আজকে শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিন, এই উপলক্ষ্যে একাত্তর বাংলাদেশ এর টিম এই কষ্টসাধ্য কাজটি করেছে, কষ্টসাধ্য বলছি কারণ যেই ব্যাক্তি তার ক্যারিয়ারে ১০০ টি শতক করছেন,আর এর মধ্যে অনেক উল্লেখযোগ্য ইনিংস আছে। তার এই বর্ণাঢ্য ক্রিকেট জীবনের সেরা কিছু শতক নীচে দেওয়া হলো:

১১৪ vs অস্ট্রেলিয়া, পার্থ, ১৯৯২: ( এই শতক এর মাধমে পুরা ক্রিকেট জগত শচীনকে চেনে)


শচীন তখনও উনিশ বছর বয়সে পা দেয় নি, আর তৎকালীন পার্থ এর পিচ ছিল পৃথীবির মধ্যে সব চেয়ে বেশি পেস এবং বউন্স বিশিষ্ট পিচ, এই পিচে ব্যাটিং করতে অনেক সাহস এর দরকার ছিলো আর সাথে দরকার ছিলো কুইক রিফ্লেক্স। আর অস্ট্রিলিয়ার দূর্ধর্ষ বোলিং লাইনআপ ছিলো তখনকার দুর্ধর্ষ পেসার মারভ হিউস আর মাকডোরম্যান্ট। উনিশ বছরের শচীন এই সব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে একটি দৃস্টিনন্দন শতক করেছিলেন, যার আলোচনা এখন পর্যন্ত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ান চ্যাপেল এই ইনিংসের আলোচনা আবার করেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক
পার্থ, ১৯৯২

১৬৯ vs সাউথ আফ্রিকা, কেপ টাউন, ১৯৯৬: ( পাল্টা আক্রমণ এর একটি বিশেষ নমুনা)


টেন্ডুলকার এই সময় দলের অধিনায়ক ছিলেন, আর সাউথ আফ্রিকান পিচ বরাবরই কঠিন ধাঁচের এর প্রমাণ হচ্ছে এই সিরিজ এর আগের টেস্ট ম্যাচটিতে ইন্ডিয়া এক ইনিংস এ ১০০ এবং আরেক ইনিংসে ৬৬ রানে গুটিয়ে যায়, তারপর এই ম্যাচে সাউথ আফ্রিকা ৫২৮ রান করার পর সন পলক , এলেন ডোনাল্ড, লান্স ক্লুশনার এর বোলিং তোপের মুখে পরে ইন্ডিয়া ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায়। এরপর এক অদ্ভুত কাউন্টার-পানচিং জুটি বাঁধেন শচীন এবং মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। আজহারউদ্দিন ১১৫ রানে আউট হয়ে গেলেও শচীন টেলএন্ডারদের নিয়ে লড়ে যান এবং ইন্ডিয়াকে সম্মানজনক স্কোরে নিয়ে যান।

সাউথ আফ্রিকা বিপক্ষে শতক
কেপ টাউন, ১৯৯৬

১৫৫ নট আউট vs অস্ট্রেলিয়া, চেন্নাই, ১৯৯৯: (টেন্ডুলকার বানম ওয়ার্ন )


এই সিরিজটি বিখ্যাত টেন্ডুলকার বানম ওয়ার্ন এর জন্য , প্রথম টেস্ট এর প্রথম ইনিংসে ওয়ার্ন শচীনকে ৪ রানে আউট করে দেন কিন্তু শচীন এর প্রতিশোধ নেন দ্বিতীয় ইনিংসে, ১৯১ বলে ১৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন, এই ইনিংসটি তিনি ১৫ টি চার আর ৪ টি ছক্কা দ্বারা সাজিয়েছিলেন। এই ইনিংসে তিনি সবচেয়ে চড়াও হয়েল ব্যাটিং করেন ওয়ার্ন এর বিপক্ষে। অনেকের মতে এই শতকটি মাস্টারক্লাস এবং স্পিন বলে কি করে আউট না হয়ে রান করা যায় তারও একটি নমুনা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক
চেন্নাই, ১৯৯৮

