এই আর্টিকালে আমরা বিশ্বের সেরা দশটি বাইক নিয়ে আলোচনা করেছি। যেখানে বাইক ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানীগুলোর সেরা ইন্জিনিয়ারিং,গতি,ইন্জিন থেকে প্রাপ্ত শক্তি,এরোডাইনামিক স্ট্যাবিলিটি প্রভৃতি ফিচারকে সামনে রেখেই এগুলোর ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে রিলাইবিলিটি ও মূল্য বিবেচনা করে নয়। প্রথমেই প্রশ্ন আসতেই পারে বাংলাদেশের মোটরআইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১৬৫ সিসির উপরে লিগ্যাল প্রসেসে কোন বাইক আসতে পারে না তবে কেন এই ওয়েবসাইটটিতে বিশ্ব সেরা বাইকগুলোকে নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে?এর উত্তর হিসাবে বলা যায় যে পৃথিবীর অনান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রচুর বাইকপ্রেমী তরুণ আছেন যারা কখনই এই বাইকগুলো চালানো এমননি নিজ চোখে দেখার সুযোগ লাভ করেনি অদূর ভবিষ্যতেও এমন সুযোগ আসবে কিনা তাও বলা যায় না তারপরেও এই বাইক গুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এগুলোর ম্যানুফ্যাকচারিং ব্রান্ডের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা লালন করে।তারা ঐসকল ম্যানুফ্যাকচারার ব্রান্ড কোম্পানীগুলোর সল্প সিসির বাইক কিনতে বেশি আগ্রহ দেখায়।সেরা বাইক ম্যানুফ্যাকচারিং ব্রান্ড কোম্পানীগুলোর উপর যাদের কিছুটা ধারণা আছে অথচ তারা এগুলোর উৎপাদিত সেরা বাইক সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না আজকের পোষ্টটি মূলত তাদেরই জন্য। নিচে আমাদের বিবেচনায় বিশ্বের সেরা দশটি পারর্ফমিং বাইক ও এগুলোর স্পেক সম্পর্কে আলোচনা কর হলো

 

১.কাওয়াসাকি নিনজা এইচ টু আর

জাপানের বিখ্যাত ও বিশ্বব্যাপী অতি পরিচিত ও সমাদৃত মোটরবাইক ব্যান্ড হলো কাওয়াসাকি।এরা এদের উৎপাদিত বাইকগুলোর মডেলের নাম জাপানিজ ঐতিহ্যবাহী যোদ্ধা বা নিনজা নামে নামকরন করে।কাওয়াসাকি নিনজা এইচ টু আর হলো কাওয়াসাকির তৈরী করা সেরা বাইকগুলোর মধ্যে সেরা।ইতালির মিলানে ২০১৫ সালে ইআইসিএমএ মোটরসাইকেল শোতে এই বাইকটি প্রথম প্রদর্শিত হয়।এর ওজন ও ডিসপ্লেসমেন্টের তুলনায় গতি অত্যান্ত বেশি হওয়ার কারনে এই বাইকটি অনেক দেশেই নিষিদ্ধ।এই বাইকেই প্রথম সুপারচার্জার ব্যবহার করা হয়েছে।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৮সিসি,সুপারচার্জড্,ইনলাইন ফোর সিলিন্ডার
●ম্যাক্স পাওয়ার-৩১০এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৪০০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১৫৬নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ১২৫০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২সেকেন্ডে
টপস্পিড-২৪৮.৫মাইল/ঘন্টা(৪০০কি.মি./ঘন্টা)
আগেই বলা হয়েছে যে ওজন ও ডিসপ্লেসমেন্টের তুলনায় গতি অত্যান্ত বেশি হওয়ার কারনে এই বাইক অনেক দেশেই নিষিদ্ধ তবে একই রকম দেখতে কাওয়াসাকি নিনজা এইচ টু অনেক দেশেই বেশ জনপ্রিয়তা করে নিয়েছে যেটা একদিকে মূল্যসাশ্রয়ী আবার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম পাওয়ারফুল।

 

