গল্পঃ আকাশ বাড়ি

লেখাঃ তানভীর তূর্য

বাবা কাঁদছেন। একদম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ছেলেমানুষি কান্না যাকে বলে। মা বাবাকে ধরে বসে আছেন। মায়ের চোখও ছলছল করছে। যেকোনো মুহূর্তে জল গড়িয়ে পড়বে। আমি অবাক হয়ে বাবার কান্না দেখছি আর ভাবছি আনন্দের অশ্রু হয়তো এটাকেই বলে। আপাও একটু পর পর ওড়না দিয়ে চোখ মুছে নিচ্ছে। বাবাকে কখনও এভাবে কাঁদতে দেখিনি। খুব বেশি হলে চোখ ছলছল করতে দেখেছি আর সেই ছলছল করা চোখে গোপন কিছু ব্যথা ভাসতে দেখেছি। আজ আমি, মা কিংবা আপা কেউই বাবাকে আটকাবো না। কাঁদুক একটু। এতে করে যদি দীর্ঘ যন্ত্রণাময় প্রতীক্ষার প্রহরগুলো নির্বাসনে যায়। আজকের দিনটা হয়তো জীবনের অন্যতম আনন্দময় দিন হিসেবে বাবার স্মৃতির ডায়েরিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। কারণ আজ বাবার দীর্ঘ আটত্রিশ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটেছে। আজ আদালতের রায়ে বাবা তার ভালোবাসা ফিরে পেয়েছেন। হ্যাঁ, বাবার ভালোবাসা। আটত্রিশ বছর আগে ছেড়ে আসা সেই ভালোবাসা আজ বাবার একান্তই নিজের করে হয়েছে। সেই ভালোবাসার নাম ‘আকাশ বাড়ি’। যেখানে বাবা তার শৈশব আর কৈশরের অনেকগুলো স্মরণীয় দিন অতিবাহিত করেছেন। সেখানে স্মৃতির আঙিনায় দুরন্ত কিছু সময় ছিল, মায়া ছিল, ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে তীব্র যন্ত্রনায় মুষড়ে পড়ে আটত্রিশ বছরের অপেক্ষা ছিল। সেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা খুঁজে পেতেই বাবার এত লড়াই, এত অপেক্ষা।

আর পাঁচটা ছেলেমেয়ে যখন তার বাবাদের কাছে নানারকম রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছে তখন আমি আর আপা বাবার কাছে আকাশ বাড়ির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। তবে আমরা মোটেও বিরক্ত হতাম না। প্রতিবারই সেই গল্প আমাদের কাছে নতুন নতুন উপাদান নিয়ে হাজির হতো। বাবা এক নাগাড়ে গল্প বলে যেতেন-

