ওপেন এন্ডিং মুভি বা সিনেমা কি? কেনই বা কোন মুভি ওপেন এন্ডিং বলে ধরা হয় ? এই সব মুভি নিয়ে আজকের আয়োজন, তবে হলিউডে অনেক ওপেন এন্ডিং মুভি আছে তবে আজকে আমরা হলিউড নিয়ে না, আজকের আলোচনা বলিউড নিয়ে
২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত ব্ল্যাক কমেডি ক্রাইম থ্রিলার আন্ধাধুন এর কথা আগে একটু বলে নি, এই মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আয়ুষ্মান খুরানা, মুভির শেষ দৃশ্যে দেখা যায় আয়ুষ্মান একটা ক্যান কে লাঠি দিয়ে বারি মারছে। কিন্তু মুভিতে তিনি একবার অন্ধের অভিনয় করেন মানে মিউজিক করার জন্য অন্ধ সাজেন , পরে কোন এক ঘটনাক্রমে তিনি এইবার সত্যি অন্ধ হয়ে যান তবে তিনি সত্যি কি অন্ধ হয়েছিলেন? নাকি আংশিক অন্ধ হয়েছিলেন?? নাকি কোন উপায়ে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে গিয়েছিলেন?? নাকি ওপেনিং দৃশ্যে দেখানো এক চোখ বিহীন খরগোশ এর মত তারও শুধু এক চোখ নষ্ট হয়েছিল?? এই রকম অনেক প্রশ্নের উত্তর দর্শকরা খুঁজে,এই জন্যই আন্ধাধুন একটি ওপেন এন্ডিং মুভি।
আন্ধাধুন মুভি তে আয়ুস্মান খুরন্না
আন্ধাধুন,২০১৮
তবে বলিউড এর দর্শকদের মাঝে এই ওপেন এন্ডিং ট্রামটা বহুল ভাবে পরিচালিত হয় এই আন্ধাধুন আলোচিত হওয়ার পর থেকে, এর আগেও বলিউডে অনেক গুলাই ওপেন এন্ডিং মুভি আছে যেইগুলা সম্পর্কে হয়তোবা অনেকেই জানে বা অনেকেই জানে না? এই রকম দশটি মুভির লিস্ট তৈরি করেছে 71 BD এর টিম। মুভিগুলার নাম ও কিছু বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।

১.লাঞ্চবক্স

২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রিতেশ বাত্রা পরিচালিত রোমান্টিক ড্রামা লাঞ্চবক্স। এই মুভিটির প্রযোজনা করেছেন অনুরাগ কাসাপ, অনুরাগ কাসাপ এর নাম এই লিস্ট বার বার আসবে , কেননা এই লিস্ট এর বেশির ভাগ সিনেমার সাথে তিনি জড়িত। এই বার আসি সিনেমায়, অভিনয়ে আছেন ইরফান খান, নিমরিতা কাউর এবং নওয়াজ উদ্দিন। এই খানে দেখানো হয়েছে , নিমরিতা কাউর তার স্বামীর উদ্দেশে প্রতিদিন লাঞ্চ বক্স এর সাথে একটি করে ভালোবাসার বা প্রেমের চিঠি দেয় কিন্তু লাঞ্চবক্স ও চিঠি ভুলে চলে যায় বিপত্নীক ইরফানের কাছে , শুরু হয় তাদের ভালোবাসা , শুরু হয় চিঠি আদান প্রদান কিন্তু ভালোবাসাকে তো পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে হবে, তারা দেখা করতে সম্মতি প্রকাশ করে কিন্তু এই খানে ঘটে যায় কিছু ঘটনা। তাদের কি দেখা হবে? ইলা কি তার স্বামীকে ছেড়ে আসবে? ইরফান কি নম্রতা কাউর এর সাথে অন্য কোথাও পাড়ি দিবে ? এই রকম অনেক প্রশ্নের মাঝে শেষ হয় মুভিটি।
ইরফান লাঞ্চবক্স মুভি এর একটি সিনে
লাঞ্চবক্স,২০১৩