২.কাওয়াসাকি নিনজা জেড এক্স ফোরটিন

টপ পারর্ফমেন্সের ভিত্তিতে আমাদের নির্বাচিত দ্বিতীয় সেরা বাইকটিও কাওয়াসাকির তৈরী মডেল কাওয়াসাকি নিনজা জেড এক্স ফোরটিন।যেটা ২০১৪ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ কাওয়াসাকি নিনজা এইচ টু আর আসার আগে পর্যন্ত বিশ্বের সেরা পারর্ফমিং বাইক হিসাবে পরিচিত ছিল।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-১৪৪১সিসি,লিকুইড কুলড্,ফোর সিলিন্ডার
●ম্যাক্স পাওয়ার-১৯৭.৩এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১০০০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১৫৮.২নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ৭৫০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৫সেকেন্ডে
টপস্পিড-২০৮.১মাইল/ঘন্টা(৩৩৫কি.মি./ঘন্টা)
বাইকটির ওজন ও ডিসপ্লেসমেন্ট এইচ টু আর তুলনায় অনেকটা বেশি হওয়া সত্ত্বেও আউটপুট কম।বাইকটি দেখতেও বৃহদাকার।

 

৩.সুজুকি হায়াবুসা

জাপানের অন্যতম প্রসিদ্ধ অটোমোবাইল এবং তৃতীয় বৃহৎ মোটোরবাইক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো সুজুকি মোটর কর্পোরেশন।বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে সবচাইতে প্রিয় বাইক হিসাবে পরিচিত সজুকির বাইক যা তাদের কাছে এক আস্থার নাম।এক বাইক উৎপাদনকারীর অন্যতম জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে আলোচিত বাইক মডেল হায়াবুসা।দীর্ঘদিন সর্বচ্চো গতির বাইক হিসাবে বিশ্বব্যাপী একক রাজত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল সুজুকি হায়াবুসা।হায়াবুসা মানেই বাইকারদের মনে একটু বেশিই ভালবাসা কাজ করে।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-১৩৪০সিসি,লিকুইড কুলড্,ফোর সিলিন্ডার
●ম্যাক্স পাওয়ার-২০৪এইচপি যা উৎপন্ন হয় ৯৫০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১৫৫নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ৭২০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৯সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৯৩.৮মাইল/ঘন্টা(৩১২কি.মি./ঘন্টা)
সুজুকি বাইকটির সর্বশেষ আপডেট আনে ২০১৮ সালে যেখানে এই বাইকটিতে স্পেশাল ফিচার হিসাবে ফ্রন্ট হুইলে ব্রিমবোর মনোব্লক ডিস্কব্রেক ক্যালিপারস ব্যবহার করা হয়েছে এবং আরো যুক্ত করা হয়ে নতুন প্রজন্মের এডভ্যান্স এবিএস ব্রেকিং ট্যেকনোলজি।যা বাইকটির ব্রেকিং স্ট্যাবিলিটিকে আরোও উন্নততর করেছে।ড্যাসবোর্ডে চারটি এনালগ মিটার কনসোল অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।স্পিডোমিটার,ফুয়েল গজ,টেম্পারেচার ইন্ডিকেটর এবং এস-ডিএমএস মোড ইন্ডিকেটর মিটার ডিসপ্লে অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।এস-ডিএমএস মোড অপশোনটি এবাইকের এ,বি এবং সি এই তিনটি মোড নির্ধারনে খুব সহায়ক ভুমিকা রাখে।যেখানে অন্নান্য সকল বাইক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীগুলি ডিজিটাল মিটার ডিসপ্লের দিকে ঝুকছে সেখানে সুজুকি হায়াবুসার মিটার কনসোল এনালগই রয়ে গেছে তাই অনেক বাইক বিশেষঙ্গ হায়াবুসাকে সেকেলে বাইক বলে আখ্যায়িত করেন।তবুও হায়াবুসা এই রুপেই বিশ্বের লাখো বাইকপ্রেমীর সপ্নের বাইক হিসাবে অন্তরে লালিত রয়েছে সেটা নিংসন্দেহে বলাই যায়।

 

 

৪.বিএমডাব্লিউ এস থাউজেন্ড আরআর:

