কোভিড-১৯ বা করোনা যেটার সূচনা বন্য প্রাণী থেকে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যে কারও অনেক বেশী কারণ এই ভাইরাস বাতাস এবং স্পর্শ উভয়ের মাধ্যমে ছড়ায়। বাতাসের মাধ্যমে এটি প্রায় ৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে আপনাকে সংক্রমিত করতে পারে। মূলত: আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি এবং কাশির মাধ্যমে এটির বিস্তার ঘটে। যেকোন বস্তুর উপরেও এই ভাইরাস অনেকক্ষন বেচে থাকতে পারে। আপনি যদি ওই সংক্রমিত বস্তুতে হাত দিয়ে স্পর্শ করেন এবং ঐ হাত মুখ কিংবা নাকে লাগান তাহলে আক্রান্ত হতে পারেন। এই ঘটনাকে মেডিকেলের ভাষায় বলে ফোমাইট ইনফেকশন। যাইহোক যদি সংক্রমিত হয়েই যান তাহলে কি হবে? আপনি প্রথম ২দিন থেকে ২সপ্তাহ কিছুই বুঝতে পারবেন না। তারমানে এই সময়টা আপনি সুস্থই থাকবেন, জানতেও পারবেন না যে আপনার শরীরেই বাসা বেধেছে কোভিড- ১৯। করোনার লক্ষন শুরু হবে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে, সোজা ভাষায় যেটা জ্বর সাথে কাপুনি এবং ঘাম। এই লক্ষন গুলো বেশ কয়েকদিন স্থায়ী হবে। মানুষ ভেদে প্রায় ২ দিন থেকে ৫দিন থাকতে পারে।এই সময়টাতে ঘুম খুবই জরুরী। যত বেশি ঘুম ততো বেশী আপনার শরীর করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ব করার শক্তি পাবে। সাধারনত এই পর্যায়ের পর অধিকাংশ মানুষ সুস্থ হয়ে যায়। যার জন্যই করোনাতে মৃত্যুহার এখন পর্যন্ত প্রায় ৪%।
করোনা সংক্রমনের ২য় পর্যায়ে আপনার ফুসফুস কার্যকারীতা হারাবে, এমনকি স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। শুধু ফুসফুস নয় করোনার জন্য অন্য ক্ষতি গুলো সম্পর্কে এখনো ভালভাবে জানা যায় নি যেমন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ ভাইরাস লিভার বা যকৃত কে অকার্যকর করে দেয়। যদি লিভার বা নিঃশাস নিতে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। হাসপাতালে আপনাকে কোয়ারান্টিনে রাখা হবে, যাতে আপনি অন্য কাউকে সংক্রমিত না করতে পারেন। সবচেয়ে ভীতির ব্যাপার হল এই যে ডাক্তার আপনাকে সুস্থ হওয়ার কোনো গ্যারান্টি দিতে পারবে না। অন্যদিকে এখনো কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও হয় নি। তারপর ও ডাক্তার আপনাকে কিছু ব্যথানাশক দিবে যাতে করে আপনি একটু ভাল বোধ করবেন। তবে আশার কথা এটাই যে যদি আপনি স্বাস্থ্য বান হন অর্থাৎ ধূমপান, মদ, ক্যান্সার বা ডায়বেটিস না থাকে তাহলে আপনি সময়ের সাথে সাথে সুস্থ হয়ে যাবেন। একটা কথা এখন পরিষ্কার যে করোনা আক্রান্ত হওয়া মানেই সাথে সাথে মৃত্যু নয়। তবে আপনার দ্বারা যেন অন্য কেউ আক্রান্ত না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে বিশেষ করে যারা বয়স্ক তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। পরিশেষে এটাই বলা যায় যে অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত মানুষই সুস্থ হয়ে যায়। সুতরাং ভীতি নয় আসুন সচেতন থাকি ও অন্যকে সচেতন করি যাতে করোনা আক্রমণ করতে না পারে। করোনা প্রতিরোধ সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন ও পরবর্তী পোস্ট দেখুন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here