২. নো স্মোকিং

অনুরাগ কাসাপ পরিচালিত এই মুভিটি একটি হিডেন জেম। অনুরাগ কাসাপ এই সিনেমার চিত্রনাট্য নিজেই লিখেছেন । নো স্মোকিং ২০০৭ যখন মুক্তি পায় তখন এইটি দর্শক এবং ক্রিটিক্স উভয়ের কাছে সমালোচিত হয় কিন্তু আস্তে আস্তে দর্শক ও ক্রিটিক্স উভয় এই মুভির আসল রহস্য বুঝতে পারে এবং পরবর্তীতে এই মুভিটি সবার কাছেই সমাদৃত হয়। আমার মনে হয় বলিউডের একমাত্র অধিবাস্তববাদ সিনেমা এইটি। সিনেমার মূল চরিত্রে আছে K (জন আব্রাহাম) যে কিনা একজন ধনী ব্যাবসায়ী এবং একজন চেন স্মোকার, তার এই অভ্যাসে বিরক্ত হয়ে তার স্ত্রী চলে যায় তারপর K শরণাপন্ন হয় বাবা বাঙালি ( পরেশ রাওয়াল ) নামক এক ব্যক্তির আছে যে কিনা ধূমপান ত্যাগ করতে সাহায্য করে , এর পর থেকে শুরু হয় সব অদ্ভুত কার্যকালাপ , কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা, কোনটা বাস্তব কোনটা অবাস্তব। দর্শকরা পুরা সিনেমা জুড়েই থাকে একরকম ধোঁয়াশার মধ্যে। মুভির শেষে অনেক প্রশ্ন থেকে যায় যেমন K সত্যি ধুমপান ত্যাগ করতে পারে? যেই ঘটনাগুলা ঘটেছে সেই গুলা কি বাস্তব?? নাকি আংশিক বাস্তব?? নাকি পুরাটাই K এর নিছক কল্পনা?? একেক জনের মনের একেক রকম প্রশ্ন।
নো স্মোকিং সিনেমার পোষ্টের
নো স্মোকিং,২০০৭

৩. দেব ডি

আবারও অনুরাগ কাসাপ পরিচালিত আরেকটি মুভি চলে আসলো। শরৎচন্দ্র চট্রপাধ্যায় এর কালজয়ী উপন্যাস দেবদাস এর Modern Adaptation হচ্ছে দেব ডি। এইখানে অনুরাগ অরজিনাল উপন্যাসকে অনুসরন করেলও , কাহিনী যত গড়ায় ততই তিনি নিজের মত করে কাহিনী পরিবর্তন করেন। এইখানেও তিনিটি মূল চরিত্র দেব , পারো এবং চন্দ্রমুখী। দেব আর পারোর কাহিনী অরিজিনাল দেবদাস মতো থাকলেও , চন্দ্রমুখীর গল্পটা একটু আলাদা, এই খানে চন্দ্রমুখী মানে কালকি কোচিন তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় একজন এর সাথে প্রেম এর সম্পর্কে জোড়াই, ওই লোক প্রেম এর সুযোগ নিয়ে কালকির একটা অশালীন ভিডিও বানাই এবং ঐ ভিডিওকে ছড়ায় দেয়, এর রেশ ধরে কালকির বাবা আত্মহত্যা করে এবং কোন উপায় না দেখে কালকি মনে চন্দ্রমুখী বেশ্যাবিত্তিতে নেমে যায় কিন্ত অরজিনাল দেবদাস এর সাথে অনুরাগের মডার্ন দেবদাস এর অমিল আছে ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যে। কি হয় দেব এর?? পারোর কি হয়?? চন্দ্রমুখী কে দেব কে ভালো করতে পারে?? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখেতে হবে দেব ডি।
দেব ডি মুভি তে পারো এবং দেব
দেব ডি,২০০৯