বিশ্বের সেরা দশটি পারর্ফমিং বাইকের মধ্যে বিএমডাব্লিউ এস থাউজেন আরআর চতুর্থ সেরা পারর্ফমিং বাইক।জাপানিজ ব্যান্ড বাদে অন্য কোন দেশিয় ব্যান্ড হিসাবে টপ পারর্ফমিং বাইক নির্বাচিত হয়েছে এই বাইকটিকে।পারর্ফমেন্স বিবেচনায় কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই এস থজেজেন্ড আরআর বাইকটি।জার্মানীর বিখ্যাত অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডাব্লিউর সরাসরি রেসিং ডিএনএ নিয়ে সহযোগী বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডাব্লিউ মোটোরাড এই বাইকটি প্রস্তত করেছে।বিএমডাব্লিউ মোটোরাডের তৈরী সর্বচ্চো গতিসম্পন্ন এ বাইকটি ইউরোপের বাজারে সেরা চাহিদাসম্পন্ন বাইক হিসাবে নিজেকে পরিচিত করেছে এবং আমেরিকাতেও বাইকারদের মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক আলড়োন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।বাইক বিশেষজ্ঞদের ধারনা ছিল তুলনামূলক সল্পমূল্যের উচ্চমানসম্পন্ন জাপানী বাইকগুলোর কাছে ধোপেই টিকতে পারবেনা কোন ইউরোপীয় ব্রান্ড,যেটা জার্মানীর সনামধন্য ব্রান্ড বিএমডাব্লিউ ভুল বলে প্রমাণিত করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই।নিচে এই জনপ্রিয় বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৯সিসি,লিকুইড কুলড্,ইনলাইন ফোর সিলিন্ডার,টাইটানিয়াম ভাল্বযুক্ত বিএমডাব্লিউ সিফ্টক্যাম ইন্জিন
●ম্যাক্স পাওয়ার-২০৪এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৩৫০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১১৩নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ১১০০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৬সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৮৮.২মাইল/ঘন্টা(৩০৩কি.মি./ঘন্টা)
ইউরোপীয় বাইক হিসাবে তুলনামূলক সল্পমূল্যে,আকর্ষনীয় ডিজাইন,ওজনে হালকা,রক্ষণা-বেক্ষন খরচ কম হওয়ায় অনেক বাইকপ্রেমি জাপানী বাইকের পরিবর্তে এই বাইকের দিকে ঝুকছেন।বাইকটির জনপ্রিয়তা দিন দিন যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বিএমডাব্লিউ বাইক নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু করে দিয়েছে।যেটা ইউরোপের বাইক ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পনীগুলোকে নতুন করে আশা যোগাচ্ছে।

 

 

৫.এমভি আগুস্তা এফ ফোর আরসি:

ইউরোপের ঐতিয্যবাহী মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমভি আগুস্তার তৈরী অন্য়তম জনপ্রিয় এবং পাওয়ারফুল বাইক হলো এফ ফোর আরসি।ইতালির বিখ্যাত মোটরবাইক নির্মাতা আগুস্তার অতীত অত্যন্ত সমৃদ্ধ।বাইক ডিজাইনিংয়ে আগুস্তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।তাদের কার্যকরি ডিজাইনের সুবাদে যেমন বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে তেমনই রেসিংয়েও এরোডাইনামিক সুবিধা লাভ করতো আগুস্তার রেসাররা।এমভি আগুস্তার রেসাররা এজন্য বিজয়ীদের কাতরেই বেশি স্থান পেতেন।কিন্তু বর্তমানে ইউরোপের উৎপাদন খরচ কয়েকগুন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কোম্পনী আগের মত সক্ষমতা ও আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে অনেকটাই।সীমিত কয়েকটি মডেলের বাইক প্রস্তত করছে আগুস্তা তার মধ্যে এফ ফোর আরসি অন্যতম।বাইকটির উৎপাদন সীমিত হওয়ার দরুন সবদেশে পাওয়াও যায় না আবার বাইকটার মূল্য়ও অনেক বেশি।এতদসত্ত্বেও বাইকটা ঠিকই বাইকারদের নজর আকৃষ্ট করে নিয়েছে অনবদ্য পারর্ফমেন্সের জন্য।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৮সিসি,লিকুইড কুলড্,ফোর সিলিন্ডার ইন্জিন
●ম্যাক্স পাওয়ার-২০০এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৩৪৫০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১১৫নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ৯৩০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৪সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৮৭.৬৫মাইল/ঘন্টা(৩০২কি.মি./ঘন্টা)
তুলনামুলক ছোট-খাট দেখতে বাইকটির ওজনেও অন্নান্য সকলের থেকে হালকা তাই এর ফল পারর্ফমেন্সে ব্যাপক পার্থক্য তৈরী করে আবার একই কারনে বাইকটির কন্ট্রোলিংও অনান্য বাইকের তুলনায় সহজ।আর এ সকল বৈশিষ্ট্য এ বাইকটির জনপ্রিয়তার মূল কারন।

 

 

৬.সুজুকি জিএসএক্সআর:

