করোনাভাইরাস ক্রমশ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে কিন্তু এর প্রতিকার হিসেবে কোন ওষুধ বা টিকা এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি কিন্তু অনবরত চেষ্টা চলছেই। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে মানবজাতি এখনও করোনার প্রতিকার থেকে কত দূরে আছে?

 কখন আসবে করোনার ভ্যাকসিন বা টিকা ? 


করোনার উপর গবেষণা চলছে নিরন্তর এবং এগিয়ে চলছে বিদ্যুৎ গতিতে। যার ফলাফল সরূপ এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ প্রকারের ও বেশি করোনা ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তো ভ্যাকসিন টিকার কার্যকারীতা এতটাই দ্রুত বুঝতে চাইছেন যে ঝুকি নিয়ে প্রাণীদেহে প্রথম পরীক্ষা না চালিয়েই মানুষের দেহে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যান্য গবেষকরা অবশ্য এখনও প্রাণীদেহে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর্যায়ে আছেন এবং তারা আগামী বছর নাগাদ মানবদেহে পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
যদিও এ বছরই করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গেছে তারপরও এখনো বহুদূর যেতে হবে। তার অর্থ দাড়ায় যে বাস্তবে যদি সব হিসাব নিকাশ ঠিক থাকে তো করোনার ভ্যাকসিন বা টিকা আগামী বছরের মাঝামাঝি ছাড়া পাওয়া যাবে না। আর যদি হিসাবে কোন ভূল হয় তাহলে কবে নাগাদ যে টিকা হাতে পাওয়া যাবে তার কোন হিসাব এই মুহুর্তে নাই। করোনা ভাইরাসের প্রজাতি দ্বারা পূরাতন যে সব ছোট ছোট মহামারী এর আগে পৃথিবীতে এসেছিল যেমন সার্স, মার্সসহ আরও কয়েকটি যাদের ভ্যাকসিন কিন্তু আজও আবিষ্কার হয় নি।

 করোনার টিকা কি সব বয়সের লোককে রক্ষা করতে পারবে ? 


বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে একরকম বলাই যায় যে এই টিকা খুব একটা সুফল বয়ে আনবে না। কারণ হিসাবে বয়ষ্ক মানুষের দূর্বল রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে দোষ দেওয়া যেতেই পারে।

 ভ্যাকসিন বা টিকার কি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে ? 


সকল ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, এমনকি আমরা বিভিন্ন রোগ থোক বাঁচার জন্য বাজারে প্রচলিত টিকার সবগুলোরই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। করোনা ভ্যাকসিন বা টিকাতে যে কি ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে সেটা যথাযথ পর্যবেক্ষন ছাড়া বলা সম্ভব না।

 কারা এই ভ্যাকসিন সবার প্রথমে পাবে ? 


ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরী বা বাজারজাত করণের প্রথম পর্যায়েই এটি সর্বপ্রথম কারা পাবে তার একটি তালিকা করা হবে। স্বাস্থ্যকর্মী যারা সবসময় করোনার সংর্স্পশে থেকে রোগীদের সেবা প্রদান করেন তারাই টিকা গ্রহিতার তালিকায় সর্বপ্রথমে থাকবেন। যেহেতু করোনা বয়ষ্কদের জন্য প্রাণঘাতি তাই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকবেন বয়ষ্করা যদিও তাদের মধ্যে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। তারপর তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকবে অন্যান্য বয়সের মানুষ।

 করোনার ওষুধ কতদূর ? 


করোনা যেহেতু ভাইরাস সেহেতু প্রতিনিয়ত যেসব এন্টি-ভাইরাল ওষুধ আছে সেসব দিয়ে ডাক্তাররা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কারণ আগে থেকে ব্যবহৃত এইসব ওষুধগুলো ব্যবহার করা অনেক নিরাপদ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল পুরাতন এন্টি-ভাইরাল ওষুধগুলো করোনার ক্ষেত্রে তেমন একটা কাজে আসে নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত ডাক্তার ব্রুস বলেছেন, পুরাতন এন্টি-ভাইরালগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ওষুধ মনে করা হচ্ছে করোনাতে কার্যকরি, সেটা হচ্ছে রেমডেসিভির।

যদিও রেমডেসিভির এর আবিষ্কার হয়েছিল ইবোলা ভাইরাস সংক্রমন মোকাবেলা করার জন্য তারপরও এই ওষুধটি অনেক ভাইরাস এর বিরুদ্ধে কার্যকর। অন্যদিকে মনে করা হচ্ছিল HIV এর ওষুধ লোপিনাভির এবং রিটোনাভির একসাথে প্রয়োগ করলে করোনা চিকিৎসায় ফলাফল আসবে কিন্তু ক্লিনিক্যাল সব তথ্যগুলো একরকম হতাশাজনক, যেখানে এই দুটো ওষুধই করোনার বিরুদ্ধে তেমন কোন ফলাফল আনতে পারে নি। আশার ব্যাপার হলো মার্কিন এক গবেষণায় ম্যালেরিয়া বিরোধী ওষুধ ক্লোরোকুইনিন এর উপর করা ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে এটি করোনা ভাইরাসকে মেরে ফেলতে সক্ষম। তারপরও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তথ্য এখনো যাচাই বাছাই করার এখনও বাকি আছে।

 এখন তাহলে কি করা উচিত ? 


যতদিন না টিকা বা কার্যকরি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে ততদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। করোনা মোকাবেলায় সচেতনতার পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত সরকারী নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আতংকিত না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here