লিখেছেনঃ মেহজাবিন


“ঠোঁট পালিশ” বা “লিপস্টিক” একটি ভালোবাসার নাম । পৃথিবীতে এমন কোনো নারী নাই যে লিপস্টিক পছন্দ করে না। আমাদের দৈনন্দিন সাজগোজে অন্য কোন প্রসাধনী না থাকলেও লিপস্টিক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পালন করে।
লিপস্টিক জিনিস টা কী? লিপস্টিক হচ্ছে এমন এক প্রকার প্রসাধনী দ্রব্য যা বিভিন্ন রকম রঞ্জক পদার্থ, তেল, মোম এবং ত্বক কোমলকারী পদার্থের সন্নিবেশে তৈরি হয়। গাঢ় লাল থেকে গাঢ় বাদামি, হালকা গোলাপি থেকে ন্যুড এমন নানা রঙের সাতরং প্রতিনিয়ত সাজিয়ে তুলেছে বিশ্বব্যাপী নারীদের ঠোঁট।
“যদি আপনি বিষণ্ণ থাকেন, তবে লিপস্টিক ব্যবহার করুন।” – কোকো শ্যানেল
লিপস্টিক সম্পর্কে তো জানা গেল এবার আসুন এর উৎপত্তি আর ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা যাক ।
সুত্রঃ Emaze
প্রাচীন সভ্যতাগুলিতে প্রাসাধন মর্যাদার একটি প্রতীক ছিল এবং মেকআপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন লিঙ্গ ভেদাভেদ ছিল না। সুমেরিয়ান সভ্যতার মানুষদের লিপস্টিকের প্রথম ব্যবহারকারী হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া যায়। সুমেরিয়ানরা প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ বছর পূর্বে লিপস্টিক আবিষ্কার করেছেন। তারা রত্নপাথর পিষে তাদের মুখমন্ডল সাজাতে ব্যবহার করতেন বিশেষ করে ঠোঁট আর চোখের চারপাশ। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ পর্যন্ত প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার মহিলারা ( মেসোপটেমিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, প্রাচীন মিসর) সৌন্দর্যের জন্য লাল রঙ ব্যবহার করে থাকতেন। মেসোপটেমিয়ান নারীরা এদিক থেকে আরেকটু এগিয়ে ছিলেন। তারা ঠোঁটে লাল রঙের সাথে বিভিন্ন ধরণের গয়না ব্যবহার করতেন।
চিত্র: রানী ক্লিওপেট্রা/সুত্রঃ Gabriel’s Egyptians project-weebly
প্রাচীন সিন্ধু স্যভতার নারীদের মাঝে মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহারের প্রমান পাওয়া যায়। কথিত আছে প্রাচীন গ্রিক পুরাণে সৌন্দর্য ও প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির ঠোঁট ছিল একেবারে রক্তিম গোলাপের মতো। আর এমন ঠোঁট পাওয়ার জন্য গ্রিক রমণীরা মধু, গোলাপ, জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতো । আবার কোথাও কোথাও কথিত আছে, গ্রীক সাম্রাজ্যে লিপস্টিকের প্রয়োগ শুধু পতিতাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পতিতাদের জন্য আইন দ্বারা বাধ্যবাধকতা ছিল গাঢ় রঙ ঠোঁট জুড়ে দেওয়ার। আবার অন্যদিকে রোমান নগরীতে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করতে ব্যবহার হতো লাল রঙের মাটি।
মিশরীয় রাণী ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করতেন যা তৈরি হতো মেরুন রঙয়ের বিটল পোকা থেকে। আবার মুক্তা গুঁড়া করে তার সাথে মাছের আঁশ গুঁড়া করে মিশিয়ে মিশরীয়রা ঠোঁটে ব্যবহার করত। বেগুনি এবং কালোর মত উত্তেজক রংগুলো খুব প্রচলিত ছিল মিশরীয় নারীদের মাঝে। সামুদ্রিক আগাছা থেকে আরোহিত বেগুনি ও লাল রঙ এর এক প্রকার পদার্থের সাথে ০.০১% আয়োডিন এবং কিছু ব্রোমিন মিশিয়ে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করত।
সুত্রঃ printerest
যা লিপস্টিক হিসাবে প্রয়োগ করা হতো। এছাড়া পোকামাকড় থেকে উদ্ভূত হত কারমিন নামক উপাদান সেই কারমিন লিপস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। এখনও লিপস্টিক এবং অন্যান্য প্রসাধনী পণ্যে কারমিন ব্যবহার করা হয়।মিশরীয়রা যেসব উপাদান ব্যবহার করতো তা অত্যন্ত ক্ষতিকর ছিল। জাপানেও নারীরা ভারী প্রসাধনী এবং গাঢ় লিপস্টিক ব্যবহার করতো। এখানেই সর্বপ্রথম লিপস্টিক মোম থেকে তৈরি করা হয়েছিল।
এরপর ইসলামি স্বর্ণযুগে, নবম শতাব্দীতে একজন আরব বিজ্ঞানী আবুলকাসিস একধরনের সলিড লিপস্টিক আবিষ্কার করেছিলেন। উপরের আলোচনা থেকে এটুকু বুঝা যাচ্ছে যে প্রাচীন যুগ থেকেই নারীদের ঠোঁট রাঙানোর একটা প্রথা চলে আসছে। প্রাচীন যুগের নারীদের মতো মধ্য যুগের নারীদের মধ্যেও ঠোঁট রাঙানোর প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যযুগে লিপস্টিকের চল থাকলেও তা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। খ্রিস্টধর্ম আবির্ভাবের সাথে সাথে গির্জা থেকে লিপস্টিক বা অন্য কোন মেকআপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তাদের ধারণা ছিল লাল ঠোঁট শয়তানের উপাসনার সাথে জড়িত। তবে ঔষধ হিসেবে ঠোঁট রঙিন করার অনুমতি ছিল। মধ্যযুগের পুরো সময়কালে মানুষ লিপস্টিক সামাজিক পার্থক্যের জন্য ব্যবহার করতো। যেমন:১২০০ এর দশকে ইতালির উচ্চ শ্রেণীর মহিলারা গোলাপি রঙের আর নিম্ন শ্ৰেণীর নিকৃষ্ট মহিলারা উজ্জ্বল লাল রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করত।