“জানিস, বহুকাল আগে আমরা যে ছোট্ট শহরে থাকতাম সেখানে আমাদের একটা বাড়ি ছিল। গাঢ় নীল রঙের দোতলা বাড়ি। দূর থেকে দেখলে মনে হতো এক টুকরো আকাশ নিচে নেমে এসেছে। তাই আমি বাড়িটার নাম দিয়েছিলাম ‘আকাশ বাড়ি’। যদিও বাড়িটার নাম ছিল রহমান বাগ। আমার দাদুর নামে নাম। সে নাম আমার মোটেই পছন্দ হতো না। তাই আমি নিজেই নাম দিয়েছিলাম আকাশ বাড়ি। যদিও কখনও কাউকে বলিনি। আকাশ বাড়ির সামনেই বিশাল একটা কৃষ্ণচূড়ার গাছ ছিল। প্রতিবার ফাল্গুনে যখন লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়ায় গাছটা ভরে যেত তখন মনে হতো আকাশ বাড়ি পরম ভালোবাসায় একটুখানি লাল বেনারসি নিজের গায়ে জড়িয়ে নিয়েছে। দেখে বড় ভালো লাগতো। আকাশ বাড়ির দক্ষিণ দিকে বেশ কিছু দূরে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের ছন্দ তুলে বয়ে যেত মাধুকরী নদী। শুনেছি নদীটা এখন ভরাট হতে হতে নিঃশেষ হওয়ার পথে। তখন বাড়ির চারপাশে অত বড় বড় দালানকোঠা তৈরি হয়েছিল না বলে ছাদে দাঁড়ালেই নদী দেখা যেত। গরমের সময় মাধুকরী থেকে ভেসে আসা দক্ষিণের খোলা হাওয়া মনপ্রাণ জুড়িয়ে রাখতো। আকাশ বাড়ির আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা ছিল ওই বিশাল ছাদ আর চিলেকোঠার ঘর। বিকেলবেলায় ছাদে আমি, রফিক, আলিম, মন্টু, কাদের, অতনুরা কত যে ঘুড়ি উড়িয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। আমাদের আড্ডার প্রধান কার্যালয় ছিল আকাশ বাড়ির সেই ছাদ। ছাদে সবাই একসাথে হলেই মা মুড়ি, চালভাজা, ডালমুটসহ আরও কত কিছু দিয়ে যেত। বৃষ্টির সময় বৃষ্টি শুরু হলেই সবাই হৈ হৈ করতে করতে ছাদে যেয়ে হাজির হতাম। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আর লাফালাফি করতে করতে কখন যে সময় চলে যেত টেরই পেতাম না। চিলেকোঠার ঘরটার নাম দিয়েছিলাম মন খারাপের ঘর। যখন কোনো কারণে প্রচণ্ড মন খারাপ হতো তখন ওই ঘরে যেয়ে চুপচাপ বসে থাকতাম। কেন জানি না একটু পরই মন ভালো হয়ে যেত। একবার স্কুলের রথীন স্যারের পড়া পেরেছিলাম না বলে সে কী মার! এত্ত মন খারাপ হয়েছিল যে বলার মতো না। বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু না বলে মন খারাপের ঘরে বসে ছিলাম। সবাই তো চিন্তিত হয়ে এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজি করেই যাচ্ছে কিন্তু কিছুতেই পাচ্ছে না। অবশেষে রবি কাকা এসে খুঁজে পান। রবি কাকা আমাদের বাড়ির বহু পুরানো কাজের লোক। সন্ধ্যার পর ছাদে যাওয়া একদম বারণ ছিল। কারণ বই খাতা নিয়ে বসতে হতো। মা ই যা একটু কড়াকড়ি করতো। বাবা একটুও বকাঝকা করতো না। বলতো, “যেটা ভালো লাগবে, করবি। যেটা ভালো লাগবে না, করবি না। জীবনে আনন্দে থাকাটা বড় প্রয়োজন।” ছাদে মা আচার রোদে দিতো। চুরি করে করে খেয়ে নিতাম। কী দুরন্তপনায় না দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো! হঠাৎ দেশে যুদ্ধ শুরু হলো। আমাদের ছোট্ট শহরেও যুদ্ধের আঁচ এসে লাগলো। যুদ্ধের সময় কত কী করেছি, জানিস? মুক্তিযোদ্ধাদের এবং তাদের অস্ত্রগুলো লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করতাম আমরা। আমার মন খারাপের ঘর মানে চিলেকোঠার ঘরটা আস্তানা হয়ে গিয়েছিল। মাধুকরী নদী দিয়ে তাদের যাতায়াত হতো। রাতের আঁধারে পথ চিনিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসার দায়িত্ব আমরা বন্ধুরা পালা করে করতাম। বিভিন্ন খবর এখানে ওখানে পৌঁছে দিতাম। আমাদের আশেপাশে অনেক দেশীয় শত্রু ছিল। কিন্তু তাদের মুখে ছাই দিয়ে আমরা অনেক কিছুই করতাম। দিনের বেলা দেখিয়ে দেখিয়ে পশ্চিমা শয়তানদের পক্ষে মিছিল করে বেড়াতাম। কেউ আর কোনোরকম সন্দেহ করতো না। যখন মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া ছোটখাটো কাজগুলো করতাম তখন মনে হতো আমরাও যুদ্ধ করছি। কী যে ভালো লাগতো! তবে ইচ্ছে করতো বন্দুক নিয়ে যুদ্ধে চলে যাই। কিন্তু সেই বয়স তো আর হয়েছিল না। একসময় দেশ স্বাধীন হলো। আমরা ইয়া বড় একটা পতাকা আকাশ বাড়ির ছাদে উত্তোলন করলাম। আকাশ বাড়ির সেই অসাধারণ দিনগুলো কখনও ভুলে যাওয়ার মতো না রে। আকাশ বাড়ি আমার অন্তরের সত্ত্বায়  মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।”