৪.বদলাপুর

শ্রীরাম রাঘাবান পরিচালিত রিভেনেজ থ্রিলার বাদলাপুর। মুভির থিম ডার্ক, এই খানে দেখানো হয় ব্যাংক ডাকাতির সময় রাঘু মানে বারুন ধাওয়ান এর স্ত্রী আর পুত্র , ব্যাংক ডাকাতদের হাতে নিহত হন, দুই জন ব্যাংক ডাকাতের মধ্যে একজন লায়েক মানে নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী ও অন্যজন ভিনায় পাঠাক। খুন করে টাকা নিয়ে পালানোর সময় লায়েক নিজে পুলিশ এর কাছে ধরা দেয় এবং তার পার্টনারকে টাকা নিয়ে পালানোর রাস্তা করে দেয়। রাঘু এই দিকে স্ত্রী আর পুত্র হারানোর শোকে কাতর সে লায়েককে মার পিট করে এবং বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসা বাদ করে কিন্তু লায়েক কোনভাবেই স্বীকার করে না যে সেই খুন করেছে,বার বার তার পার্টনার মনে ভিনায় পাঠক এর দোষ দেয় কিন্তু সে তো নির্দোষ। ১৫ বছর পর যখন লায়েক মনে নওয়াজ মুক্তি পায় তখন আবার সে বিভিন্নভাবে রাঘুকে manipulate করতে থাকে যে ভিনায়ই আসল খুনি। অবশেষে রাঘু ভিনায় ও তার স্ত্রীকে খুন করে ফেলে, তখন নওয়াজ স্বীকার করে রাঘুর স্ত্রী আর পুত্রকে সেই খুন করে কিন্তু ঘটনাটি হয় ভুলে। অনেক গুলা প্রশ্ন থেকে যায় মুভি শেষে যে, রাঘু কি পুলিশ এর হাত থেকে বাঁচতে পারবে?? রাঘু কি psychopath এ পরিণত হবে?? আর লায়ক এরই বা কি হবে?? এই রকম অনেক প্রশ্নের মাঝে শেষ হয় বাদলাপুর।
রাঘু বাদলাপুর এ দাড়িয়ে আছে
বদলাপুর, ২০১৫

৫. গো গোয়া গন

অনেকগুলা ডার্ক থিমের মুভি নিয়ে আলোচনা করা হলো, বিষয়টাকে হালকা করা যাক। ২০১৩ মুক্তিপ্রাপ্ত রাজ ও ডিকে পরিচালিত বলিউড এর একমাত্র জম-কম বা জোমেডি গো গোয়া। অনেকে লিস্ট এ মুভি রাখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু আমার মতে আগামী বছরগুলোতে এই মুভি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হবে। কাহিনীতে আসা যাক, গল্প হচ্ছে তিন যুবকের তাদের মধ্যে দুই জন খুব বেপোরোয়া মদ আর ড্রাগস নিয়েই থাকে, তাদের এক জনের ব্রেক আপ হয় এবং তিন নাম্বার বন্ধু মানে যে ভালো তার অফিসের মিটিং হবে গোয়াতে , এই দুইজনও তার সাথে যেতে চায় এবং এক প্রকার জোর করেই তার সাথে গো যায়। গোতে তারা একটি রেভ পার্টিতে জয়েন করে এবং তারা তিনজন বাদে সবাই একটা অজানা রাশিয়ান ড্রাগস নেই, খেল শুরু হয় সকালবেলা যারা যারা ওই ড্রাগস নিয়েছিল সবাই জোম্বিতে পরিণত হয়। এর মধ্যে এন্ট্রি হয় বরিস (সাইফ আলী খান) এর যে কিনা রাশিয়ান ড্রাগ মাফিয়া, তারপর ঘটে সব মজার মজার ঘটনা। রাজ ও ডিকে অনেক অভিনব কায়দায় এই মুভির গল্প বলেছেন। তবে মুভির শেষ দেখা যায় তারা ওই আইল্যান্ড থেকে গোয়াতে এসেছেন কিন্তু এই অসুখ গোয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে, মুভি এই খানেই শেষ। কি হবে এখন?? তারা কি বাঁচতে পারবেন? আর কতদুর ছড়িয়েছে এই অসুখ?? এই অসুখ এর ঔষধ কি?
গো গোয়া গন মুভি এর একটি সিন
গো গোয়া গন,২০১৩