রেনেসাঁর যুগ (১৬০০ শতক)

এরপর এলো রেনেসাঁর যুগ। ষোড়শ শতকে ব্রিটিশ রানী প্রথম এলিজাবেথ ধর্মযাজকদের কথা গ্রাহ্য না করে ঠোঁটে লাল রং ব্যবহার শুরু করেন। তাঁকে ফ্যাকাশে, সাদা মুখের বিরুদ্ধে ক্রিমসন ঠোঁটের চিত্রগুলিতে দেখা যায়। এই ক্রিমসনটি কোচিনিয়াল, গাম আরবি, ডিমের সাদা অংশ এবং ডুমুরের দুধ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।
চিত্র : রানী এলিজাবেথ/সূত্র; encyclopedia Britannica

অষ্টাদশ শতক 

১৭৭০ সালে এই লিপস্টিক নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। বলা হয়েছিল, নারীরা দোষী সাব্যস্ত হবে, যদি পুরুষদের বিয়েতে প্রলুব্ধ করতে লিপস্টিক ব্যবহার করে।
চিত্র: Joerge Washington
এটা জেনে অবাক লাগবে যে,যুক্তরাষ্ট্রের জনক বলে পরিচিত জর্জ ওয়াশিংটন মাঝে মধ্যে ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন। ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস এবং ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের রাজত্বকালে নারী এবং পুরুষ উভয়ই খুব গাঢ় করে ঠোঁট আবৃত করে রাখতেন।

ঊনবিংশ শতক 

উনিশ শতকের (১৮০০ সালের শুরুতে) গোড়ার দিকে লিপস্টিক কে শুধুমাত্র আধুনিকতার চিহ্ন হিসেবে অনেক উচ্চ বংশের মেয়েরা, অভিনেত্রীরা ব্যবহার করতো। কালচে লাল রঙ ওই সময়ে খুব জনপ্রিয় সেড হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
সুত্রঃ wikipedia
“লিপস্টিক” শব্দটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ১৮৮০ সালে। আর ১৮৮৪ সালে প্যারিসের একটি সুগন্ধি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো বাজারে ছাড়ে লিপস্টিক। গেরলাইন নামে একটি ফরাসি সুগন্ধি কোম্পানি লিপস্টিক বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকারী প্রথম কোম্পানি হয়ে ওঠে। তাদের লিপস্টিক হরিণের চর্বি, ময়দা, মোম এবং ক্যাস্টর তেল দিয়ে তৈরি করা হত যা পরে একটি রেশম কাগজে আবৃত করে বিক্রি করা হত। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ রানী ভিক্টোরিয়া কসমেটিক্স সামগ্রী হিসেবে লিপস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। বিংশ শতকে লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা ফিরে আসার আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।

