিরাগ প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার মনোভাব বা আবেগ ব্যক্ত করার জন্য কোন নির্দিষ্ট স্বরধ্বনি স্বাভাবিক রূপেই ব্যবহৃত হত ৷ আবেগ সূচক স্বরধ্বনিগুলি সবক্ষেত্রেই একইরূপ ৷ মানুষের অবস্থা ও জ্ঞানভেদে হৃদয়াবেগের ধ্বনিরূপ পরিবর্তিত হয় না ৷ পরিবর্তিত হয় শুধু স্বরের গম্ভীরতা ও তীব্রতা এবং তা হয় বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক গঠনভেদে ৷ ভাষা সৃষ্টির এই প্রাথমিক স্বরগুলি বাক্যের দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে ক্রমশঃ অস্পষ্ট হয়ে গেছে ৷ কিন্তু ইতর প্রাণীদের মধ্যে প্রাথমিক স্বাভাবিক স্বরের পরিচয় এখনও পাওয়া যায় ৷ পাশ্চাত্য পন্ডিতের এই মতটিতে সঙ্গীতের প্রাণীজ উদ্ভবের কথাই বলা হয়েছে ৷
বিবর্তনবাদের ধারক চার্লস ডার্ উইন্- এর মতে পশুপক্ষীদের ডাকের অনুকরণ করেই মানুষ সঙ্গীতের জন্ম দিতে পেরেছে ; সঙ্গীত তাই এসেছে প্রকৃতি ও পশুজগতের আনুকূল্যে ৷ বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আইনষ্টাইনও এই মতেরই অনুসারী ৷ ডাব্লিউ. ডি. হাম্বলীও সঙ্গীতের প্রাণীজ উদ্ভবে আস্থাবান ছিলেন ৷ রুশো, হার্ডার এবং আরো কোন কোন পাশ্চাত্য দার্শনিক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে কথা বলার স্বরধ্বনিকে বাড়িয়ে কমিয়ে সঙ্গীতকে পাওয়া গেছে ৷ অর্থাৎ কথার সঙ্গে স্বরের বিভিন্ন প্রকার সম্মিলনেই এসেছে সঙ্গীত ৷
ঐতিহাসিক রোবোথাম কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করতেন ৷ তিনি বলেছেন অতি বেগবান ইচ্ছা শক্তির দ্বারাই সঙ্গীত সৃষ্ট হয়েছে ৷ ফ্রয়েড্ বলেন সঙ্গীত শিশুর মনের মতোই মনোবিজ্ঞানের বিষয় ৷ যেমন মনের তাগিদে শিশু তার কান্না, হাসি, ক্রোধ ইত্যাদি দ্বারা হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে নিজেই শেখে তেমনি ভাবেই সঙ্গীতেরও উদ্ভব হয়েছে মানুষের মনোভাব প্রকাশের স্বাভাবিক প্রচেষ্টায় ৷ জেমস্ লঙ্ বলেন, প্রথমে মানুষ কথা বলতে শেখে, চলতে শেখে এবং এই ভাবে ক্রমশঃ ক্রিয়াশীল হতে হতে তার মনের মধ্যে সঙ্গীতও আপনিই উদ্ভব হয় ৷
ইংল্যান্ডের বিশিষ্ট লেখক ও দার্শনিক Herbert Spencer তাঁর “The origin and function of Music” গ্রন্থে বলেছেন মনের আবেগ প্রকাশিত হয় যে ভাষায় বা যে ধ্বনির দ্বারা তা-ই সঙ্গীতের মূল ৷ তাকেই আমরা আবেগের ভাষা বা language of emotion বলতে পারি ৷ রবীন্দ্রনাথ Spencer -এর মতটিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন — “আমাদের মনোভাব গাঢ়তম তীব্রতম রূপে প্রকাশ করিবার উপায় স্বরূপে সঙ্গীতের স্বাভাবিক উৎপত্তি ৷ আবেগের ভাষাই সঙ্গীতের মূল ৷ সঙ্গীত আবেগের ভাষা হইতে জন্মাইয়া আবেগের ভাষাকে পরিস্ফুট করিতেছে ৷ অনুভব প্রকাশের ভাষার অত্যন্ত উন্নতিই সঙ্গীত ৷
সঙ্গীতের উৎপত্তি প্রসঙ্গে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতজ্ঞদের বিভিন্ন মতাদর্শের পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় মানুষ যে সকল আবেগ, অনুভূতি ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে না সে সকল অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমই সঙ্গীত ৷

তথ্যসূত্রঃ

১. অপূর্বসুন্দর মৈত্র, সঙ্গীত কথা (১ম খন্ড)

২. ড. উৎপলা গোস্বামী, ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত

৩. অমলদাশ শর্মা, সঙ্গীত মনীষা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here