৬.উড়তা পাঞ্জাব

২০১৬ মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম একটি বিতর্কিত মুভি উড়তা পাঞ্জাব। এই খানে পাঞ্জাব এর সত্যিকার অৱস্থা দেখানো হয়েছে , দেখানো হয়েছে পাঞ্জাবের যুব সমাজ কি করে রাপ সঙ্গীতের এবং রাপ গায়কের খারাপ দিকটা বেছে নিচ্ছে। সিনেমাটিতে প্যারালাল ভাবে চারজন মানুষের কাহিনী চলতে থাকে, রাপ সিঙ্গার ও ড্রাগ অডিক্ট শহীদ কাপুর , দিন মুজুর আলিয়া ভাট, পুলিশ অফিসার দিলজিত এবং ডাক্তার কারিনা কাপুর। ঘটনাক্রমে মুভিটি দুইটি মূল কাহিনীতে ভাগ হয়ে যায় , একটি হলো শহীদ আর আলিয়া এর ট্রাক এবং আরেকটি হলো কারিনা ও দিলজিত এর ট্রাক। দিলজিত আর কারিনা লড়াই করেন ড্রাগস এর বিরুদ্ধে এই লড়াই শুরু হয় যখন দিলজিতের ভাই ড্রাগ আড্ডিক্টে পরিণত হয় এবং শহীদ আর আলিয়া লড়াই করেন নিজেদের স্বভাবের সাথে এই ভাবে চলতে থাকে কাহিনী কিন্তু সিনেমার ক্লাইম্যাক্স এ ঘটে যায় কিছু ঘটনা এবং থেকে যায় কিছু প্রশ্ন, দিলজিত কি তার ড্রাগস এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন? শহীদ আলিয়াকে কি বলে ডেকেছিল মেরি জান নাকি মেরি জেন?? শহীদ আর আলিয়ার এক হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?? দিলজিত এর ভাই এর কি হবে? ওহঃ বলতেই ভুলে গিয়েছিলাম, . উড়তা পাঞ্জাব অনুরাগ কাসাপ প্রযোজিত মুভি।
টমি সিং এর চরিত্রে শাহিদ কাপুর
উড়তা পাঞ্জাব,২০১৬

৭.মাসান

২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নিরাজ গাইউহান পরিচালিত মাসান একটি অসাধারণ মুভি। এই মুভিটি দেখে আমি এক রকম তন্দ্রার মধ্যে ছিলাম। এত মুগ্ধ হওয়ার কারণ একটাই এত সাধারণভাবে কি করে এত পাওয়ারফুল একটা মুভি তৈরি করা যায়। মুভির দুইটা মূল চরিত্র হচ্ছে দেবী ও দীপক। দেবীর জীবনে চলছে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করা নিয়ে সমাজের দেয়া কলঙ্ক মুছার লড়াই আর দীপক হলো বেনারসের ডোম সম্প্রদায়ের ছেলে কিন্তু তার প্রেম হয় উঁচু সম্প্রদায়ের মেয়ে সালুর সাথে , তাদের মিষ্টি প্রেমের গল্প চলতে থাকে কিন্তু হঠাৎ করে ঘটে অঘটন, দীপক একদিন লাশ পরিস্কার করতে করতে একটা আঙ্গুল দেখতে পান এবং আংটিটা যে সালুর পরে তিনি বুঝতে পারেন ঐটা সালুর। এই সিনেমার মূল চরিত্র দেবী আর দীপক এর পুরা সিনেমায় দেখা হয় নি কিন্তু সিনেমার শেষে তাদের মধ্যে একটা মাত্র শক্তিশালী কথোপকথন হয় যার জন্য আমরা এই মুভিটা এই লিস্ট এ রেখেছি। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় তারা একই নৌকায় বসে বেনারসের একটা জায়গা সঙ্গম এর উদ্দেশে যাত্রা করছে। এই খান থেকে কি তারা নতুন কিছু খুঁজে নিবে?নাকি তারা নতুন কোন যাত্রা শুরু করবে?? তারা কি ভুলতে পারবে তাদের দুঃখ?? এই রকম অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হয় এই মুভির শেষ দৃশ্যের পর।
দিপক ও সালু
মাসান, ২০১৫