বিংশ শতক 

বিংশ শতকের গোড়ার দিকে এক ফরাসি অভিনেত্রী ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে ব্রিটেনের একটি মঞ্চে ওঠে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। সেই অভিনেত্রী আর কেউ নন, তিনি হলেন সারাহ বার্নহার্ড।
চিত্র: সারাহ বার্নার্ড/সুত্রঃ printerest
নিষিদ্ধ এই লিপস্টিকের সৌন্দর্যে উপস্থিত দর্শকদের তিনি বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। সারাহ বার্নহার্ড নিজের লিপস্টিক টিউবটিকে ফরাসি ভাষায় ‘স্টাইলো ডি’মর’ বলতেন। ইংরেজিতে যার অর্থ দাঁড়ায়- ‘লাভ পেন’ বা ভালোবাসার কলম।
১৯১০ : ১৯১০ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির ফিফ্থ এভেন্যুতে ‘রেড ডোর স্যালোন’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মার্কিন সমাজের প্রচলিত রীতি ভেঙে দিয়েছিলেন এলিজাবেথ আর্ডেন নামে এক নারী।
১৯১২ : ১৯১২ সালে নিউইয়র্কে এলিজাবেথ আর্ডেনের স্যালোনের সামনে দিয়ে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল হাজার হাজার বিপ্লবী নারী ভোটাধিকারের দাবিতে। আর এই আন্দোলনের চেতনা থেকেই তিনি ‘রেড ডোর রেড’ নামে একটি লাল লিপস্টিকের ডিজাইন করেছিলেন। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘রেভলন’ তারই একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
সুত্রঃ বণিক বার্তা
এমন পরিস্থিতিতে নিজের স্যালোনের সামনে দিয়ে নারীদের মিছিলটি যাওয়ার সময় মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের তিনি একটি করে লিপস্টিক উপহার দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন লাল রংটি যেন মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের আশা, ক্ষমতা, শক্তি এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৯১৫ : মরিস লেভি নামে একজন আমেরিকান ১৯১৫ সালে প্রথম ধাতব লিপস্টিক টিউব নিয়ে এসেছিলেন এবং এভাবে প্রসাধনীটির ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়েছিল।
বিগত দশকের ঠোঁট পালিশ বা লিপস্টিক
সুত্রঃ printerest
দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ৪৪ বছরের কম বয়সী কোনো নারীর লিপস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
১৯২০ : সত্যিকার অর্থেই এই লাল লিপস্টিক মার্কিন নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯২০ সালে ভোটাধিকার অর্জন করেন তারা।
১৯২৩ : ১৯২৩ সালে James Bruce Mason jr লিপস্টিকের swivel up টিউব তৈরি করেছিলেন এবং আমাদেরকে আধুনিক লিপস্টিকরার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বর্তমানে যেটা আমরা লিপস্টিক হিসাবে জানি। সেই সময় চেরী, গাঢ় লাল, ব্রাউন রঙের লিপস্টিক বেশি জনপ্রিয় ছিল।
সুত্রঃ printerest
হেলেনা রুবেনস্টাইন ধনুকের মতো আকৃতি আনা যায় ঠোঁটে এমন লিপস্টিক আবিষ্কার করেছিলেন যা নারীদের ঠোঁটে লোভনীয় আকৃতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নারীরা তীরের শেপ আনার জন্য স্টেন্সিলস ব্যবহার করতেন। এই সময় ফরাসী রসায়নবিদ পল ব্রাউজারক্র্যাকস লিপস্টিক রুজ বেইজার আবিষ্কার করেছিলেন যা “Kiss-Proved” ছিল।
চ্যানেল, গেরলাইন, এলিজাবেথ আরডেন এবং এস্তি লডার এর মতো সংস্থা লিপস্টিক বিক্রি শুরু করে।
১৯৩০ : ওইসময় প্রায় ৫০ ভাগ যুবতীরা পরিবার এর সাথে ঝগড়া করতো লিপস্টিক লাগানো নিয়ে। ম্যাক্স ফ্যাক্টর লিপগ্লস বিক্রি শুরু করেন এবং তা জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। ডিপ প্লাম এবং বারগুন্ডি সেই সময় খুব জনপ্রিয় ছিল।
ঠোঁট পালিশ বা লিপস্টিক এর পুরাতন একটি বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

 

১৯৪০: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ পেরিয়ে ১৯৪০-এর দশকে মহিলারা যুদ্ধের সীমান্তে পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করেছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহ সময়ে নারীদের লাল লিপস্টিক পরে মনোবল বাড়াতে দেখা গিয়েছিল।

