পঙ্গপাল কি?


আমরা বাংলায় যাকে বলি ঘাসফড়িং বা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের কাছে ইংরেজি লোকাস্ট নামে পরিচিত, এক প্রকার লাজুক পতঙ্গই হচ্ছে পঙ্গপাল। এদের দৈর্ঘ্য ইঞ্চি খানিক হয়ে থাকে। পতঙ্গগুলো সাধারণত একাই থাকে কিন্তু বিশেষ অবস্থায় তারা একত্রে জড়ো হয়। তখন তাদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তিত হয়।
একা থাকা অবস্থায় এই ঘাস ফড়িংগুলো যেমন অপকার করে না, তেমন সংখ্যায় কম থাকায় কৃষির জন্য বিরাট কোন আর্থিক ক্ষতিও সাধন করে না। আবহাওয়া পরিবর্তন বিশেষ করে অনাবৃষ্টির পরে অতিবৃষ্টি হলে ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তখন এই পতঙ্গের মস্তিষ্কে এক ধরণের কেমিক্যাল নিঃসরণ হয় যা serotonin নামে পরিচিত। এই serotonin এর জন্য তাদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়। ফলে তাদের দ্রুত বংশবিস্তার শুরু হয় এবং একসাথে থাকতে শুরু করে। ফলাফল হিসাবে ওই পতঙ্গগুলো যাযাবর হয়ে পড়ে। এরকম এক একটা যাযাবর দলকেই একত্রে পঙ্গপাল বলে। এক একটি পঙ্গপাল এর ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে এক হাজার কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। পূর্ন বয়স্ক পতঙ্গের পাখা থাকে। পাখাবিহীন ছোট পঙ্গপাল পাখা জন্মানোর পরে মূল দলে যোগ দেয়। এই পাখাবিহীন এবং পাখাসহ পঙ্গপালের দল একসাথে চলাচল করে এবং ফসলের মাঠের বিরাট ক্ষতি সাধন করে।

পঙ্গপালের আদি ইতিহাস কী?


পঙ্গপালের দ্বারা ফসল নষ্ট করার ইতিহাস বহু পুরনো। মিশরীয়রা এদের চিত্র অঙ্কন করেছিল তাদের কবরে অর্থাৎ পিরামিড এর দেয়ালে। ইলিয়ড, বাইবেল এবং কোরআন ইত্যাদি গ্রন্থেও পঙ্গপালের দরুন ফসল ধ্বংস করে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। দল বানানোর প্রবণতা বিংশ শতাব্দিতে কিছুটা কম থাকা সত্ত্বেও পঙ্গপাল অনুকূল অবস্থায় যে কোন সময় দল গড়তে পারে যার ফলে দুর্ভিক্ষের সম্ভবনা রয়েছে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় কিছু কিছু দেশে অনেক আগে থেকে পঙ্গপালকে খাদ্য হিসেবে অত্যন্ত উপাদেয় হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ইংরেজি “locust” বা পঙ্গপাল শব্দটি এসেছে Vulgar Latin শব্দ locusta (লোকাস্টা) থেকে, যার অর্থ লবস্টার (lobster) বা চিংড়ি, যা সারা বিশ্বের জনপ্রিয় একটি খাদ্য।

কেন পঙ্গপাল বিপজ্জনক?


প্রতিটি পূর্ন বয়স্ক পতঙ্গ প্রায় নিজ ওজনের সমান খাবার খেয়ে ফেলতে পারে। পঙ্গপাল যে এলাকায় আক্রমণ করে সে এলাকার সব ফসল শেষ করে তারপর অন্য এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। এই এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ পঙ্গপাল কি?

আমরা বাংলায় যাকে বলি ঘাসফড়িং বা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের কাছে ইংরেজি লোকাস্ট নামে পরিচিত, এক প্রকার লাজুক পতঙ্গই হচ্ছে পঙ্গপাল। এদের দৈর্ঘ্য ইঞ্চি খানিক হয়ে থাকে। পতঙ্গগুলো সাধারণত একাই থাকে কিন্তু বিশেষ অবস্থায় তারা একত্রে জড়ো হয়। তখন তাদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তিত হয়।

একা থাকা অবস্থায় এই ঘাস ফড়িংগুলো যেমন অপকার করে না, তেমন সংখ্যায় কম থাকায় কৃষির জন্য বিরাট কোন আর্থিক ক্ষতিও সাধন করে না। আবহাওয়া পরিবর্তন বিশেষ করে অনাবৃষ্টির পরে অতিবৃষ্টি হলে ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তখন এই পতঙ্গের মস্তিষ্কে এক ধরণের কেমিক্যাল নিঃসরণ হয় যা serotonin নামে পরিচিত। এই serotonin এর জন্য তাদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়। ফলে তাদের দ্রুত বংশবিস্তার শুরু হয় এবং একসাথে থাকতে শুরু করে। ফলাফল হিসাবে ওই পতঙ্গগুলো যাযাবর হয়ে পড়ে। এরকম এক একটা যাযাবর দলকেই একত্রে পঙ্গপাল বলে। এক একটি পঙ্গপাল এর ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে এক হাজার কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। পূর্ন বয়স্ক পতঙ্গের পাখা থাকে। পাখাবিহীন ছোট পঙ্গপাল পাখা জন্মানোর পরে মূল দলে যোগ দেয়। এই পাখাবিহীন এবং পাখাসহ পঙ্গপালের দল একসাথে চলাচল করে এবং ফসলের মাঠের বিরাট ক্ষতি সাধন করে।

কেন বাংলাদেশকে সতর্ক হওয়া উচিত?


গত ফেব্রুয়ারি মাসের দশ তারিখে জাতিসংঘের FAO একটি নির্দেশনা জারি করে। ঐ নির্দেশনায় বলা হয় ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অর্থাৎ পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় বছর খানেক ধরে পঙ্গপালের ব্যাপক বংশবিস্তার হয়েছে, যার জন্য আফ্রিকা সহ দক্ষিণ- পশ্চিম এশিয়ার দেশ গুলোতে পঙ্গপাল হামলা চালাতে পারে বলে সাবধান করা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান এবং ইরান এর জন্য সতর্ক বার্তাতে থাকলেও, ভারত ওই সতর্ক বার্তায় ছিল না, তারপরও ইতিমধ্যেই দেশটির পাঞ্জাবে আক্রমণ চালিয়েছে পঙ্গপাল। যেহেতু বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত পঙ্গপাল এর আক্রমণ এর শিকার সেহেতু বাংলাদেশকে বিপদ মুক্ত ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

তথ্যসূত্র:

1. Antsey, Michael; Rogers, Stephen; Swidbert, R.O.; Burrows, Malcolm; Simpson, S.J. “Serotonin mediates behavioral gregarization underlying swarm formation in desert locusts”। Science। 323 (5914): 627–630।

2. “Online Etymology Dictionary” Etymonline.com।

3. www.bbc.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here