৫। Hang Son Doong Cave 


আজ থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষ বছর পূর্বে এ গুহার সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই গুহাটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গুহা। পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রবাহিত একটি নদীর মাধ্যমে এ গুহাটি তৈরি হয়। এ গুহাটি ২০০ মিটার গভীর, ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৫০ মিটার প্রশস্ত। বিভিন্ন রাস্তার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠ দ্বারা এই গুহাটি বিভক্ত। প্রতিটি প্রকোষ্ঠে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া। এ গুহার মধ্যে মেঘরাশি জমা হয়ে উপরের দিকে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি করে। আর এর নিচের অংশে রয়েছে ছোট ছোট লতানো ও ঘাস জাতিয় অনেক গাছপালা। এই গুহাতে প্রবেশ করলে মনে হয় যেন আলাদা কোন বনভূমিতে চলে এসেছি।

গুহার ভিতরকার মেঘ বাইরে বেরিয়ে আসার কারণে এ গুহাটি মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। ১৯৯১ সালে স্থানীয় একজন বাসিন্দা পাহাড়ে উঠতে গিয়ে মেঘ ভেসে আসা দেখতে পান। পরবর্তীতে সেখানে গিয়ে এই গুহার সন্ধান পান। এর কয়েক বছর পর ২০০৯ সালে এক দল ব্রিটিশ পর্যটক দ্বারা এটি আন্তর্জাতিক মণ্ডলে পরিচিতি পায় এবং এর ভিতরের ভিন্ন আবহাওয়া আর ৬০ মিটার উচ্চতার ক্যালসাইট দেওয়ালের কথা বিশ্ববাসী জানতে পারে। পরে এই দেওয়ালের নামকরণ করা হয় The Great Wall of Vietnam. গুহার ভিতরের দিকটা খুবই দূর্গম যার জন্য এখনো সম্পুর্ন গুহা আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নি। এটা এতটাই দুর্গম যে, আজ পর্যন্ত চাঁদে যত মানুষ গিয়েছে তার থেকে কম মানুষ এ গুহাতে প্রবেশ করেছে। ভ্রমন পিপাসু মানুষের জন্য এই গুহাটি খুবই কৌতূহলের বিষয়। কারণ প্রতি বছর হাতে গোনা ৫০০ জন পর্যটক এই গুহায় প্রবেশাধিকার পায়। দুঃখের বিষয় হল অপেক্ষমান পর্যটকদের তালিকা এত লম্বা যে, আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে গুহাতে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

 

৬। The McMurdo Dry Valleys 


পৃথিবীর সবথেকে কম বৃষ্টিপাত হয় বলে মনে করা হয় চিলির আতাকামা মরুভুমিকে। যেখানে বছরে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন জায়গাও আছে যেখানে প্রায় ১ মিলিয়ন বছর ধরে এখনো কোনো বৃষ্টিপাত হয় নি। এই জায়গাটি হল এন্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো ভ্যালি। যা পৃথিবীর সব থেকে শুষ্কতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। এখানে একধরনের স্থানীয় বায়ু প্রবাহিত হয় যার নাম কাটাবাতিক। এই বায়ু প্রবাহের কারণে এখানে বৃষ্টিপাত হয় না। এখানে না আছে কোন বরফ, না হয় তুষারপাত, না আছে এক ফোটা পানি। প্রায় ৪৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই ধরণের শুস্ক আবহাওয়া লক্ষ করা যায়।

এখানে বায়ুর আর্দ্রতা একেবারেই কম। যা আর্দ্রতা থাকে তা মধ্যাকর্ষণ শক্তি ভ্যালির বাইরে টেনে নিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা এখানের পরিবেশকে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন বলে অভিহিত করেছেন। এই এলাকার পাথরের মধ্যে আলোক সংশ্লেষণকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। শুষ্কতার কারণে এই ভ্যালি পৃথিবীর আবহাওয়া থেকে আলাদা, যা অনন্য বৈশিষ্ট্য বহন করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here