Aspirin: কথায় আছে মাথা থাকলেই ব্যাথা হয়। জীবনে মাথা ব্যাথা হয়নি এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর মাথা ব্যাথার কথা আসলেই যে ওষুধের কথা সবার আগে আসে সেটা aspirin। বাজারে যেটা একটা কোম্পানি ডিসপিরিন নামে বাজারজাত করে। আর একটু সহজ ভাবে বললে মনেহয় সুবিধাই হবে। যে ওষুধটা এক গ্লাস পানিতে ছেড়ে দিলে বুদবুদ উঠে পানিতে মিশে যায় ওই ওষুধটা কিভাবে আবিষ্কার হল সেই কথাই আজ জানবো। আঠারোশ শতকের কথা, ইংল্যান্ডে এক বাসিন্দা যার নাম রেভেন্ড এডমুন্ড স্টোন তৎকালীন রয়্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্টকে একটা চিঠি লিখলেন। চিঠিতে তিনি লিখলেন আগুস বা জ্বর এর চিকিৎসার জন্য তিনি উইলো গাছের বাকল বা ছাল ব্যবহার করে সফলতা অর্জন করেছেন। তখনকার সময়ে জ্বর এর প্রকোপ খুবই বেশি ছিল। অন্যদিকে উইলো গাছ যেটা কিনা জলা জমিতে আগাছার মতো প্রচুর পরিমানে হতো। মিস্টার স্টোন তার চিঠিতে আরো বলেছিলেন হয়তো উইলো গাছের কোন আশ্চর্য ক্ষমতা আছে যেটা জ্বর এর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। পরবর্তীতে জানা যায় যে উইলো গাছের বাকলের মধ্যে একধরণের তিতা পদার্থ থাকে যার নাম স্যালিসাইলিন, বিজ্ঞানী লেরওয়াক্স ১৮২৯ সালে প্রথম বারের মতো স্যালিসাইলিনকে উইলো গাছের বাকল থেকে আলাদা করেন। এই স্যালিসাইলিনকে বিজ্ঞানের ভাষায় গ্লাইকোসাইড বলে। এই গ্লাইকোসাইড নিয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

যাই হোক স্যালিসাইলিন যে জ্বর এর বিরুদ্ধে কার্যকর সেটা বিজ্ঞানী লেরওয়াক্সই প্রথম প্রমান করেন। পরবর্তীতে স্যালিসাইলিনকে পানির সাথে বিক্রিয়া করিয়ে স্যালিসাইলিক এলকোহল এবং পরে স্যালিসাইলিক এসিড এ পরিণত করা হয়। ইতিমধ্যে আর এক বিজ্ঞানী হফম্যান এই স্যালিসাইলিক এসিড কে বাতের ব্যাথা ও জ্বর এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। এদিকে আর এক কেমিস্ট বায়ার যিনি স্যালিসাইলিক এসিড কে আসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড এ রূপান্তর করেন, যেটা কিনা একই কাজ এ ব্যবহার করা হত। পাঠক আপনারা হয়তো ভাবছেন কি সব কেমিক্যাল এর নাম, আসল কথা ব্যাথা নাশক হিসাবে Aspirin এর কথাই তো জানতে পারলাম না। আসলেই এতসব কেমিক্যাল এর ভীড়ে এসপিরিন এর নামটাই তো আসলো না। এখন আসছি সেই কথাতেই। বিজ্ঞানী গেরহার্ডটি ১৮৫৩ সালে প্রমান করেন যে আসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড বাথাতেও সমান ভাবে কার্যকর। যাইহোক আরো অনেক পরে ১৮৯৯ সালে এই স্যালিসাইলিক এসিড কে প্রথম মেডিসিন হিসাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়। কিন্তু তখন ও একটা সমস্যা থেকেই যায়। যেহেতু স্যালিসাইলিক এসিড নিজে একটা এসিড সেহেতু এটি খাওয়ার সময় দাঁত ও মুখ পুড়ে যাওয়ার একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছিলো। তখন ওষুধ বিজ্ঞানের একটা ধারণা যেটার নাম প্রো-ড্রাগ সেই ধারণাটাই ব্যবহার করা হয়। সংক্ষেপে প্রো-ড্রাগ হলো সেই জিনিস যেটা ওষুধ কে কেমিক্যাল দ্বারা এমন ভাবে পরিবর্তন করা হয় যেটার দ্বারা শরীর এর কোন ক্ষতি হয় না কিন্তু শরীররে প্রবেশ করার পর ওই প্রো-ড্রাগ আবারও মেডিসিন এ পরিবর্তিত হয়ে যায়। এসপিরিন হলো আসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড এর প্রো-ড্রাগ। প্রিয় পাঠক অবশেষে তাহলে এসপিরিনকে পাওয়া গেলো যেটা আজ ও আমরা ব্যাথা নাশক হিসাবে ব্যবহার করে যাচ্ছি। পরবর্তী পোস্ট এ আরো একটি দৈনন্দিন বহুল ব্যবহৃত ওষুধ এর আবিষ্কার সম্পর্কে জানানো হবে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here