বাংলাদেশের মার্কেটে আসতে চলেছে হিরোর স্ট্রিট ফাইটার এক্সট্রিম ১৬০ আর। দীর্ঘ সময় পর যা কিনা হিরোর প্রিমিয়াম সেগমেন্টের বাইক হবে বাংলাদেশের জন্য।এখন পর্যন্ত হাঙ্ক বাংলাদেশে হিরোর প্রিমিয়াম বাইক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এ হিসাব পরিবর্তন করতে চলেছে এক্সট্রিম ১৬০ আর।হিরো মোটোকর্প,মডেলটি ভারতে এখন থেকে কয়েক মাস আগে উন্মচিত করলেও পুরোদমে বিক্রয় ও বিপণন শুরু করতে পারেনি।হাতে গোনা ভারতের কয়েকটি বড় শহরে বিক্রয় শুরু হয়েছে।চলতি মাসের মধ্যেই সমগ্র ভারতে পুরোদমে বাইকটি বিক্রয় শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করছে হিরো মোটোকর্প।বলায় বাহুল্য যে কোভিড-১৯ নামক সংক্রামকের প্রভাবে বিশ্বে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাব ভারত এবং বাংলাদেশের অটোমোটিভ সেক্টরেও পড়েছে এবং ভবিষ্যতেও মোটরবাইক মার্কেটকে ব্যপকভাবে প্রভাবিত করবে নিশ্চিতভাবে।আর তাতে বাংলাদেশের মার্কেটে যে সকল নতুন বাইক রিলিজ হওয়ার কথা ছিল সেগুলো রিলিজ হতে আরো বেশ কিছু সময় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তবে ডিলারদের ব্যপক আগ্রহের জন্য কিছুটা আশার আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তাতে আগষ্ট মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আটোমোবাইলস্ শোতে নিশ্চিতভাবে দেখতে পাওয়া যাবে এক্সট্রিম ১৬০ আর বাইকটিকে।হয়তো তার কিছুদিন পর থেকেই মার্কেটে পাওয়া যাবে বাইকটি।বাংলাদেশে হিরোর পরিবেশক নিলয় মটোরস্ কতৃপক্ষও একই রকম ইঙ্গিত দিয়েছেন।এমনটা জানা গেছে যে মে মাসের মধ্যে যদি বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি সাভাবিক হয়ে আসে তবে তারা বাইকটি মে মাসের শেষ ভাগে ট্রায়াল বেসিসে দেশে আনতে পারেন।ইতিমধ্যেই ভারতের বাইক প্রেমিদের মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে বাইকটি। ভারতে ১৬০ সিসি বাইকের যে চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে তাতে অনেকেই আকৃষ্ট হবেন এই ফিচারসমৃদ্ধ বাইকের উপর এমনটাই মনে করছেন ভারতের বাইক প্রেমিরা এবং অনলাইন বাইক পোর্টালগুলো।দির্ঘদিন ধরে হিরো ১৫০-১৬০ সিসির বাইক সেগমেন্টে এক রকম অনুপস্থিত ছিল।এই সময়ে ভারতের মার্কেটের জন্য এক্সট্রিম স্পোর্টস ১৫০ এবং বিদেশে রপ্তানীর জন্য হাঙ্ক নামক দুটি ১৫০ সিসির বাইক উৎপাদন করে আসছিল।এ সময় হিরোর ১৬০ সিসির কোন বাইকের মডেল ছিল না।বেশ উন্নত ও কার্যকারী ফিচারসমৃদ্ধ বাইক এক্সট্রিম ১৬০ আর এর সঠিক যুক্তিযুক্ত মূল্য নির্ধারিত হলে এ সেগমেন্টে কড়া প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে এটা সহজেই অনুমেয়।আগ্রাসী লুক,শার্প ডিটেইলড্ গ্রাফিক্স,সম্পূর্ণ এলইডি লাইটিং (হেড লাইট,টার্ন ইন্ডিকেটর ও রিয়ার টেল লাইট),সিঙ্গেল ডিসপ্লে এবং ফুল ডিজিটাল মাল্টি কালারস্ এলসিডি ব্যাকলিড ডিসপ্লে (ওডো,ফুয়েল ও ট্যাকোমিটার) এবং সেফটি ফিচার হিসাবে রয়েছে ফ্রন্ট হুইল সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস এবং এমআরএফ রেডিয়াল টিউবলেস টায়ার।কালো রঙের সাথে লাল,নীল ও সাদা এই তিনটি কালার ভেরিয়েন্টে এবং সিঙ্গেল ও ডাবল ডিস্ক ভেরিয়েন্টে বাইকটি পাওয়া যাবে।

