আমারদের এই পৃথিবীতে এমন কিছু রহস্যময় জায়গা আছে যেগুলোর রহস্য আজও কেউ ভেদ করতে পারে নি। এমনিতেই জটিল এক রহস্যজাল তৈরী করেছে এই জায়গাগুলো তার উপর সেখানে জন সাধারণের প্রবেশও নিষিদ্ধ। এমনকি বিনাঅনুমতিতে প্রবেশের জন্য হতে পারে জেল, জরিমানা অথবা মৃত্যুদন্ড। আজকে এমন কিছু জায়গার সাথে পরিচিত হবো। তাহলে দেরী না করে শুরু করা যাক।

নর্থান সেন্টিনাল আইল্যান্ড, ইন্ডিয়া:


নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ, ইন্ডিয়া (ছবি: উইকিপিডিয়ার সৌজন্যে)

বঙ্গপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত এই স্থানটি । এইখানে সেন্টিনালস নামে দুর্ধর্ষ আদিবাসীরা বসবাস করে, তারা মোটেও বন্ধুসুলভ না। বাহিরে থেকে কোনো টুরিস্ট কিংবা অন্য কোন মানুষ আসলে তারা সমুদ্র সৈকত হতে তীর , বর্শা , বল্লোম ইত্যাদি নিক্ষেপ করে। তারা খুবই বিপদজনক তাই ভারত সরকার এই জায়গায় ভ্রমণে বা প্রবেশে নিষেধা

স্নেক আইল্যান্ড, ব্রাজিল:


স্নেক আইল্যান্ড, ব্রাজিল (ছবি: বিজনেস ক্লাস এর সৌজন্যে)

ব্রাজিলের সও-পাওলো শহরের উপকূলে এই দ্বীপটি অবস্থিত। এই দ্বীপটির আয়তম প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার। এই জায়গায় প্রতি ৫ বর্গমিটারে একটি করে সাপ আছে, এই জায়গার সাপগুলা বেশিরভাগ বিষধর এবং ভয়ংকর। এই জায়গার পরিবেশ ও অবহওয়া সাপের জন্য অনুকূল এই জন্য এখানে মাত্রাতিরিক্ত সাপের বসবাস। এই বাওয়ারটা অনেকের জন্য ভয়ঙ্কর হলেও কিছু মানুষ যারা সাপ ভালোবাসে বা সাপ নিয়ে গবেষণা করে তাদের জন্য বিষয়টা ভয়ংকর সুন্দর। এই দ্বীপটিতে ব্রাজিল সরকার সাধারণ মানুষ এর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে এই সব বিপদ মাথায় রেখে।

সাভ‍্যলবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট, নরওয়ে:


সাভ‍্যলবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট, নরওয়ে (ছবি: বিজনেস ইনসাইডার এর সৌজন্যে)

এই দ্বীপটি নরওয়েজিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত স্পর্তিজিয়ান দ্বীপ। এইখানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ফসল বা শস্যের বীজ সংরক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির বীজও এইখানে সংরক্ষিত আছে, এর মূল কারণ হচ্ছে পৃথিবীকে গ্লোবাল ক্রইসিস থেকে রক্ষা করা। এই কারণেই এইখানে জনসাধারণ এর প্রবেশ নিষিদ্ধ ।

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভ, ভ্যাটিকান সিটি:


ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভ, ভ্যাটিকান সিটি (ছবি: এশিয়া নিউজ এর সৌজন্যে)

এই স্থানটি ভ্যাটিকনের মধ্যে অবস্থিত। এইখানে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, বিল চালান,কাগজ পত্র ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে এছাড়াও ভ্যাটিকান চার্চ এর বিল ,আনুষঙ্গিক খরচ, ও আরো কিছু নথিপত্র আছে কিন্তু পোপ ব্যাতিত কারো কাছে এইটা দেখার একসেস নাই, যদি পোপ মারা যায় কিংবা পদত্যাগ করে তখন পোপ যাকে উত্তরসূরী করে গেছে সেই একসেস পাবে। উপর এই কথা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে এই জায়গায় পোপ ব্যাতিত অন্য কেউ ঢুকতে পারবে না।

এরিয়া ৫১, নেভেদা, আমেরিকা:


এরিয়া ৫১, নেভেদা, আমেরিকা (ছবি: সি এন এন এর সৌজন্যে)