জাপানের মোটোরবাইক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সুজুকি মোটর কর্পোরেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোটোরবাইক হলো সুজুকি জিএসএক্সআর।পূ্র্বে একই ব্রান্ডের মোটোরবাইক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির একটি বাইক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি যেটা আমাদের লিষ্টের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে এবং বর্তমানে যেই বাইকের কথা বলছি সেটার অবস্থান আমাদের পারর্ফমেন্স ক্রমানুসারে ষষ্ঠ স্থানে।পৃথিবীর সেরা স্পোর্টস বাইকগুলোর কাতারে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছে সুজুকির এই বাইকটি কোন দেশে এই বাইক টি এত জনপ্রিয় যে স্পোর্টস বাইক বলতে শুধুমাত্র জিএসএক্সআরকেই বলা হয়।বাইকটি বাইকারদের মাঝে এত জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে মূল কারন এর ফিচার আর ডিজাইন।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৯.৮সিসি,লিকুইড কুলড্,ফোর সিলিন্ডার ইন্জিন,ডিওএইচসি
●ম্যাক্স পাওয়ার-২০২এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৩২০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১১৭.৬নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ১০৮০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৩৫সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৮৬.৫মাইল/ঘন্টা(৩০০কি.মি./ঘন্টা)
বাইকটির হালকা ওজন,ইন্টিগ্রেটেড ট্যেকনোলজির ফ্রেম ডিজাইন,শর্ট হুইলবেজ বাইকটির পারর্ফমেন্সকে যেমন বৃদ্ধি করেছে তেমনই বাইকের কন্ট্রোলিং সহজতর ও উন্নত করেছে।এইসকল কারনে বাইকটি তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছে।

 

৭.হোন্ডা সিবিআর-থাউসেন আরআর ফায়ারব্লেড

বিশ্ববিখ্যাত এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ জাপানিজ মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডার ফ্লাগশিপ মডেল হলো সিবিআর-থাউসেন আরআর ফায়ারব্লেড।যে বাইকটিতে হোন্ডা তাদের মোটোজিপি রেসিং ট্যেকনোলজিকে সরাসরিভাবে কাজে লাগিয়েছে।তারা দাবি করে সিবিআর-থাউসেন আরআর ফায়ারব্লেড মডেলটি তাদের মোটোজিপি ফ্যক্টরি রেসিং বাইকেরই অনুরুপ বাইক,যেখানে এগুলোও মোটোজিপির মতো একই প্রসেসে টিউন করা হয়ে থাকে।তাই এই বাইকের গ্রাহকরা বাইকটির মাধ্যমে মোটোজিপি বাইকের স্বাদ পান বলে দাবি করা হয়।বাস্তবে যারা এই বাইক রাইড করেন তারাও অন্নান্য বাইকের সাথে এর পার্থক্য খুজে পান খুব সহজেই।বাইকটির অত্যন্ত শক্তিশালি ইন্জিন,মজবুত চ্যাসি,সহজ হ্যান্ডেলিং,কার্যকারি ও নরম সাসপেনশন সিষ্টেম এবং সহজে কর্ণারিং করার মত সুবিধাগুলো পাওয়ার দরুন বাইকটি তরুন বাইকারদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অজর্ন করেছে।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৯সিসি,লিকুইড কুলড্,১৬-ভাল্ব,ইনলাইন ফোর সিলিন্ডার,ডিওএইচসি ইন্জিন
●ম্যাক্স পাওয়ার-১৯০এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৩০০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১১৪নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ১১০০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৭সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৮৫.৭মাইল/ঘন্টা(২৯৯কি.মি./ঘন্টা)
হোন্ডার অন্নান্য মডেলগুলোর মত এই মডেলটিও বেশ জনপ্রিয়।তার কারনও যথার্থ।একে হোন্ডার রিলাইবিলিটি,দ্বিতীয়ত হোন্ডার বিশ্বব্যাপী টপক্লাস সার্ভিস নেটওয়ার্ক আবার প্রত বছরেই তাদের বাইকগুলোর মডেল এবং ফিচার আপগ্রেড করা হয়।যেমন ২০১৯ সালের সিবিআর-থাউসেন আরআর মডেলটিতে ইন্জিন ব্রেকিং,রাইডিং মোড সিলেকশান,পাওয়ায় সিলেকশান,জাইরোস্কপিক ম্যেকানিজাম সমৃদ্ধ নতুন এবিএস ব্রেক প্রভৃতি ফিচার আপগ্রেড করা হয়েছে।আবার সিবিআর-থাউসেন আরআর ফায়ারব্লেড এসপি মডেলটি এক্সট্রা ফিচার যুক্ত করা হয়েছে ওহলিনসের-স্টিয়ারিং ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ডিভাইস(এসসিপি) এবং সাসপেনশন ব্যবস্থা।এতদসত্বেও বাইকটির দাম এর প্রতিযোগী বাইকগুলোর থেকে অনেকটা কম।একরনেই বাইকটি এত জনপ্রিয়।হোন্ডা এই বাইকটির মধ্য দিয়ে মার্কেটে কঠিন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে।