এ তো গেল বাইকটির ফিচার ডিটেইলস্ এখন আসা যাক বাইকটির ট্যেকনিকাল স্পেক এ, নিচে তা তুলে ধরা হলো-

●ইন্জিন:


ইন্জিন টাইপ:এয়ার কুলড্ ফোর স্ট্রোক টু ভালভড্ সিঙ্গেল সিলিন্ডার ওএইচসি

ডিসপ্লেসমেন্ট:১৬৩সিসি

ম্যক্সিমাম পাওয়ার:১১.২ কিলোওয়াট বা ১৫ বিএইচপি আসে ৮,০০০ আরপিএম এ

ম্যক্সিমাম টর্ক:১৪ নিউটন মিটার যা আসে ৬,৫০০ আরপিএম এ

ফুয়েল সিষ্টেম:ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইন্জেকশন

স্টার্টিং:সেল্ফ এবং কিক

●ট্রান্সমিশন এবং চ্যাসিস:


ক্লাচ:মাল্টিপ্লেট ওয়েট ক্লাচ

গিয়ারবক্স:৫টি স্পিড গিয়ার (কনস্টেন্ট ম্যেস্)

ফ্রেম টাইপ:টিউবলার

●সাসপেনশন:


ফ্রন্ট:টেলিস্কপিক (৩৭ এম.এম. ডায়া.) উইথ এন্টি ফিকশন বুশ

রিয়ার:৭স্টেপ রাইডার-এডজাস্টেবল মনোসক্

●ব্রেক:


ফ্রন্ট ব্রেক টাইপ:২৭৬ এম.এম. ডিস্ক,সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস

রিয়ার ব্রেক টাইপ:২২০ এম.এম. ডিস্ক/১৩০ এম.এম. ড্রাম(অপশনাল)

●টায়ার:


ফ্রন্ট টায়ার সাইজ:১০০/৮০-১৭ (টিউবলেস)

রিয়ার টায়ার সাইজ:১৩০/৭০-আর১৭ রেডিয়াল (টিউবলেস)

●ইলেকট্রিকালস্:


স্পিডোমিটার:নেগেটিভ ডিসপ্লে এলসিডি কনসোল

হেড লাইট:ফুল এলইডি

●ডাইমেনশন:


লেন্থ x ওয়াইডিথ x হাইট:২০৪০ x ৮০২ x ১০১০ এম.এম.

হুইলবেস:১৩৩৪ এম.এম.

সিট হাইট:৭৯০ এম.এম.

গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স:১৭০ এম.এম.

●আদারস্:


ফুয়েল ক্যাপসিটি:১২লিটার পর্যন্ত

ওজন:১৩৮ কেজি (খালি গাড়ি)

সুতরাং,এসকল তথ্য ও ফিচার পর্যালোচনা করে বলা যায় যে,এ বাইকটি শুধু ভারতেই না বাংলাদেশেও ভাল রেসপন্স পাবে এটা এক প্রকার নিশ্চিত।এ দেশীয় পরিবেশক এই বাইকটিকে কত তাড়াতাড়ি বাইকারদের কাছে তুলে দিতে পারে এটাই এখন দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here