এই স্থানটি আপাত দৃষ্টিত একটি বিমান বাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কিন্তু গুজব বলি আর কোনস্পিরিসি থিওরি বলি শুরু হয়, এই জায়গার অদ্ভুত উঁচু কাটা তারের বেড়া এবং এই জায়গার জন মানব শুন্যতা নিয়ে। বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হলে এই খানে বিমান খুব কম দেখা যায় এবং এই খানে প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয় । এর গুজব বা থিওরি হচ্ছে এই খনে একটা “UFO”(এলিইনদের উড়জাহাজ) এসে আটকিয়ে যায়। ঐখানের মানুষরা এই কথায় বলে। এই সব করনে এই জায়গাটা গোপনীয় এবং সুরক্ষিত।

টুম্ব অফ চিং সিন হুয়ান, চায়না:


টুম্ব অফ চিং সিন হুয়ান (ছবি: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এর সৌজন্যে)

এই খানে চায়নার বিখ্যাত যোদ্ধা চিং সিন হুয়নের কবর অবস্থিত । খালি তার না তার সাথে সাথে বিশাল সৈন‍্যদলের কবর ও আছে। এই জায়গাটি অদ্ভুত রকম সুন্দর এবং গাছালো কিন্তু তারপরেও জনসাধারণ এর প্রবেশ নিষেধ করেছে চায়না সরকার, এর মূল কারণ হচ্ছে চিং সিন হুয়ান তার বিশাল বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ।
তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই অদ্ভুত পদক্ষেপ নিয়েছে চায়না সরকার।

পভিজিলিয়া আইল্যান্ড , ইটালি:


পভিজিলিয়া আইল্যান্ড , ইটালি (ছবি: অল এবাউট ভেনিস এর সৌজন্যে)

এই দ্বীপটি লিডো ও ভেনিস শহরের মধ্যে অবস্থিত। এই দ্বীপটিতে প্লেগ রোগীদের নির্বাসন দেয়া হতো। এই দ্বীপের ৫০% মাটি মানুষ এর মাংস ও রক্ত দ্বারা গঠিত এবং অনেকের মতে এই জায়গাটি হউন্টেড গুজব আছে এইখানে অনেক প‍্যরানরমাল এক্টিভিটি দেখা যায়। এই সব কারণে ইটালি সরকার এই দ্বীপটিতে জনসাধারণ এর প্রবেশ এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ভাংগড় ফোর্ট, ইন্ডিয়া:


ভাংগড় ফোর্ট, ইন্ডিয়া (ছবি: লক্ষ্মীশরৎ এর সৌজন্যে)

এই দূর্গটি পৃথিবীর অন্যতম হন্টেড জায়গা। এই খানকার বাসিন্দারা বলে সন্ধ্যার পর প্রায় মেয়ে মানুষের ঘুঙুর শব্দ পায় কান্না আর চিৎকারের শব্দ পাওয়া যায় আবার অনেকে বলে সাদা রঙের বস্তু উড়ে যেতে দেখেছে। এই সব বিষয় গুজব না সত্যি তা কারো জানা নাই কিন্তু ভারত সরকার এই কারণগুলোর জন্যই সন্ধ্যার পর এইখানে ট্যুরিস্ট দের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

লাজকক্স কেভ, ফ্রান্স:


লাজকক্স কেভ, ফ্রান্স (ছবি: এনসিয়েন্ট উইজডম এর সৌজন্যে)

এই গুহাটি উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সে অবস্থিত। এই গুহাটির গঠন অনেক জটিল প্রকৃতির। এই গুহার দেয়ালে প্রায় ৬০০ চিত্রকর্ম আছে যা ১৭০০০ বছর পুরাতন । বেশিরভাগ চিত্রগুলা হচ্ছে বিশাল বিশাল প্রাণীর যেমন- হরিণ, জেবরা,মহিষ ইত্যাদি। সবঠিক চলছিল হটাৎ করে এই খান থেকে একটা অদ্ভুত ধরনের ফাঙ্গাল জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব হয় , কি করনে এই রোগ সৃষ্টি হয় এর সঠিক কারণ কারো জানা নাই, এই জন্য ফ্রান্স সরকার ২০০৮ সালে এই জায়গায় জনসাধারনের প্রবেশ এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

রহস্যময় আমাদের এই পৃথিবী, জানার শেষ নাই এইখানে, এই রকম জায়গার ও অভাব নাই যেইখানে মানুষ এর কোন চিহ্ন পরে নি। আবার অনেক জায়গা আছে যার কোন ব্যখা নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here