১৪৩ vs অস্ট্রেলিয়া, শারজাহ, ১৯৯৮: (তৎকালীন সময়ের ঝড়ো শতক)


প্রথমে বলি এই ম্যাচটি ইন্ডিয়া হেরে গেছিলো কিন্তু এই ম্যাচটি ইন্ডিয়ার এই টুর্নামেন্ট জিতানোতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে, এবং এই টুর্নামেন্ট জেতার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব একমাত্র শচীনের। ম্যাচের প্রেক্ষাপট ছিল যে, ইন্ডিয়া কে ২৫০ রান তাড়া করতে হবে ৪৫ ওভারে,ওভার কাটার কারণ সেদিন শারজাহতে “desert Strom” হয়েছিল। কিন্তু ইন্ডিয়া কে ফাইনাল খেলতে হলে নিউজিল্যান্ড এর থেকে বেশি রান রেট অর্জন করতে হবে তার মানে ইন্ডিয়াকে এই রান তাড়া করতে হবে ৪১ ওভারে। এই রান তাড়া করতে গিয়ে ১২৯ রানে ৫ উইকেট হারায় ইন্ডিয়া কিন্তু তারপর শুরু হয় তান্ডব, শচীন এর তান্ডব ১২২ বলে ১৪৩ রানের শতক এই রান করতে গিয়ে তিনি ৯ টা চার আর ৫ টি ছয় মারেন। সেদিন “ desert Strom” হয়েছিল শারজাহতে, আর শচীন এর ব্যাটেও হয়েছিলো ঝড়,এই দুইটা কারণে বিখ্যাত কমেন্টেটোর টনি গ্রেইগ এই শতকটির নাম দেন “ desert storm”, তার পর থেকে এই শতকটি এই নামেই পরিচিত।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক
শারজাহ, ১৯৯৮

১৪০ নট আউট vs কেনিয়া, ব্রিস্টল, ১৯৯৯: ( ইমোসনকে হার মানানো শতক)


লিস্টের প্রথম ওয়ার্ল্ড কাপ শতক, তাও কেনিয়ার বিপক্ষে , অনেক তর্ক উঠতেই পারে কিন্তু লিস্ট এ দেয়ার কিছু বিশেষ কারণ আছে যেমন এই ম্যাচের আগে শচীন এর পিতা মারা যায়,সে এই ম্যাচটি খেলবে কিনা এটা অনিশ্চিত ছিলো এবং ওয়ার্ল্ড কাপ এ ইন্ডিয়ার অবস্থান ভালো ছিলো না এর আগের দুই ম্যাচ ইন্ডিয়া হেরে গেছিলো। এর থেকে বুঝা যায় অবস্থা মোটেও অনুকূল ছিলো না। সবাই তাক লাগিয়েদে টেন্ডুলকার এই ম্যাচ খেলতে নামেন এবং জুড়ে দেন তার ক্যারিয়ারের একটি স্মরণীয় শতক, এই শতক গড়ার সময় দ্রাবিড় এর সাথে গড়েন ২৫৮ রানের স্মরণীয় একটি পার্টনারশিপ।

কেনিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি
ব্রিস্টল, ১৯৯৯

১৩৬ vs পাকিস্তান , চেন্নাই , ১৯৯৯: (আমার দেখা সেরা শতক স্পিন বোলিং এর বিপক্ষে)


ইন্ডিয়া বানম পাকিস্তান এর সিরিজ মানেই হাই ভোল্টেজ, সিরিজর প্রথম টেস্ট ম্যাচ পাকিস্তানের তুখোড় বোলিং লাইনআপ, প্রথম ইনিংসে শচীন শুন্য রানে আউট , দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান দেয়া টার্গেট হলো ২৮১ যা চেন্নাই এর পিচে পাহাড়সম এবং পাকিস্তানের বোলিং লাইন অপে ছিলো ওয়াসিম,ওয়াকর,সাকলাইন এর মত বোলার, রান তাড়া করতে নেমে ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারায় ইন্ডিয়া কিন্তু নাঈম মঞ্জিয়কে নিয়ে লড়ে যান শচীন , এর মধ্যে তিনি ইনজুরির শিকার হোন কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি এই ভাবেই তার শতক পূর্ণ করেন। তিনি ইনজুর্ড না হলে হয়তবা ইন্ডিয়াকে ১১ রানে হারতে হতো না সেদিন । টেন্ডুলকার নিজেও এই সেঞ্চুরীকে তার সেরা সেঞ্চুরি তালিকায় রেখেছেন।

