ছবি মানে আমরা সবাই জানি, কোন বিশেষ মুহুর্তকে ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাপচার করা, আর মুহূর্তগুলো বেশিরভাগ হয় আনন্দের কিন্তু আজকে ১২ টি ছবির কথা বলবো যেইগুলার পিছনের কাহিনীগুলো সত্যি গা ছম ছমে এবং সহজে বিশ্বাস যোগ্য না। ব্যাকস্টোরিগুলার মূল বর্ণনাকারী হচ্ছেন মানলাল সিদ্দিকী।
ছবিগুলা আপাত দৃষ্টিতে দেখতে খুবই সাধারণ এবং ছবিগুলা দেখে মনে হবে আনন্দঘন মুহুর্তের ছবি কিন্তু এই ছবিগুলার পিছনে আছে ভয়ঙ্কর গল্প যা শুনলে যে কারো শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাবে।

 

১. এ স্ট্যাটিক মোমেন্ট অফ এক্সস্টেসি

এই ছবিতে দেখা যায় ডান পাশে মাইকেল ম্যাককুইয়েকন (১৮) এবং বাম পাশে মাইকেল সিন (১২) দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের চুলগুলো অদ্ভুত ভাবে আকাশের দিকে উঠে আছে। ছবিটি ১৯৭৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মোরো রক নামক পাহাড়ে তুলা। কিন্তু কিছুক্ষণ পড়েই যে তাদের দুনিয়া যে উলটপালট হয়ে যাবে এই বিষয়ে তাদের কোন ধারণা ছিলো না। কয়েক মিনিট পরেই তাদের উপর বজ্জ্রপাত হয়। তারা অল্পের জন্য বেঁচে যায় কিন্তু গুরুতর আহত হয়। একটা মজার তথ্য হলো , বজ্জ্রপাত হওয়ার কয়েক মিনিট আগে বায়ুমন্ডলে প্রচুর স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটি সৃষ্টি হয় এই জন্য মাথার চুল এই রকম উপরের দিকে উঠে যায়। এইটাই হয়তোবা বজ্জ্রপাতের আগে প্রকৃতির দেয়া শেষ সংকেত।

 

২. দা কার বোম্ব

১৫ আগস্ট ১৯৯৮ সালে নর্থান আয়ারল্যান্ড এর একটি ছোট শহরে তুলা বাবা ও মেয়ের অতি সাধারণ ছবি। ছবিটিতে দেখা যায় , বাবা ও মেয়ের পিছনে একটা লাল গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ভাগ্যের কি পরিহাস , কিছুক্ষণ পরেই গাড়ীটি বিস্ফোরিত হয় এবং ২৯ জন মারা যায় আর ২২০ জন আহত হয়। গাড়িটিতে বোমা রাখা ছিলো। এই বোমা হামলাটি করেছিল “Real IRA” নামক একটি সন্ত্রাসী সংগঠন

 

৩. পোগো দা ক্লাউন

ছবিটি দেখা যাচ্ছে একটা হ‍্যাপি ক্লাউনকে যাকে দেখে কোনভাবেই ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে না। কিন্তু মেকআপ এর পিছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার ও ধর্ষক যার নাম জন ওয়েন গাসি। যে কিনা জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে বাচ্চাদের অপহরণ করে তাদের ধর্ষণ এবং খুন করতো। এই ব্যাক্তি ৬ বছরে ত্রিশ জন বাচ্চার সাথে এই বর্বরতা করেছিল। এর জন্য তার নাম দেওয়া হয়েছিল “The killer clown” । ১৯৮০ সলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

 

৪. জেমস বালগার ও তার দুইজন অপহরণকারী

ছবিটি ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিকিউরিটি ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা হয়। অতিসাধারণ একটা ছবি তাই না কিন্তু এই ছবির ভিতরের কাহিনী মোটেও সাধারণ না। ছবিতে একটি ছোট ছেলে জেমস বালগার যার বয়স তিনবছর এবং তাকে যেই দুই জন অপহরণ করেছিল তাদের বয়স দশ!!! এইখানেই শেষ না, বালগারকে তারা অমানবিক অত্যাচার করে এবং পরিশেষে খুন করে,আর খুনের অস্ত্র ছিল একটি আয়রন রড।কি মর্মান্তিক ব‍্যাপারএই দুই জন দশ বছর বয়সী বিংশ শতাব্দীর সব চেয়ে কম বয়সী খুনি হিসাবে চিহ্নিত হয়।

৫. টাইলার হ্যাডলি এবং তার পার্টি

দেখে একটি সাধারণ পার্টির ছবি মনে হচ্ছে তাই না কিন্তু এই লিস্টে সাধারণ বলে কিছু নাই। টাইলার তার বাবা মাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে দোতালায় রেখে আসে তারপর তিন ঘন্টা ধরে ঘর বাড়ি রুম সব পরিস্কার করে। তারপর সে তার বন্ধুদের ডাক দেয় পার্টি করার জন্য। এইখানেই শেষ না, সে তার এক বন্ধুকে খুনের বিষয়টা জানায়। পরবর্তিতে ওই বন্ধু পুলিশকে এই তথ্য এবং পুলিশ এসে তাকে আটক করে।

৬. কুখ্যাত কলম্বিয়ান ক্লাস ছবি

আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে একটি ক্লাসের গ্ৰপ ছবি। কিন্তু উপোরের দিকে একবারে বামে দুই জন ছাত্র বসে আছে যারা এই ছবিটি তুলার কয়েক সপ্তাহ পারে এই ছবির সবাইকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের নামকরণ করা হয় “ দা কলম্বিয়ান হাই ইস্কুল শ্যুটিং অফ ১৯৯৯”। এরিক হারিস এবং ডায়লান এই দুইজন তরুণ তাদের ক্লাসমেটদের এলোপাথারি গুলি করে হত্যা করে।