 

৮.ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ আর ওয়ান

বিশ্ববিখ্যাত এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাপানিজ মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহার ফ্লাগশিপ মডেল ওয়াইজেডএফ আর ওয়ান বিশ্বব্যাপী বাইকারদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় একটি মডেল।লাখ লাখ তরুণের সপ্নের বাইক আর ওয়ান।যেটা তার ডিজাইন এবং পারর্ফমেন্স দিয়ে মাতিয়ে রেখেছে বিশ্বের সকল বাইকার কমিউনিটি।এই বাইকটির মাধ্যমে ইয়ামাহা পৃথিবীর সেরা স্পোর্টস বাইকগুলোর কাতারে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।ইয়ামাহা মোটোজিপি রেসিং ট্যেকনোলজিকে সরাসরিভাবে কাজে লাগিয়েছে এই বাইকটিতে।অর্থাৎ মোটোজিপি রেসিং ডিএনএর সমন্বয় ঘটিয়েছে বাইকটিতে ইয়ামাহা কর্পোরেশন।সহজ হ্যান্ডেলিং,শক্তিশালি ইন্জিন,এডভ্যান্স সাসপেনশন সিষ্টেম,উন্নত ও কার্যকারি ব্রেকিং ট্যেকনোলজি,সহজে কর্ণারিং করার মত ফিচারগুলো বাইকটিকে অনবদ্য করে তুলেছে।নিচে ব্যাপক জনপ্রিয় এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৮সিসি,লিকুইড কুলড্,ফোর সিলিন্ডার,ডিওএইচসি
●ম্যাক্স পাওয়ার-২০০এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৩৫০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১১২.৪নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ১১৫০০ আরপিএম এ
এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৬সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৮৫মাইল/ঘন্টা(২৯৮কি.মি./ঘন্টা)
এলুমিনিয়ামের ডাইমন্ড শেপের বডি ফ্রেম ব্যাবহার করা হয়েছে বাইকটিতে।যাতে বাইকটির ওজনও অনেকটাই কম।আর এগুলোই বাইকটির কন্ট্রোলিং স্ট্যাবিলিটিকে বৃদ্ধি করছে।

 

৯.এপ্রিলিয়া আরএসভি ফোর

বিশ্ববিখ্যাত ইউরোপীয় বাইক ম্যানুফ্যাকচারিং জায়ান্ট এপ্রিলিয়া বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।ইতালিভিত্তিক জনপ্রিয় এই বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তার ডিজাইনিং এর বিশ্বব্যাপি পরিচিতি লাভ করেছে।এ প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত প্রতিটি বাইকই হার্ডকোর পারর্ফমেন্স দেয়ার জন্য বিশ্বখ্যাত।ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহৎ রেসিং মোটোরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ফ্লাগশিপ মডেল হলো আরএসভি ফোর বাইকটি যেখানে তারা তাদর মোটোজিপি রেসিং ট্যেকনোলজিকে সরাসরিভাবে কাজে লাগিয়েছে।একদিকে পাওয়ারফুল অন্যদিকে আগ্রাসী লুক বাইকটিকে বিশ্বব্যাপী বাইকারদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-৯৯৯.৬সিসি,লিকুইড কুলড্,ফোর সিলিন্ডার,৬৫° ভি ফোর
●ম্যাক্স পাওয়ার-২০১এইচপি যা উৎপন্ন হয় ১৩০০০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১১৫নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ১০৫০০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৮০.২মাইল/ঘন্টা(২৯০কি.মি./ঘন্টা)
এপ্রিলিয়া আরএসভি ফোর বাইকটি ২০১৬ সালে রিলিজ হওয়ার পর খুব দ্রুত লাইম লাইটে চলে আসে এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যর জন্য।ওহলিনসের ফর্ক,পারর্ফমেন্স রাইড কন্ট্রোল,হুইলি ও লঞ্চ কন্ট্রোল,কুইক সিফ্টসহ আরো অনেক ফিচার রয়েছে বাইকটিতে যেগুলো এটিকে সুপার বাইকে পরিনত করেছে