আকাশ বাড়ি নিয়ে বাবার গল্প শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু আমার আর আপার মুগ্ধতা শেষ হতো না। এই গল্পগুলো অসংখ্য বার শুনতে শুনতে আমাদের মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। এখন বড় হয়ে গেলেও ভুলিনি কিছুই। তবে যখনই বাবাকে জিজ্ঞেস করতাম, “বাবা, এখন কোথায় তোমার আকাশ বাড়ি? আমাদের কবে নিয়ে যাবে?” তখন বাবা শীতলে স্বরে শুধু বলতো, “হারিয়ে ফেলেছি রে। যদি কখনও খুঁজে পাই তোদের হাতে আমার আকাশ বাড়ি তুলে দিব।” তখন কেন যেন বাবার চোখ ছলছল করতো। সেই ছলছল করা চোখে কষ্ট থাকতো, বেদনা থাকতো। কোনো উত্তর পেতাম না। হয়তো ছোট বলেই সেই উত্তরের ভার গ্রহণ করা আমাদের জন্য সহজ ছিল না।

আজ বড় হয়েছি। বড় হয়ে বাবার ভালোবাসা হারিয়ে ফেলার ঘটনা প্রবাহগুলো মায়ের কাছে থেকেই জেনেছি। একদিন মাকে আমি আর আপা খুব করে ধরে জমে থাকা অনেকগুলো প্রশ্ন করেছিলাম, “মা, কোথায় এই আকাশ বাড়ি? কী হয়েছিল সেই বাড়িটার? কেন বাবাকে আদালত চত্বরে উকিলদের পেছনে পেছনে দৌড়াতে হয়? কেনই বা বাবা এত যন্ত্রণা বয়ে বেড়ান দীর্ঘকাল ধরে?” মা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেই জমে থাকা প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়েছিলেন। উত্তরগুলো আমাদের জন্য ছিল সত্যিই প্রচণ্ড বেদনাদায়ক। সবকিছু জানার পর যেন বুকে এক অন্যরকম ব্যথা অনুভব করেছিলাম।

দারুণ প্রাণোচ্ছলতায় বাবার কৈশোরের দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো। কিন্তু সেই উচ্ছলতায় ঘন কালো অন্ধকার এসে নিষ্ঠুর থাবা বসিয়ে দিলো। হঠাৎ করেই বাবার বাবা মানে আমার দাদু খুন হয়ে গেলেন। দাদি বাবাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়লেন। বাবা ছিলেন দাদু দাদির একমাত্র সন্তান। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কুনজর পড়লো আকাশ বাড়ির ওপর। দাদি তার সাধ্যমতো বাবা আর আকাশ বাড়িকে আগলে রাখতে শুরু করলেন কিন্তু বেশিদিন পারলেন না। ষড়যন্ত্রকারীরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে একদিন দাদি আর বাবাকে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলো। সেটা মেনে নেওয়া দাদি আর বাবার জন্য কত যে কষ্টকর ছিল তা অনুভব করার সাধ্য আমার নেই। দাদি আইনি সাহায্য চেয়েও কিছুই পেলেন না। যেন দাদির বিরুদ্ধে সবকিছু পরিকল্পনা করে সাজিয়ে রাখায় ছিল। জানা গেল, স্বয়ং বাবার রবি কাকাই পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে। সেই লোকটাই আকাশ বাড়ির আসল কাগজপত্র চুরি করে অন্যদের হাতে তুলে দেয়। যেদিন এক বুক হাহাকার নিয়ে দাদি আর বাবা আকাশ বাড়ি ছেড়ে আসেন সেদিন বাবা তার রবি কাকাকে বলেছিলেন, “উপরে যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে একদিন অবশ্যই এই বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াবো। এই বাড়ি আমার, এই বাড়ি আমাদের। তোমরা কেউ ধরে রাখতে পারবে না।” এরপর এই শহরে এসে অনেক লড়াই করে দাদি বাবাকে মানুষ করেছেন। দাদি চলে যাওয়ার পর বাবা একাই সেই লড়াই চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলে আজ এত বড় হতে পেরেছেন। নিজেই আজ এত বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে পেরেছেন। অফিস সামলে দীর্ঘদিন আদালতে আইনি ঝামেলার মোকাবিলা করেছেন। সেই মামলা জিতে বাবা প্রমাণ করেছেন ভালোবাসার শক্তি অসীম অনন্ত। কিছুদিন আগে মা বলছিলেন, “জানিস, দিনের পর দিন তোর বাবার এভাবে দগ্ধিত হওয়া আমি মোটেও সহ্য করতে পারি না। একদিন তোর বাবাকে বলেছিলাম, “এভাবে যে নীরবে কষ্ট বয়ে বেড়াও তাতে আমার খারাপ লাগে না বুঝি। তুমি কি আমার থেকেও তোমার আকাশ বাড়িকে বেশি ভালোবাসো?” তোর বাবা উত্তরে বলেছিলেন, ভালোবাসার কথা যখন বললে তাহলে সেই গল্পের মতো করে বলতে হয়, আমি তোমাকে লবণের মতো ভালোবাসি। রেহেনা, তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না। আকাশ বাড়িও যে আমার অস্তিত্বের সাথে বাঁধা পড়ে আছে। আকাশ বাড়ি ছাড়াও যে আমি থাকতে পারবো না।” এরপর কি আর কিছু বলা যায়, বল তো।” সত্যিই আজ বাবার পরম আনন্দের দিন। যে দিনটার জন্য বাবার আটত্রিশ বছরের যন্ত্রণাময় অপেক্ষা ছিল। বাবা এখন আর কাঁদছেন না। মা আর আপাকে সাথে নিয়ে পরিকল্পনা করছেন কীভাবে আগামীকাল আকাশ বাড়ি যেতে হবে, কখন রওনা দিতে হবে, কতক্ষণ লাগবে এসব। বাবার চোখেমুখে এক অন্যরকম তৃপ্তি খেলা করছে। দেখতে বড্ড ভালো লাগছে।

সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমাদের লম্বা যাত্রা শেষ হয়েছে। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আটত্রিশ বছর পর বাবা তার আকাশ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আর আমরা দাঁড়িয়ে আছি ছোটবেলায় বহুবার শোনা আকাশ বাড়ি নামক রূপকথার রাজপ্রাসাদের সামনে। গল্প শুনতে শুনতে আকাশ বাড়ি সত্যি সত্যিই আমাদের কাছে রূপকথার রাজপ্রাসাদ হয়ে উঠেছিল। চারপাশে অসংখ্য বড় বড় বিল্ডিং যেন বাড়িটাকে গিলে খেতে চাচ্ছে কিন্তু তার মাঝেও সে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। তবে সৌভাগ্যের বিষয় এটাই যে কেউ বাড়িটা এতদিনে ভেঙে ফেলেনি। নীল রঙটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলেও গোধূলীর ম্লান আলোয় সত্যিই মনে হচ্ছে এক টুকরো আকাশ নিচে নেমে এসেছে। আমি বাবাকে দেখছি। বাবা কেমন যেন স্তম্ভিত হয়ে অপলক দৃষ্টিতে আকাশ বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে পাঞ্জাবি ভিজে যাচ্ছে। মা আর আপার চোখেও জল। হঠাৎ বাবা দৌড়ে গিয়ে কিছু একটা খুঁজছেন। বুঝলাম কৃষ্ণচূড়া গাছটা। সেটা অবশ্য আর নেই। এখন তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করছি। বাবা অনর্গল কথা বলে আমাদেরকে আকাশ বাড়ির এটা ওটা চিনিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক যেমন করে ছোট বাচ্চারা তাদের প্রিয় খেলনাগুলো খুশী খুশী হয়ে অন্যদের দেখায়। বাবার মুখ জুড়ে পরম প্রশান্তির ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ছায়ায় আমি আমার প্রশান্তিটুকু খুঁজে নিচ্ছি।

এখন আমরা সবাই আকাশ বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। দক্ষিণ দিকে যেয়ে মাধুকরী নদীটা দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু তা আর সম্ভব না। আকাশ ছোঁয়া দালানকোঠায় মাধুকরী ঢাকা পড়ে গেছে। হঠাৎ মনে হলো দক্ষিণের দমকা হাওয়া এসে আমাদের ঘিরে ধরেছে। বাবা গোটা ছাদের এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছেন, মা আর আপা অবাক হয়ে বাবাকে দেখছে। কিন্তু আমি বাবাকে দেখতে পাচ্ছি না, দেখতে পাচ্ছি বহুকাল আগে ফিরে যাওয়া এক দুরন্ত কিশোরকে। যে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে আবার একটুখানি দুরন্ত হয়ে ওঠার। বাবা ছোটাছুটি থামিয়ে এখন ছাদের রেলিঙ ধরে একমনে আকাশের দিকে চেয়ে আছেন। মনে মনে হয়তো প্রার্থনা করছেন এভাবেই আকাশ বাড়ি ভালোবাসায় মাখামাখি হয়ে যুগের পর যুগ দাঁড়িয়ে থাকুক আর আমি প্রার্থনা করছি ভালোবাসার আকাশ বাড়ি নিয়ে বাবা ভালো থাকুক। এ কী আমার চোখেও জল চলে আসছে যে! থাক, আজ এই জল মুছবো না। ভালোবাসার অশ্রুজল কখনও মুছতে নেই।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here