Fingal’s Cave


স্কটল্যান্ডের স্টাফা দ্বীপে অবস্থিত বিখ্যাত ফিংগালস কেভ।সম্পূর্ণ সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত এই কেভ এর আকৃতি ছয় কোন বিশিষ্ট।এর গুহার মধ্যে খুব সুন্দর মনোমুগ্ধকর শব্দ তৈরি হয়।সব সময় এই শব্দ অনবরত চলতে থাকে।যার কারণে এ গুহার স্থানীয় নাম Uamh-Binn , বাংলায় যার অর্থ ‘সুরের গুহা’।
এই গুহাটি উত্তপ্ত লাভা শীতল হয়ে সৃষ্টি হয়েছে।এভাবে তৈরি হয়েছিল আয়ারল্যান্ড এর Giants Cave ।আর খুবই অদ্ভুত বিষয় হল এই দুটি গুহার একটির অপরটির সাথে সংযোগ রয়েছে যা একই বৈশিষ্ট বহন করে।
গুহাটি আবিষ্কৃত হয় ১৭৭২ সালে।এই গুহার নামকরণ করা হয়েছিল একটি কবিতার নাম থেকে।কবিতাটি অনেক জনপ্রিয় ছিল যার কারণে এই গুহাও মানুষের মাঝে কৌতূহল আর উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পরিচিতি আর সৌন্দর্যের কারণে ব্রিটেনের রানী ভিক্টরিয়াও এ গুহাতে ভ্রমণের পিপাসা ধরে রাখতে পারেননি।তিনিও ঘুরে এসেছেন এ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গুহা থেকে।আর ইংরেজ রক সংগীত শিল্পী পিংক ফ্লয়েজ তার গানে উল্লেখ করেন যার সুর ও ছন্দ আজও সবার মন টানে।
এই দ্বীপটির মালিকানা স্কটল্যান্ড এর।এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিতে হয়।প্রচন্ড স্রোতকে উপেক্ষা করে পৌঁছাতে হয় এ গুহাতে।তাই অনেকে পর্যটকদের কাছে এ সৌন্দর্য অদেখা থেকে যায়।তবে যারা যেতে পারেন তারাই উপভোগ করতে পারে এর সুর ও সৌন্দর্য।


৪। The Eye Of Sahara


সর্বপ্রথম এই ভুমিটি নাসার স্যাটেলাইটে ধরা পড়ে।তখন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপ দিয়ে এটির ছবি উঠান।তারপর তাদের দ্বারাই এই ল্যান্ডমার্কটি আবিষ্কার হয়।এর আগে এর অস্তিত্ব কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি।না হওয়ারই কথা কারণ দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এটি দৃশ্যমান তাই কারো পক্ষে এর উপর দিয়ে হেঁটে গেলে বোঝার উপায় নেই আসলে এর আকৃতি কেমন।এলাকাটি উপর থেকে দেখলে বোঝা যায় এর আসল গঠন আকৃতি।তবে এ ভূমির উপরিভাগে কিছু নুড়ি পাথর,কাকর,বালুর উপস্থিতি থেকে মনে হয় আগ্নেয় শিলার মাধ্যমে এটি গঠিত হয় থাকতে পারে।
এ ভুমিরূপটি দেখে এর গভীরতা ও আকৃতির জন্য মনে হয় কোন এক সময়ে হয়ত মহাজাগতিক কোন উল্কাপিন্ড আছড়ে পড়েছিল।স্থায়ীভাবে এর একটি নামও রয়েছে। Richat Structure বলা হয়।এ ভুমিরূপটি গোলাকার ধরণের,তবে ভূতত্ত্ববিদগণ এই এলাকাটি নিয়ে গবেষণা করেন।তাদের গবেষণা থেকে দেখা যায় যে,আসলে এখানে কোন উল্কাপিন্ড খসে পড়েনি বরং এখানে অনেক অতীতে কোন বিরাট স্থাপনা ছিল কালের বিবর্তনে সেই স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে।ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে হতে এই স্থানটি আস্তে আস্তে নিচের দিকে ধসে পড়েছে।যার কারনে ভুমিরূপটি এমন আকৃতি নিয়েছে।
ভুতত্ববিদ্গণ আরো মনে করে এই স্থাপনাটি ভৌমপানির নিকটে চলে যায় যার কারণে পৃথিবীর অভ‍্যন্তরে থাকা গলিত লাভার সংস্পর্শে চলে আসে যার ফলে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি হয়।আর এই চাপ ভূ-অভ‍্যন্তরে আটকে না থেকে ভূ-পৃষ্ঠ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় এবং ধ্বসেপড়ে
যার ফলশ্রুতিতে এ স্থাপনা ধ্বংসাবশেষ এ পরিণত হয়ে আজকের এই ভুমিরূপ নিয়েছে।যা এখন প্রাকৃতিক এক সৌন্দর্যের আধার।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here