সেই সময়টিতেই ‘ভিক্টরি রেড’ নামে একটি লিপস্টিকের ডিজাইন করেছিলেন এলিজাবেথ আর্ডেন।
১৯৫০ : ১৯৫০ এর দশকে মেরিলিন মনরো, গ্রেস কেলি, অদ্রে হেপবার্ন এবং এলিজাবেথ টেলরের মতো হলিউড তারকারা আরও মহিলাদের লিপস্টিক পরতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং ৬০% মহিলারা এই মুহুর্তে লিপস্টিক পরতেন।
বিভিন্ন মডেল এর সুন্দর ঠোঁট
সুত্রঃ printerest
১৯৫২ : ১৯৫২ সালে রাজ্যাভিষেকের সময় ব্যবহার করার জন্য রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ নিজস্ব লিপস্টিক প্রস্তুত করিয়েছিলেন। লিপস্টিকের শেডটি রানীর প্রিয় ব্র্যান্ড ক্লারিনদের দ্বারা কাস্টমাইজ করা হয়েছিল এবং তাকে ‘দ্যা বালমোরাল’ বলে ডাকা হয়েছিল।
সুত্রঃ printerest
হ্যাজেল বিশপ সাফল্যের সাথে একটি ‘চুম্বন-প্রুফ’ লিপস্টিকটি নিয়ে এল। খুব শীঘ্রই, ‘রেভলন’ তাদের নিজস্ব ধরণের স্মুড প্রুফ লিপস্টিক নিয়ে আসে এবং তারপরে ব্র্যান্ডের যুদ্ধ শুরু হয়।

পুরাতন একটি লিপস্টিক এর বিজ্ঞাপন

১৯৬০-৭০ : ১৯৬০-৭০ দশকে লিপস্টিক আর্ট থেকে অনুপ্রেরণা তৈরি করে বিভিন্ন ধরণের শেড ফ্যাশন দৃশ্যে এসেছিল প্রত্যেকের পছন্দ অনুসারে। ১৯৭৩ সালে বনি বেল চালু করেছিলেন, ‘লিপ স্ম্যাকারস’। এয়ারিনের গোলাপ বাল্ম লিপস্টিক প্রেটি এবং প্রবালগুলি মেবেলিনের অরেঞ্জ ডেঞ্জারের মতো ছিল যুগের আইকনিক শেড।
 মেয়ে ঠোঁট পালিশ বা লিপস্টিক হাত নিয়ে বসে আছে
সুত্রঃ printerest
১৯৮০ : ১৯৮০ সালে আপনার পোষাকের সাথে আপনার ঠোঁটের রঙটি মিলানো প্রচলিত ছিল। চেরি লাল রঙের লিপস্টিক ডিস্কো যুগের আবির্ভাবের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে আবার প্রচলন শুরু করে।
১৯৯০ : ১৯৯০ এর দশকে হালকা লিপস্টিক সহ গাঢ় রেখার ঠোঁটের চল ছিল। ম্যাক এবং আরবান ডিকের মতো ব্র্যান্ডগুলি দৃশ্যে এসেছিল।
বিভিন্ন দশকের ঠোঁট পালিশ বা লিপস্টিক
২০০৫: ২০০৫ সালে ক্যানসার বিজয়ী নারী পরিচালক জেরালিন লুকাস একটি বই লিখেন, যেখানে তিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে ‘ম্যাসেকটমি’-তে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপটটি তুলে ধরেছেন। ম্যাসেকটমি হলো- এমন একটি অস্ত্রোপচার, যার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের স্তন কেটে ফেলা হয়। জেরালিন তার বইয়ের শিরোনাম দিয়েছিলেন, ‘হোয়াই আই ওর লিপস্টিক টু মাই ম্যাসেকটমি’। অস্ত্রোপচারে যাওয়ার আগে নিজের ঠোঁটগুলোকে লিপস্টিকে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তার কাছে লাল লিপস্টিক হলো এমন একটি রং যা সাহসী নারীরাই পরে।
২০১৯ : চোখে কালো কাপড় বাঁধা, গলায় লাল স্কার্ফ আর ঠোঁটে লাল টকটকে লিপস্টিক। গত ডিসেম্বরে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে চিলির হাজার হাজার নারীর প্রতিবাদের ভাষা ছিল এই সাঁজ।
ঠোঁট এর ছবি
সুত্রঃ Daily Inqilab
তাই বলা যায়, লিপস্টিক শুধু প্রসাধনী সামগ্রী নয় বরং এটি সমগ্র নারীজাতির সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। আমাদের সকলেরই ধারণা লিপস্টিক শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজেই ব্যবহার করা হয় কিন্তু তা না এর ব্যবহার করে নারীরা তাদের অধিকার আদায় করে এসেছে এবং এখনো করছে । আর এই লিপস্টিকের ব্যবহার এতটা সহজ ছিল না যতটা এখন হয়েছে। সেই জন্য নারীদের অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই বলব লিপস্টিক আজীবন নারীদের সাথে ছিল, আছে এবং থাকবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here