পাকিস্তান এর বিপক্ষে শতক
চেন্নাই , ১৯৯৯

২৪১ নটআউট vs অস্ট্রেলিয়া, সিডনি , ২০০৪: ( আমার দেখা শচীন এর প্রথম ডাবাল সেঞ্চুরি)


এই সিরিজে শচীনকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়, কারণ দ্রাবিড়, সেওয়াগ, লাক্সমান সবাই পারফর্ম করেছিলো, সিরিজও চলছিল টান টান উত্তেজনাই কিন্তু টেন্ডুলকার পারফর্ম করতে পারছিল না, এইটা ছিলো শেষ টেস্ট সিরিজ ছিলো সমতায়। এই রকম পর পরিস্থিতি শচীন কেন শচীন এবং কেন সে অদ্বিতীয় তা প্রমাণ করেছেন এই ইনিংসের মাদ্ধমে। এই শতক ছিলো ক্লাসিক শচীন এর ছোয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডাবাল সেঞ্চুরি
সিডনি , ২০০৪

১০৩ নটআউট vs ইংল্যান্ড, চেন্নাই, ২০০৮: ( চাপের মুখে শচীন এর সেরা একটি শতক)


এই ম্যাচটি ছিলো সিরিজের শেষ ম্যাচ, স্টারউস আর কালীনউড এর শতকের ঘাড়ে চেপে ইংল্যান্ড ৩৮১ রানের বিশাল টার্গেট দেয় ইন্ডিয়ার সামনে, চতুর্থ ইনিংসে এই রান করা ছিলো অনেক কঠিন। সেওয়াগ এর বলে বলে ৮৩ রান করে একটি ঝড় গতির স্ট্রাট দেয় ইন্ডিয়াকে , কিন্ত অফফর্মে থাকা টেন্ডুলকারের সামনে দ্বায়িত্ব আসে ইনিংস শেষ করার, তিনি যে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন তা প্রমাণ করেন এই শতক দ্বারা।

ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে শতক
চেন্নাই, ২০০৮

১৭৫ vs অস্ট্রেলিয়া, হায়দ্রাবাদ , ২০০৯: ( ওয়ানডেতে শচীন এর সেরা এক ইংনিস )


১৭৫ রান ১৪১ বলে বলতে গেলে ৩৫৮ রান তাড়া করার লক্ষ তিনি একাই ধরে ছিলেন আর লড়ে গেছেন, এই ইনিংস তিনি সাজিয়েছিলেন ১৫ টি চার এবং ৫ টি ছক্কা দ্বারা। অনেক চেষ্টা করেছিলেন ম্যাচ জিতানোর , ৩ ওভারে লাগতো মাত্র ১৮ রান কিন্তু এই সময় তিনি আউট হয়ে যান, সাথে সাথে ইন্ডিয়ার ইনিংসও গুটিয়ে যায়,হৃদয় বিদারক দৃশ্য নেমে আসে হায়দ্রাবাদে

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক
হায়দ্রাবাদ , ২০০৯

২০০ নটআউট vs সাউথআফ্রিকা, গোয়ালিয়ার, ২০১০: (এই রেকর্ডটি একমাত্র তারই প্রাপ্য)


কোন রেকর্ড শচীন এর সব রেকর্ড আছে এইটা আবার থাকবেও না, সবাই বলেছিলো তিনি ডাবল সেঞ্চুরী করতে পারবেন না, কিন্তু সব নিন্দুকের জবাব দেন তিনি এই শতকের মাধমে।

সাউথ আফ্রিকা বিপক্ষে ডাবাল সেঞ্চুরি
গোয়ালিয়ার, ২০১০

এইখানে আমরা শচীন এর শতকের প্রকার ভেদ করেছি বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবং আমরা তার প্রায় পুরো ক্যারিয়ার কাভার করার ও চেষ্টা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here