আজকে মোসাদ এর কিছু বিখ্যাত অপারেশন নিয়ে কথা বলবো। তাহলে শুরু থেকে শুরু করা যাক। প্রথমে চলে আসে এডলফ হিটলার এর সহযোগী এডলফ এইচমানন এর কথা, 60 লক্ষ ইহুদি হত্যা করাই তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিলো। প্রথমে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বন্দি করা হলেও, সে পালাতে সক্ষম হয় এবং আর্জেন্টিনা পালিয়ে যায়। ইহুদি গনহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি তার খোঁজ দেয় যে এইচমানন রিকার্ডো কেলমেন্ট এর পরিচয় ধারণ করে লুকিয়ে আছে, অনেক তথ্য মতে এইচমানন প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে ছদ্মবেশে ছিলো। তারপর কমপক্ষে ডজনখানেক মোসাদ এজেন্টদের পরীক্ষণ আর পর্যবেক্ষণ এই ব্যক্তি ধরা পড়ে। এই অভিযান শীর্ষস্থানে রাখার কারন হলো, 1960-1961 সালে একজন প্লাস্টিক সার্জারি করা অপরাধীকে ট্র্যাক করা আবার তার আসল পরিচয় বের করার মতো কিছু দুঃসাধ্য কাজ মোসাদ করেছে। তারপর 1962 সালে এইচমাননকে ইসরাইল এ ফাঁসি দেওয়া হয়।

এরপর আসি মিউনিখ অলিম্পিকস এর ইসরাইলি ক্রীড়াবিদদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া বিষয়ে। ১৯৭২ সালে ৫ সেপ্টেম্বর ১১ জন ইসরাইলি ক্রীড়াবিদ ও একজন জার্মান পুলিশ প্যালেস্টাইনি জঙ্গি সংগঠন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর কর্তৃক নিহত হয় এর পর শুরু হয় মোসাদের প্রতিশোধ, ১৯৭২ সালের ১৬ অক্টোবর দুইজন মোসাদ এজেন্ট PLO ইতালির প্রতিনিধি আবদেল ওয়েল গুলি করে হত্যা করে এবং আরো কিছু প্রতিনিধিকে হত্যা করে যারা মিউনিখ হত্যাকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। তারপরে মোসাদ মোহাম্মদ ইউসুফ আল নাজারকে,কামাল আদান এবং কামাল নাসিরকে হত্যা করে । এই মিশনটি পরিচালনা করেন ইহুদ বারাক।

এইবার আসি সিরিয়ান পারমাণবিক চুল্লি কাহিনী নিয়ে। সিরিয়ার পারমানবিক চোরাগুপ্তা চুল্লি আছে কিনা এই নিয়ে মোসাদ আর IDF অনেক বছরের তর্ক বিতর্কের পর সিদ্ধান্তে আসে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে একজন সিরিয়ান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইব্রাহিম ওঠমান একটি ইউরোপিয়ান শহরে আসে, কয়েকটি মোসাদ এর এজেন্ট দল অনেক পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেক্ষন করে তথ্য আদায় করার জন্য, এমনকি তাকে হত্যার ও চেষ্টা করে তারা। কিন্তু পরবর্তীতে ইসরাইল আর মোসাদ এই ব্যাপারে কোন দায়ভার নেয় নি। পরবর্তী তারা আরো কিছু তথ্য আর ছবি ইব্রাহিম ওঠমান এর ল্যাপটপ থেকে হ্যাক করে এবং তারা অনেক কিছু সংগ্রহ করে। ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর IDF এর বিমান হামলায় সিরিয়ান পারমানবিক চুল্লি ধ্বংস হয়ে যায়। এই সব কোন কিছুর দায়ভার মোসাদ নেয় নি। এইখানে শেষ না, সিরিয়া আবার পারমানবিক পরীক্ষা শুরু করে, এইবার দায়িত্ব দেয়া হয় প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ এর ডানহাত মুহাম্মাদ সুলেমানকে, এনি খুব চালাকির সাথে এই পারমানবিক ক্যাম্প স্থাপন করেন সিরিয়ার আর্মির ধরা ছোয়ার বাহিরে সিরিযার একটু বাহিরে যাতে মানুষ এর সম্পর্কে না জানে কিন্তু মোসাদ বুঝতে পারছিল যে এইটা তাদের জন্য বিপদজনক । এরপর ঘটে আসল অঘটন, ২০০৮ সালের আগস্ট মাসের 1 তারিখ এ মোহাম্মদ সুলেমান ছুটি কাটাছিলেন সিরিয়ান একটি রিসোর্টে এবং সেখানে তিনি হটাৎ সুমদ্র সৈকতে হাটতে হাটতে পরে যান, পরে বুঝা যায় তাকে স্নাইপার দিয়ে গুলি করা হয় অনেক দূর থেকে, অনেকের মতে স্নাইপার এর হামলা মোসাদ করেছে, কিন্তু এই কথার প্রমান পাওয়া যায় নি। কিন্তু “ওপেন সিক্রেট” বলে তো একটা কথা আছে তাই না।

এছাড়াও তারা আরো অনেক গুপ্তহত্যা করে যার মধ্যে অন্যতম হলো ইমাদ মুগহয়নিয়,এরপর তারা ইরান এর পারমানবিক কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়।

তথ্যসূত্রঃ www.jpost.com

পরের পর্ব আসছে ISl এর উল্লেগযোগ্য গুপ্তঅভিযান নিয়ে।

 

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here