৮. পিকু

২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অসাধারণ ড্রামা হচ্ছে পিকু। এই মুভিতে বাবা মেয়ের অন্যরকম একটা সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। মুভির এই রকম থিমটাকে এত লাইট ভাবে সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য পরিচালক সুজিৎ কে স্যালুট। বেশি কোথায় না যায়, মুভিতে মেয়ে তার বাবাকে নিয়ে কলকতার উদ্দেশে রওনা হয়, এবং সেই গাড়ির ড্রাইভার রানা ( ইরফান খান), তার সাথে পিকুর (দীপিকা) এর অন্যরকম একটা রসায়ন দেখা যায়, তারা কিন্তু কখনই একে অপরকে ভালবাসার প্রকাশ করেন নি। সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা যায় ইরফান ব্যাডমিন্টন খেলছে, পিছন থেকে পিকু দেখছে তাদের মধ্যে কিছু কথা হয়। সেই খান থেকেই জাগে বিভিন্ন প্রশ্ন, পিকু এই রানার ভবিষ্যত কি?? তদের সম্পর্ক কি ?? তদের মধ্যে কি ভালোবাসার সম্পর্ক হবে??
পিকু মুভি এর সিনে দিপিকা ও ইরফান
পিকু,২০১৫

৯. রকস্টার

ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রকস্টার মুভিটি , এই প্যানেলের সব মেম্বারদের খুব পছন্দের মুভি। ওই জন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বীটা ছাড়া এই লিস্ট এ জায়গা করে নিয়েছে, কিন্তু অনেকেই বলবে এই মুভি এই লিস্টে থাকার যুক্তি কি। এই মুভি যেই খান থেকে শুরু হয় সেই খানেই শেষ হয়। এই মুভির শেষ দৃশ্যের ইতালির কোন এক কনসার্টে নাদান পরিনদে গান গাইছে জর্ডান(রণবীর কাপুর) দর্শক তার গানে মত্ত হয়ে উল্লাস করছে কিন্তু জর্ডান এর মনে চলছে হির(নার্গিস ফাকরি) এর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ,তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, চাদরের তোলে গল্প করছে আমরা সব দর্শকরা চাই এই সিনেমা হ্যাপি এন্ডিং দিয়ে শেষ হোক কিন্তু তা করেন নি ইমতিয়াজ , আমাদের মনে কিছু হৃদয়বিদারক প্রশ্ন দিয়ে যান যেমন জর্ডান কি পারবে নিজেকে সামাল দিতে? নাকি তার সাথে হবে ভাগের পরিহাস?
জর্ডান ও হির
রকস্টার,২০১১

১০. দিল ধরাকনে দো

২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিল ধরাকনে দো একটি মর্ডান ফ্যামিলি ড্রামা। জোয়া আক্তার নিপুণ ভাবেই পরিচলানা করছেন এই মুভি কিন্তু প্রদত্ত লিস্ট এর সব চেয়ে নন ডিসরভিং মুভি এইটি কারণ এই মুভির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যেতে অনেক গুলা প্রশ্ন উঠলেও তার সমাধান অনেকেরই জানা। শেষ দৃশ্যেতে যখন ভীর (রণভীর সিং) ফারাহ ( আনুশকা শর্মা) এর জন্য জাহাজ থেকে লাফ দেয়, তখন প্রশ্ন জাগে সে কি ফরাহ কে খুঁজে পাবে? আবার আয়েশা (প্রিয়াঙ্কা চোপড়া) আর সানি (ফারহান আক্তার) এদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কি??

দিল ধরাকনে দো মুভি এর একটি দৃশ্য
দিল ধরাকনে দো, ২০১৫
পরিশেষে বলতে চায়, মুভি মানেই বিনোদন কিন্তু বর্তমানে আমরা আপনারা মনে দর্শকরা নতুন কিছু খুঁজছে। আর এই লিস্টে আরো মুভি যেমন ওয়েটিং, আখো দেখি, শিপ অফ থিশসাস থাকতে পারতো কিন্তু এই মুভিগুলা আমাদের প্যানেলর কেউ না দেখায় লিস্টে রাখা হয় নি। পরবর্তীতে বাদ যাওয়া মুভি গুলা নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here