কথায় আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল। চলমান এই করোনা সংকটে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে যদি বৃদ্ধি করা যায় তাহলে করোনা সংক্রমনের ঝুকি অনেকাংশে কমে যাবে। এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। আর যদি আপনি জ্বর, ঠান্ডা লাগা বা এই ধরনের রোগ যেমন, করোনা সংক্রমণ বা সাধারণ ফ্লু থেকে শরীরকে প্রাকৃতিক ভাবে সুরক্ষা দিতে চান, তাহলে দেরী না করে নিকটস্থ কোন বাজারে চলে যান এবং আপনার জন্য এমন একটা প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ বর্ধক খাবারের মেনু তৈরী করুন যাতে নিচে বর্ণিত ৬ টি খাবারের মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী খাবার থাকে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া সেই খাবার- দাবার সম্পর্কে।

 

 সাইট্রাস ফ্রুটস বা টক জাতীয় ফল 


গবেষনায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন সি মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। আমরা সবাই হয়তো জানি যে, শ্বেত রক্ত কনিকা নামে একটা জিনিস আমাদের সকলের রক্তে আছে। আসলে এই শ্বেত রক্ত কনিকাই হচ্ছে আমাদের শরীরের আর্মি। যারা জীবানুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদেরকে সবসময় অসুখ থেকে বাঁচায়। ভিটামিন সি যেটা করে তা হলো শ্বেত রক্ত কনিকা বেশী বেশী তৈরী করতে শরীরকে সাহায্য করে। ফলে যত বেশী আর্মি তত বেশী রোগ প্রতিরোধী হবে আমাদের শরীর। তাহলে ভিটামিন সি এর কাজ তো সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল কিন্তু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার কোনগুলো সেটাই তো বোঝা গেল না। এর উত্তর খুব সহজ, সোজা বাংলায় যত টক জাতীয় ফল আছে সবই ভিটামিন সি তে ভরপুর। উদাহরণ হিসাবে কমলা, আঙ্গুর, লেবু, জলপাই এর কথা বলাই যেতে পারে। এছাড়াও কাঁচা মরিচে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। যেহেতু ভিটামিন সি আমাদের শরীর তৈরী করতে যেমন পারে না তেমন জমিয়েও রাখতে পারে না। তাই প্রতিদিন ভিটামিন সি খাওয়ার দরকার আছে। আর যদি হয় সেটা করোনার মত রোগ থেকে বাঁচার জন্য তাহলে তো কথাই নাই।

 বিটা ক্যারোটিন 


বিটা ক্যারোটিন হলো এমন এক উপাদান যেটা শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না সাথে ত্বক বা চামড়াকে সুস্থ ও মসৃন রাখে। বিটা ক্যারোটিনকে রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এর থেকেও আগে রাখা হয় কারণ এটা রোগ প্রতিরোধের সাথে সাথে চোখ ও চামড়ার ও যত্ন নেয়। লাল ক্যাপসিকাম ও গাজর খুব ভাল বিটা ক্যারোটিন এর উৎস। আর একটা কথা বিটা ক্যারোটিন যুক্ত খাবার কিন্তু বেশীরভাগ সময় লাল বা কমলা রংয়ের হয়।

 ব্রকলি 


ব্রকলিকে অনেকে সবুজ ফুলকপি বলে থাকে। হ্যাঁ যেটা ভাবছেন সেটাই, ফুলকপির মত দেখতে সবুজ রংয়ের সব্জিই হলো ব্রকলি। ব্রকলিকে ভিটামিন, মিনারেল, এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ বোমা বলা হয়। কারন উপকারী এইসব উপাদান বিশেষ করে ভিটামিন এ, ই এবং সি অনেক বেশী পরিমানে ব্রকলিতে থাকে। এখানে এন্টিঅক্সিডেন্ট নিয়ে কিছু কথা বলা উচিৎ। এন্টিঅক্সিডেন্টে হচ্ছে সেই জিনিস যার কারনে আপনার চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে পারে না এবং দ্রুত বুড়ো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে, সেইসাথে যৌবনও ধরে রাখে। যাইহোক ব্রকলি একটি অন্যতম সাস্থ‍্য‍কর খাবার। কিন্ত একটা কথা মাথায় রাখতে হবে ব্রকলি যত কম রান্ন করা যায় ততই উপকারী উপাদানের পরিমান বেশী থাকে। রান্নার সাথে সাথে যা কমতে থাকে।

 রসুন 


পৃথিবীতে যত রকমের খাবারের মেনু আছে প্রায় সব খাবার রান্না করতে রসুন ব্যবহার করা হয়। এটা এমন এক জিনিস যেটি সুস্থ্য থাকতে হলে খেতেই হবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা রসুনকে ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করত। কোথাও কেটে গেলে বা সংক্রমণ হলে রসুন ব্যবহার করত। রসুনে অ্যালিসিন নামে একধরনের পদার্থ থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অপরাজেয় করে তোলে। এছাড়াও রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

 

 আদা 


আদা খুব ভাল ব্যথানাশক বিশেষ করে গলার ব্যথা। এছাড়া বমি বমি ভাবও দূর করতে পারে আদা। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া করোনায় আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে গলাব্যথা হয়। কিন্তু আদা সেবন করলে গলা ব্যথায় উপকার পাওয়া যাবে। সম্প্রতি আর একটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, আদা আপনার রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে পারে।

 

 গ্রীন-টি 


রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মজবুত করতে গ্রীন-টি এর বিকল্প নাই। গ্রীন টি তে এপিগ্যালোক্যাটেচিন নামক একধরনের পদার্থ থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পদ্ধতির উপর সম্প্রতি সময়ে অনেকগুলো গবেষনা হয়েছে। সেই গবেষনা নিয়ে পরে অন্য কোনদিন আলোচনা করব। এখানে আর একটা কথা বলে রাখা ভাল আমাদের শরীরে শ্বেত রক্ত কণিকার মতো টি-সেল নামে এক ধরনের কোষ থাকে যা জীবানুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এল- থিয়ানিন নামে এক ধরনের পদার্থ আমাদের শরীরে টি-সেল তেরী করতে সাহায্য করে। আর এই এল- থিয়ানিন পাওয়া যায় গ্রীন-টি তে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here