টমাস রবার্ট ম্যালথাস (Thomas Robert Malthus) বিখ্যাত ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও জনমিতিবিদ হিসাবে৷ তিনি অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হন।১৭৯৮ সালে “An Essays On the Principle of population” নামক একটি বই প্রকাশ করেন যা তাকে রাতারাতি খ্যাতি এবং পরবর্তিতে কুখ্যাতি দুটাই এনে দেয়। এ বইটিতে উল্লেখিত তত্ত্ব ম্যালথাসের তত্ত্ব নামে পরিচিতি লাভ করে।আঠারো শতাব্দীর শেষ ভাগে তত্ত্বটি প্রকাশ লাভ করলেও এর ধারনাটি ছিল সে সময় হতে অত্যন্ত অগ্রগামী ও উন্নত। যে কারনে সমসাময়িক অর্থনীতিবিদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। তিনি তার “An Essays On the Principle of population” গ্রন্থে উল্লেখ করেন মানুষ বাড়ে জ্যামিতিক হারে (২, ৪, ৮, ১৬, ৩২…) এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে (২, ৩, ৪, ৫, ৬…) আবার প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা এক সময়ে খাদ্যের যোগানের চেয়ে কয়েক গুন বেড়ে গিয়ে খাদ্য সংকট তৈরি করে। যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়ে এক ভয়াবহ পরিণতির সৃষ্টি করে। এ থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে দুর্ভিক্ষ,অসুখ-বিসুখ ও মহামারী এবং মনুষ্য যুদ্ধ প্রকৃতিতে দেখা দেয় যা তিনি প্রাকৃতিক নিরোধ নামে উল্লেখ করেছেন আর এর প্রতিকার বা নিরোধক হিসাবে উল্লেখ করেছেন গর্ভপাত, জন্মনিয়ন্ত্রণ, পতিতাবৃত্তির সম্প্রসারণ, কৌমার্য ধরে রাখা, বিয়ে পিছিয়ে দেয়া প্রভৃতি উপায়কে। সাময়িকভাবে এ তত্ত্বটি সাড়া ফেললেও কিছুকাল পরে কৃষিতে বৈপ্লবিক সাফল্য আসে, শিল্পে বিপ্লব ঘটে আর চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ব্যাপক সফলতা আসলে মানুষের জীবনে প্রকৃতির প্রভাব অনেকটাই কমে আসে এতে করে এ তত্ত্বটি সম্পূর্ণরুপে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে এবং অপরাপর অন্য অর্থনীতিবিদের তিরস্কারের মুখে পড়েন। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের নানা প্রান্তে বিভিন্ন প্রকারের মহামারী দেখা দিচ্ছে যার পরিষেধক তাৎক্ষণিভাবে আবিস্কারও সম্ভব হচ্ছে না বা প্রচলিত ওষুধ কাজও করছে না।উদাহরন হিসাবে বলা যায় ক্যান্সার, এইড্স এ দুটি পরজীবি ও জীবাণু বাহিত রোগ ছাড়াও সাম্প্রতি সময়ে জিকা, সোয়াইন ফ্লু,বার্ড ফ্লু, নিপাহ্, ইবোলা, সার্স, মার্স, করোনার মত মারাত্মক ভাইরাস বাহিত রোগের ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা ম্যালথাসের তত্ত্বের প্রাকৃতিক নিরোধের দিকেই ইশারা করছে কিন্তু ম্যালথাস তার তত্ত্বে উল্লেখ করেছিলেন প্রাকৃতিক নিরোধ কেবল তখনই দেখা দেয় যখন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যেমন একটি কারন হিসাবে তিনি খাদ্য সংকটকে বলেছেন। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে, উন্নত কৃষি ব্যবস্থার জন্য খাদ্য সংকট তেমন একটা দেখা না গেলেও অতি শিল্পায়ন-জ্বালানি নির্ভশীলতার দরুন উচ্চ হারে কার্বন নিঃসরণ, বনভূমি হ্রাস, বৃক্ষ নিধন, পানি-দূষণ, প্লাষ্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, অতি মাত্রায় রাসায়নিকের ব্যবহার যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নষ্ট করছে একইসাথে পৃথিবীর বিভিন্ন জীবজন্তু প্রাণী প্রজাতিকে হুমকির আর ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তা ছাড়াও পৃথিবীতে প্রতি ৭৫-১০০ বছর পরে বিভিন্ন মহমারী দেখা দেয়, যা প্রাকৃতিক নিরোধেরই অংশ। এ থেকে এটা বলা যায় যে পৃথিবীতে প্রকৃতি নিরোধ চালাচ্ছে যার সমাপ্তী প্রকৃতিই ঘোষণা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here