লিখেছেনঃ অনিমেষ


২৭ ক্লাব কোন আনুষ্ঠানিক নাম নয় নামটির প্রচলন শুরু হয়েছিল কিছু শিল্পীদের মৃত্যু নিয়ে যারা মাত্র ২৭ বছর বয়সে আকর্ষিক ভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল।তারা তাদের প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান শিল্পী ছিল এবং তাদের ছোট জীবনে তারা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।রক আ্যন্ড রোল মিউজিকের ইতিহাসে এই ক্লাব কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে
১৯৯৪ সালে কার্ট কোবাইন মারা যায় মাত্র ২৭ বছর বয়সে।তার মৃত্যুর পর ‘২৭ ক্লাব’ শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে উঠে,কারণ এই একই বয়সে জিম মরিসন,জ‍্যানিস জোপলিন,ব্রায়ান জোন্স এবং জিমি হেন্ড্রিরিক্সে নামে চার রক মিউজিশিয়ান ওই একই বয়েসে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭০ সময়কালীন সময়ে মারা যায়।আ্যমি ওয়ানহাউস যখন ২০১১ সালে ২৭ বছর বয়সে মারা যায়, তখন এই বয়সের ব্যাপারটি সবার মাঝে সারা জাগিয়ে তোলে।
ক্লাবটি মূলত সংগীতশিল্পীদের সাথে ব্যাপকভাবে সংযুক্ত থাকলেও পরে অনেক অভিনেতা ও শিল্পী ও এই ক্লাবটির সাথে সংযুক্ত হয়।
দুঃখের বিষয় হলেও তাদের বেশিরভাগ মৃত্যুই স্বাভাবিক ছিলোনা।তাদের বেশিরভাগই ছিল উচ্চমাত্রার ড্রাগ এডিক্টেড আবার কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছিল।
আমি এখানে কিছু মিউজিশিয়ান এর কথা বলবো যারা ২৭ ক্লাবটি সংগঠিত করেছিল।

জিম মরিসন


১৯৭৯ সালে ফ্রান্সিস ফোর্ড কপ্পোলা তার ‘দ‍্যা এন্ড’ নামক একটি গানে জিম ও জ‍্যানিসের সমান বয়সে মৃত্যু হবার ঘটনাটি উল্লেখ করার পরে জিম মরিসনের মৃত্যুর বিষয়টি অনেক রহস্যময় হয়ে ওঠে।জিম মরিসন আমেরিকান রক গ্রুপ ডোরস এর প্রধান সংগীতশিল্পী ছিলেন।তিনি সে সময়ের তরুণদের আকৃষ্ট করেছিলেন তার অসাধারণ গানের কথা ও কণ্ঠের কারণে।তার মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যই থেকে গেছে।৩ জুলাই ,১৯৭১ সালে তার বাসার বাথটাব থেকে তার গার্লফ্রেন্ড পামেলা কোর্সন তার মৃতদেহ পেয়েছিল।পরবর্তীতে জানা যায় তার গার্লফ্রেন্ড ও ২৭ বছর বয়সেই মৃত্যুবরণ করে।
Michael Ochs Archives/Getty Images

জ‍্যানিস জপলিন


রক মিউজিকের দুনিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি।তার গাওয়া শেষ গান ছিল ‘এ ওম্যান লেফ্ট লনলি’।১৯৭০ সালে রেকর্ডিং শেষে হোটেল রুমে এসে তিনি তার ডান বাহুতে হেরোইন নেন এবং একটি সিগারেট সেবন শেষে হটাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরের দিন তাকে মৃত অবস্থাতে পাওয়া যায়।তার মৃত্যুর প্রায় ৬ মাস পর তার ‘পার্ল’ আ্যলবামটি প্রকাশিত হয় এবং সেই সময় আ্যলবামটি শীর্ষ স্থান দখল করেছিল।
Michael Ochs Archives/Getty Images

ব্রায়ান জোন্স 


রোলিং স্টোনসের মূল প্রতিষ্ঠাতা।1969 তার নিজ বাড়িতে আ্যলকোহল ও ড্রাগ একত্রে সেবনের পর সুইমিং পুলে গোসলের সময় তার মৃত্যু হয়।পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তার মৃত্যু নিয়ে অনেকে অনেক প্রশ্ন তুলে এবং এই রহস্যের এখনো কোন সমাধান হয়নি।

brianjones

জিমি হেন্ডরিক্স


তার ক্ষুদ্র সংগীত কেরিয়ারেই ওয়ার্ল্ডের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন।তার ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অনেক বেপরোয়া ও মাতাল।১৯৬৯ সালে লন্ডনে তার বান্ধবীর সাথে থাকাকালীন সময়ে ভেসারেক্স নামে একটি শক্তিশালী ড্রাগ নেন অতিরিক্ত মাত্রায় সাথে মদ পান ও করেন যার ফলে তার মৃত্যু হয়।যদিও তার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক।

jimy-hendricks
কার্ট কোবাইন


‘নির্বাণ’ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং মৃত্যুর আগে রক ওয়ার্ল্ডের শীর্ষে ছিলেন তিনি। ৮ এপ্রিল ১৯৯৪ সালে কার্ট কোবাইনের মৃত দেহ একজন ইলেকট্রিশিয়ান আবিষ্কার করে।তিনি মূলত হতাশ ছিলেন কারণ একটি মামলাতে তার নিজের বাড়ি তিনি হারাতে যাচ্ছিলেন।সেই হতাশা থেকে তিনি সুসাইডের পথ বেছে নেন।এমনটাই লিখেছিলেন তিনি তার সুসাইড নোটে।
Kurt-Cobain
Michel Linssen/Redferns

আ্যমি ওয়ানহাউস


তার “ব্যাক টু ব্ল্যাক” আ্যলবামটি ছিল একবিংশ শতাব্দীর সেরা বিক্রিত আ্যলবাম।তবে তিনি তার জীবন নিয়ে অনেক হতাশা ও একাকীর্ততাই ভুগতেন।যার ফলে তিনি ড্রাগ এডিক্টেড হয়ে পড়েনএবং জুলাই ২০১১ সালে অতিরিক্ত মদ সেবনের ফলে তার মৃত্যু হয়।

amywinehouse

 

পরবর্তীতে আরো অনেক শিল্পী ও অভিনেতার সাথে ২৭ ক্লাব যুক্ত হয়।হয়তো ভবিষ্যতেও আরো অনেকেই এই ক্লাবে নাম লেখাবেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here