 

৭. হিরোশিমা সাডোওস

হিরোশিম ও নাগাসকির পরমানবিক বোমা হামলা হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে অমানবিক ও কুখ্যাত ঘটনা। ২ ল‍‌ক্ষ মানুষ মারা যায় এই বোমা হামলায় যাদের মধ্যে অর্ধেক বোমা পরার সাথে সাথেই মারা যায়। কিন্তু এই বোমার হত্যাযজ্ঞ আর বর্বরতা এই খানেই শেষ না। “লিটিল বয়” নামক পারমানবিক বোমা যখন হিরোসিমাতে আঘাত হানে তখন উজ্জ্বল আলোক রশ্মির সৃষ্টি হয় এবং বিপুল রেডিয়েশন তৈরি হয়। যেই সব মানুষরা কোন দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তাদের চিরস্থায়ী ছায়া তৈরি হয়ে যায় এটমিক ফ্ল্যাশ এর কারণে। এই ছায়াগুলো দেখে আরেকটা জিনিস বুঝ যায় যে , যারা এই দেওয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল ,তারা সেকেন্ডের মধ্যে বোমার কারণে বস্মীভূত হয়ে যায়। এই ছায়াগুলা এই বোমা হামলার ভয়াবহতা প্রমান করে।

 

৮. আটোগ্রাফ ফর দা অস্সাসেইন

ছবিতে “দা বিটালস” এর জনপ্রিয় গায়ক জন লেনন একজন ভক্তকে অটোগ্রাপাফ দিচ্ছেন। যে ব্যক্তিকে অটোগ্রাপাফ দিচ্ছেন তার নাম মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যান। কয়েক ঘণ্টা পর জন লেননকে এই ব্যাক্তি গুলি করে হত্যা করে। হত্যার অস্ত্র ছিল .৩৮mm একটি পিস্টল। লেননকে ঘাড়ে ও পিঠে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী মনে চ্যাপম্যান যেই খানে হত্যা করেন ওই খানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন পালানোর চেষ্টা করেন নি। পুলিশ হত্যার কারণ জিজ্ঞাসা করলে , চ্যাপম্যান বলেন “ লেনন নিজেকে যীশু খ্রীষ্টের চেয়ে জনপ্রিয় বলে দাবি করেছে , ওই জন্য তাকে হত্যা করেছি”।

 

৯. ত্রাভিস আলেকজান্ডার

এই ছবিটি একটি ধ্বংসপ্রায় ক্যামেরা থেকে সংগ্ৰহ করা হয়। ছবিটি তুলার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে নির্মম ভাবে হত্যা হয়। হত্যাকারী হচ্ছে তার গার্লফ্রেন্ড জোডি। আলেকজান্ডার গোসল করছিলো , জোডি তাকে প্রথমে চাকু দিয়ে আঘাত করে এবং পরে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায় নি।

 

১০. দা হেভেন্স গেট সুসাইড

এই ছবিটি হলো ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসের উদাহরণ। এই ছবিতে যারা আত্মহত্যা করেছে, তারা হলেন হেভেন্স গেট সংগঠনের সদস্য। তাদের লিডার বলেছিল যে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, এই কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস করে ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসে আত্মহত্যা করে।

 

১১. ডেথ ফটোগ্রাফি

উনিশ শতকের শুরুর দিকে ক্যামেরা বেশি ভালো ছিল না এবং সাটারের গতিও খুব কম ছিল। ওই জন্য ছবি তুলার সময় স্থির থাকতে হতো। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে , বাবা ও মা এর ছবিটা কিছুটা ব্ল্যার কারণ তাদের নড়াচড়ার কারণে কিন্তু মাঝখানে বসে থাকা মেয়ের ছবিটা একেবারেই স্থির। তার এই স্থির হওয়ার কারণ যে মৃত , ভাবা যায় মৃত ব্যক্তির সাথে ছবি। তবে এই ভাবে ছবি তুলা তখনকার পরিবারের মধ্যে একটা সাধারণ বিষয় ছিল।

 

১২. দা হ‍্যাপি ক্রিপি কিলার

ছবিতে একটি হাস্যোজ্জ্বল কিশোর দেখা যাচ্ছে। এই কিশোর এর নাম জেফ ফ্রাঙ্কলিন , যার বয়স ১৭ বছর। কিন্তু এই হাসির পিছনে লুকিয়ে আছে নিষ্ঠুরতা । এই ছবিটি পুলিশ কার থেকে । তাকে আটক কারণ হলো, জেফ তার মা বাবাকে হত্যা করে এবং তার আরো তিনজন ভাই বোনকে আহত করে। তার অস্ত্র ছিল হাতুড়ি এবং রড। এবং সব চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যপার হচ্ছে হত্যাকান্ড চালানোর পর পুলিশ ভ্যানে বসে তার এই নিষ্ঠুর হাসি।

 

ছবি মানেই আনন্দ বা খুশির মুহূর্ত এইটা নয়। কিছু ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে ভয়ানক কিছু কাহিনী যা যে কারো শরীরে ছমছমে ভাব সৃষ্টি করবে। উপর এর ছবিগুলো ব্যাকস্টোরি আসলেই ক্রিপি এবং পাঠকের মুখে একটা তেতোভাব এনে দিবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here