 

১০.বিএমডাব্লিউ কে থার্টিন হান্ড্রেড এস

বিএমডাব্লিউ মোটোরাডের আরও একটি বাইককে বিশ্বের সেরা দশ পারর্ফমিং বাইকের লিষ্টে রাখা হয়েছে।বিএমডাব্লিউ এই বাইকটিকে কে টুয়েলভ্ হান্ড্রেড এস এর পরিবর্তে ২০০৮ সালে বাজারে আনে।বিএমডাব্লিউ বাইকটির ডিজাইন খুবই ইন্টেলিজেন্টলি করেছে যেটা পারর্ফমেন্সেই দেখা যায়।এর ডিজাইন রাইডিং কম্ফোট এবং স্পিডিবিলিটি দুটোকে বিবেচনা করেই করা হয়েছে।নিচে এই বাইকের কি-স্পেক তুলে ধরা হলো-
●ইন্জিন-১২৯৩সিসি,ওয়াটার কুলড্ ফোর স্টোক,ইনলাইন ফোর সিলিন্ডার,১৬-ভাল্ব,টু ওভারহেড ক্যামস্যাফ্ট উইথ ড্রাইসাম্প লুব্রিকেশন ইন্জিন
●ম্যাক্স পাওয়ার-১৭২.৯এইচপি যা উৎপন্ন হয় ৯২৫০ আরপিএম এ
●ম্যাক্স টর্ক-১৪০নিউটন মিটার যা উৎপন্ন হয় ৮২৫০ আরপিএম এ
●এক্সেলারেশন-০-৬০মাইল/ঘন্টা(৯৭কি.মি./ঘন্টা) মাত্র ২.৭৯সেকেন্ডে
●টপস্পিড-১৭৫মাইল/ঘন্টা(২৮২কি.মি./ঘন্টা)
বাইকটি দেখতে অনেক বড় হলেও ওজন তুলনামূলক কম।কারন বাইকটিতে উন্নত ফাইবারের ব্যবহার করা হয়েছে মেটালের পরিবর্তে আবার বডিফ্রেমের ওজন কমিয়ে রাখতে স্টিলের পরিবর্তে এলুমিনিয়ামের ব্যবহার করা হয়েছে।বৃহদকার বাইকটিকে শুধু মাত্র স্পোর্টস বাইক নয় বরং এটা একটা সেমি ক্রুজ বাইকও বল যায়।বাইকে নিরবিচ্ছিন্ন ও স্মুদ রাইডিং এর জন্য এটিতে চেন ড্রাইভের পরিবর্তে এক্সেল ওভারড্রাইভ যুক্ত করা হয়েছে।মডেলটি ইউরোপ ও আমিরিকায় বেশ জনপ্রিয়।

 

 

সবশেষে আরও কিছু কথা না বললই নয় আমাদের এই সেরা দশটি বাইকের যে তালিকাটি আপনাদর সামনে উপস্থাপন করেছি সেগুলো মডেল ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ চালু আছে।অর্থাৎ মোটরবাইক মডেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়া মডেলগুলোকে পরিহার করা হয়েছে এবং সাভাবিক ইন্জিনের স্পোর্টস বাইকগুলোকে বিবেচনা করা হয়েছে।উদাহরনস্বরুপ বলা যায় এমটিটি টারবাইন সুপারবাইক ওয়াই টুকে রেকর্ড গতি ২৫০মাইল/ঘন্টা এবং ৪২০এইচপি উৎপাদন করার পরও আমাদের তালিকায় স্থান পায় এটা কোন সাভাবিক স্পোর্টস নাহওয়ার জন্য।সকল মডেলের ২০১৯ পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ আপডেটের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তত করা হয়েছে।আমরা আগেই বলেছি এই বাইকগুলো আমাদের দেশে চলার কোন আনুমতি নেই।তবে তাই বলে যে আপাতদৃষ্টিতে কোন ভুমিকাই নেই এরুপও ঠিক নয়।ফ্লাগশিপ বাইকগুলো সরাসরি রেসিং ডিএনএ নিয়ে তৈরী করা হয় এবং এর তুলনায় কম সিসির বাইকগুলো ফ্লাগশিপ সরাসরি মডেলগুলোকে অনুকরন করে তৈরী করা হয়।যেগুলোর ডিজাইন প্রায়শই একই ধরনের হয়।যেটাও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here